ঢাকা , শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ব্রাজিলের জয়, মাথা ন্যাড়া করে কথা রাখলেন আর্জেন্টিনা সমর্থক বিশ্বকাপে পরের ম্যাচেই যে তিনটি রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা মেসির পশ্চিমবঙ্গ সফরে দেশভাগ ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গে যা বললেন মোদি লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে হরমুজ বন্ধের ঘোষণা ইরানের: বিবিসি ‘পায়ে গুলি করার’ অডিও ভাইরাল, হুমকি নয় ‘মশকরা’ বললেন এমপি শাহজাহান যে ৬ কারণে এবারই বিশ্বকাপ জিততে পারে ব্রাজিল ভুয়া ঠিকানায় সরকারি চাকরি নেওয়ার অভিযোগ: ১৬ বছর পর শিক্ষা অফিসের কর্মচারীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর প্রশ্ন ভারতের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি ছিল পাকিস্তানের লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা ‘ওই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো’ বিএনপি নেতাকে এমপি হানজালা

বাবার লাশ নিয়ে ৫ স্ত্রীর সন্তানদের সংঘর্ষ, পুলিশ পাহারায় ঘরের সামনে দাফন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানাধীন রসুলপুর ইউনিয়নে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর সম্পত্তি এবং লাশ দাফনের স্থান নিয়ে ৫ স্ত্রীর সন্তানদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ পাহারায় লাশ দাফন করতে হয়েছে। গতকাল রসুলপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আঃ জলিল পণ্ডিত বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রসুলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আঃ জলিল পণ্ডিত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পূর্বের চার স্ত্রীর ছেলে-মেয়েরা বাড়িতে এসে তাদের ওয়ারিশ ও পাওনা সম্পত্তির হিসেব দাবি করেন।

 

এ সময় জলিল পণ্ডিতের ছোট স্ত্রীর ঘরের মেয়ে খাদিজা আক্তার স্মৃতি দাবি করেন, তার বাবার কোনো সম্পত্তি নেই এবং অন্য কেউ কোনো অংশ পাবে না। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

 

এরই মধ্যে জলিল পণ্ডিতের ছোট ঘরের প্রাক্তন জামাতা খোকন অভিযোগ তোলেন যে, তার উপার্জিত সমস্ত টাকা-পয়সা এবং স্বর্ণালঙ্কার শ্বশুর ও স্ত্রী স্মৃতির কাছে গচ্ছিত ছিল, যা দিয়ে দুটি বসত ঘর ও জমি কেনা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালে তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে তাকে তালাক দিয়ে চলে যায়। খোকন তার সম্পদ বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লাশ দাফন করতে দেবেন না বলে ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা তাকে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে শান্ত করেন।

 

পরবর্তীতে লাশ দাফনের সময় পুনরায় দুই পক্ষের মাঝে বিরোধ বাঁধে। বড় তিন স্ত্রীর সন্তানদের দাবি—বাবা জীবিত থাকাকালীন ঘরের সামনে দাফন করার অসিয়ত করে গেছেন। অপরদিকে, ছোট ঘরের মেয়ে স্মৃতি দাবি করেন—লাশ বাড়ির বাইরে অন্য কোনো কবরস্থানে দাফন করতে হবে। এই নিয়ে দুই পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হলে খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশি পাহারায় বসত ঘরের সামনেই লাশ দাফন সম্পন্ন হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।এব্যাপারে শশীভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফিরোজ আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাজিলের জয়, মাথা ন্যাড়া করে কথা রাখলেন আর্জেন্টিনা সমর্থক

বাবার লাশ নিয়ে ৫ স্ত্রীর সন্তানদের সংঘর্ষ, পুলিশ পাহারায় ঘরের সামনে দাফন

আপডেট সময় ০৯:৫১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানাধীন রসুলপুর ইউনিয়নে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর সম্পত্তি এবং লাশ দাফনের স্থান নিয়ে ৫ স্ত্রীর সন্তানদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ পাহারায় লাশ দাফন করতে হয়েছে। গতকাল রসুলপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আঃ জলিল পণ্ডিত বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রসুলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আঃ জলিল পণ্ডিত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পূর্বের চার স্ত্রীর ছেলে-মেয়েরা বাড়িতে এসে তাদের ওয়ারিশ ও পাওনা সম্পত্তির হিসেব দাবি করেন।

 

এ সময় জলিল পণ্ডিতের ছোট স্ত্রীর ঘরের মেয়ে খাদিজা আক্তার স্মৃতি দাবি করেন, তার বাবার কোনো সম্পত্তি নেই এবং অন্য কেউ কোনো অংশ পাবে না। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

 

এরই মধ্যে জলিল পণ্ডিতের ছোট ঘরের প্রাক্তন জামাতা খোকন অভিযোগ তোলেন যে, তার উপার্জিত সমস্ত টাকা-পয়সা এবং স্বর্ণালঙ্কার শ্বশুর ও স্ত্রী স্মৃতির কাছে গচ্ছিত ছিল, যা দিয়ে দুটি বসত ঘর ও জমি কেনা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালে তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে তাকে তালাক দিয়ে চলে যায়। খোকন তার সম্পদ বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লাশ দাফন করতে দেবেন না বলে ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা তাকে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে শান্ত করেন।

 

পরবর্তীতে লাশ দাফনের সময় পুনরায় দুই পক্ষের মাঝে বিরোধ বাঁধে। বড় তিন স্ত্রীর সন্তানদের দাবি—বাবা জীবিত থাকাকালীন ঘরের সামনে দাফন করার অসিয়ত করে গেছেন। অপরদিকে, ছোট ঘরের মেয়ে স্মৃতি দাবি করেন—লাশ বাড়ির বাইরে অন্য কোনো কবরস্থানে দাফন করতে হবে। এই নিয়ে দুই পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হলে খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশি পাহারায় বসত ঘরের সামনেই লাশ দাফন সম্পন্ন হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।এব্যাপারে শশীভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফিরোজ আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।