ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ওয়াকআউট না করে নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুনেছে যে দুই মুসলিম দেশ বিয়ের জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোল, নববধূকে রেখে আবার কারাগারে ফিরলেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বর ‘এই বয়সে এসে বিয়ের তাগিদও অনুভব করি না’, কেন বললেন রাইমা সেন? নাটোরে শিশুর আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে যখন যে সরকারে থাকে, আইসাই বলে আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো: জামায়াত আমির ইরান যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সংলাপে ফেরার আহ্বান শি জিনপিংয়ের তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অডিও ফাঁসের ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সেই ওসি রিমান্ডে আচারের টক-ঝাল নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ ১৫ হাজার টাকার দলিলে ২ লাখ টাকা ঘুষ, এরপর কমিশনও ২০ হাজার

মাত্র ৮ মাসে সম্পূর্ণ কুরআন হাতে লিখলেন সুরাইয়া

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:২৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ২১৯ বার পড়া হয়েছে

এবার কুমিল্লার লাকসামে সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে এবং অবিকল ছাপা অক্ষরের মতো করে নিজ হাতে পবিত্র কুরআন মাজিদ লিখে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন সুরাইয়া জান্নাত নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চাঁদগাঁও গ্রামের সৌদি প্রবাসী নুর হোসেন লিটন ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির মেয়ে এবং মুদাফরগঞ্জ এ.ইউ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। মাত্র আট মাসের চেষ্টায় ১১৪টি সূরা সংবলিত ৩০ পারার এই কুরআন মাজিদ হাতে লিখে শেষ করেছেন তিনি।

সুরাইয়া জানান, সমবয়সীরা যখন মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অযথা সময় নষ্ট করে, তখন তিনি সেই সময়টি পবিত্র কুরআন লেখার কাজে ব্যয় করেছেন। মাদ্রাসার নিয়মিত ক্লাস ও পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে তিনি এই কাজ করতেন। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে লেখা শুরু করে আগস্ট মাসের শেষের দিকে তিনি পুরো কুরআন মাজিদের অনুলিপি সম্পন্ন করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি প্রায় ৫৫টি কলম ব্যবহার করেছেন এবং মোট ১ হাজার ১২৯ পৃষ্ঠায় পুরো কুরআন লিপিবদ্ধ করেছেন। সুরাইয়া জানান, পবিত্রতা বজায় রাখতে লেখার আগে তিনি সবসময় অজু করে নিতেন এবং নবীজির (সা.) ওপর দরূদ পাঠ করে লেখা শুরু করতেন।

কুরআন লেখার পেছনে অনুপ্রেরণা সম্পর্কে এই শিক্ষার্থী বলেন, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রাসুলের (সা.) শাফায়াত লাভের পবিত্র উদ্দেশ্যেই তিনি এই কষ্টসাধ্য কাজটি করেছেন। তার ছোট ভাই আবেদনগর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র নাহিদ হাসান তাকে এই কাজে সার্বক্ষণিক উৎসাহ জুগিয়েছে। ভবিষ্যতে হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সহিহ বুখারি‘ও নিজ হাতে লেখার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন সুরাইয়া। পাশাপাশি তিনি গরিব–দুঃখী ও অসহায় মানুষের কল্যাণেও কাজ করতে চান।

মেয়ের এমন বিরল কীর্তিতে মা জান্নাতুল ফেরদৌস উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, ছোটবেলা থেকেই সুরাইয়ার আরবি ভাষা ও লেখার প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিল। মেয়ের এই মহৎ কাজে খুশি হয়ে প্রবাসী বাবা নুর হোসেন লিটন তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন। এদিকে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা সুরাইয়ার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বয়সের এই উত্তাল সময়ে নিজ হাতে সম্পূর্ণ কুরআন সম্পন্ন করা একটি অসাধারণ দৃষ্টান্ত এবং তার হাতের লেখাও একেবারে ছাপা অক্ষরের মতো। ইতিমধ্যেই স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুরাইয়া জান্নাতকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়াকআউট না করে নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুনেছে যে দুই মুসলিম দেশ

মাত্র ৮ মাসে সম্পূর্ণ কুরআন হাতে লিখলেন সুরাইয়া

আপডেট সময় ০১:২৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

এবার কুমিল্লার লাকসামে সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে এবং অবিকল ছাপা অক্ষরের মতো করে নিজ হাতে পবিত্র কুরআন মাজিদ লিখে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন সুরাইয়া জান্নাত নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চাঁদগাঁও গ্রামের সৌদি প্রবাসী নুর হোসেন লিটন ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির মেয়ে এবং মুদাফরগঞ্জ এ.ইউ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। মাত্র আট মাসের চেষ্টায় ১১৪টি সূরা সংবলিত ৩০ পারার এই কুরআন মাজিদ হাতে লিখে শেষ করেছেন তিনি।

সুরাইয়া জানান, সমবয়সীরা যখন মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অযথা সময় নষ্ট করে, তখন তিনি সেই সময়টি পবিত্র কুরআন লেখার কাজে ব্যয় করেছেন। মাদ্রাসার নিয়মিত ক্লাস ও পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে তিনি এই কাজ করতেন। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে লেখা শুরু করে আগস্ট মাসের শেষের দিকে তিনি পুরো কুরআন মাজিদের অনুলিপি সম্পন্ন করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি প্রায় ৫৫টি কলম ব্যবহার করেছেন এবং মোট ১ হাজার ১২৯ পৃষ্ঠায় পুরো কুরআন লিপিবদ্ধ করেছেন। সুরাইয়া জানান, পবিত্রতা বজায় রাখতে লেখার আগে তিনি সবসময় অজু করে নিতেন এবং নবীজির (সা.) ওপর দরূদ পাঠ করে লেখা শুরু করতেন।

কুরআন লেখার পেছনে অনুপ্রেরণা সম্পর্কে এই শিক্ষার্থী বলেন, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রাসুলের (সা.) শাফায়াত লাভের পবিত্র উদ্দেশ্যেই তিনি এই কষ্টসাধ্য কাজটি করেছেন। তার ছোট ভাই আবেদনগর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র নাহিদ হাসান তাকে এই কাজে সার্বক্ষণিক উৎসাহ জুগিয়েছে। ভবিষ্যতে হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সহিহ বুখারি‘ও নিজ হাতে লেখার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন সুরাইয়া। পাশাপাশি তিনি গরিব–দুঃখী ও অসহায় মানুষের কল্যাণেও কাজ করতে চান।

মেয়ের এমন বিরল কীর্তিতে মা জান্নাতুল ফেরদৌস উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, ছোটবেলা থেকেই সুরাইয়ার আরবি ভাষা ও লেখার প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিল। মেয়ের এই মহৎ কাজে খুশি হয়ে প্রবাসী বাবা নুর হোসেন লিটন তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন। এদিকে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা সুরাইয়ার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বয়সের এই উত্তাল সময়ে নিজ হাতে সম্পূর্ণ কুরআন সম্পন্ন করা একটি অসাধারণ দৃষ্টান্ত এবং তার হাতের লেখাও একেবারে ছাপা অক্ষরের মতো। ইতিমধ্যেই স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুরাইয়া জান্নাতকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।