সৌদি আরবসহ বিশ্বের শক্তিশালী মুসলিম দেশগুলো যখন ইসরায়েলের বর্বরতার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে ব্যর্থ, তখন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা নেতানিয়াহুর ঘুম হারাম করে দিচ্ছে। দফায় দফায় হাইপারসনিক মিসাইল হামলার আগুনে পুড়ছে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো। অথচ কাতারে ইসরায়েলের সরাসরি বিমান হামলার পরও একপ্রকার নীরব দোহা। কূটনৈতিক বিবৃতি ছাড়া ইহুদিবাদী দেশটির বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি কাতার সরকার।

টানা দুইদিন ধরে হুথিদের মিসাইলের তাণ্ডবে কাঁপছে পুরো ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুথিদের হামলা ঠেকাতে একপ্রকার ব্যর্থই হচ্ছেন। বুধবার তেলাবিবের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে 'প্যালেস্টাইন টু' মডেলের হাইপারসনিক মিসাইল ছোড়ে হুথি বিদ্রোহীরা। এর কারণে লাখ লাখ ইসরায়েলি আতঙ্কে আশ্রয় কেন্দ্রে লুকোতে বাধ্য হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিমানবন্দরে হামলা ও প্রতিশোধের হুংকার

আরেকটি পৃথক হামলায় ইসরায়েলের রামোন বিমানবন্দর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। জানা গেছে, হুথিদের ড্রোন ইউনিট ইসরায়েলের ওই বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে পুরো ইসরায়েলে সতর্কতার সাইরেন বেজে ওঠে। হুথিদের দাবি, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নেতানিয়াহুর সামরিক বাহিনীর গণহত্যার জবাবেই তারা ইসরায়েলে এই হামলাগুলো পরিচালনা করছে। এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বরও একই ধরনের হামলা চালায় হুথিরা।

সম্প্রতি ইয়েমেনের হোদাইদা বন্দরে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এতে বন্দরটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। এই বন্দরটি ইয়েমেনীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ব্যবহার করে ইয়েমেনের প্রায় ৮০ শতাংশ খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি হয়। তবে এই হামলার কড়া জবাব শীঘ্রই পাবে ইহুদিবাদীরা, এমন হুংকারও দিয়েছে হুথিরা।

হুথিদের আগ্রাসন ও মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান

দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ মার্চ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে ইসরায়েল যখন গাজায় আবারও আগ্রাসন শুরু করে, তখন থেকে হুথি বিদ্রোহীরা নেতানিয়াহুর দেশটিকে লক্ষ্য করে প্রায় ৮৪টি ব্যালেস্টিক মিসাইল ও ৩৭টি আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।

হুথিদের অভিযোগ, ইসরায়েল গাজা উপত্যকা সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে গণহত্যা ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ইহুদিবাদীদের এমন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ইসরায়েলি সরকারের এই অপরাধমূলক আগ্রাসন অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের দোহাতে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালায়। এতে হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হায়া-র ছেলে হুমাম আল-হায়া ও কাতারের একজন নিরাপত্তা কর্মীসহ অন্তত ছয়জন নিহত হন। এই ঘটনায় কাতার সরকার কেবল কূটনৈতিকভাবে নিন্দা জানিয়েছিল এবং তেমন কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, কাতার ও ইসরায়েলের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় ইহুদিবাদীদের বিরুদ্ধে সামরিক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি দোহা।