ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হরমুজ ‘আমেরিকার’ হলে ক্যালিফোর্নিয়া ‘ইরানের’: ট্রাম্পকে তেহরান অন্যের ক্ষুধার্ত বাচ্চাকে স্তন্যপান করিয়ে আলোচনায় মন্ত্রী অন্যের বাচ্চাকে স্ত’ন্য’পান করিয়ে আলোচনায় মন্ত্রী ভোট দেবেন মির্জা ফখরুল, সংসদ কক্ষে যেতে পারবেন না কর্নেল অলি সরাসরি তদারকির দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রী, হচ্ছে তদন্তও ট্রাম্প বেশি বাড়াবাড়ি করলে সরাসরি ইউরোপে হামলা করবে ইরান ইসলাম গ্রহণ নিয়ে মুখ খুললেন  ব্রাজিল কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোস জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল কি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন ৫ উইকেট পাওয়ায় বল অর্ধেক করে নিলেন দুই ক্রিকেটার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে দলীয় এমপিদের প্রতি মির্জা ফখরুলের আহ্বান

ইরানকে সহায়তা করা দেশগুলোকে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১০:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ইরানকে সহায়তা বা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনও দেশকেভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতিভোগ করার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধেসবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থানেয়ারও ঘোষণা দেন। তবে ইরানকে সহায়তা করলে কী ধরনের শাস্তি দেয়া হবে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, বুধবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানে বড় অক্ষরে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধেসবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাশুরু করছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি এবং কোনও দেশের নামও উল্লেখ করেননি।

গত সোমবার ইরানের সঙ্গে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয় যুক্তরাষ্ট্রের। আর এরপরই ট্রাম্প এ হুমকি দিলেন। তবে সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক বা সামরিকভাবে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার কোনও পথ এখনও দেখা যাচ্ছে না। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছিল। বিবিসি বলছে, ট্রাম্পের সর্বশেষ পদক্ষেপে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে এপ্রিল মাসে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি ব্যাংক ও কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতেঅপারেশন ইকোনমিক ফিউরিশুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার সন্ধ্যার পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও ধরনের চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির বিরুদ্ধে তিনিঅর্থনৈতিক ডিডেশুরু করছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘কোনও দেশ যদি তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ইরানকে কোনও ধরনের সহায়তা দিলে, সেই দেশকেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে।

তবে এ ক্ষেত্রে দেশগুলোকে কী ধরনের শাস্তি দেয়া হতে পারে, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, ‘তেল চোরাচালান, অর্থ বিনিময়ের ব্যবস্থা, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মানি এক্সচেঞ্জ, জাহাজের নিবন্ধন এবং ভুয়া কোম্পানিসবকিছু এখনই বন্ধ করতে হবে। আপনারা জানেন, কাদের কথা বলা হচ্ছে।এর এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। ইরানের পক্ষ থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির পর এই সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি। আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তবে দুটিই সাগরে গিয়ে পড়ে।

দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অর্থ বিনিময় কেন্দ্র ও ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরে দুবাইয়ের আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসছে। ইউএইর এই সিদ্ধান্তের পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা না করার সতর্কবার্তা দেয়। তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকে কোনও ধরনের সহায়তা করা হলে সেটিকে দেশটির সঙ্গে যোগসাজশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর প্রায় এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও বলেছিলেন, ইরানের ওপর এমন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিচ্ছিন্নতা আরোপ করা হবে, ‘যা বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি।

এর আগে চলতি সপ্তাহেই ফক্স নিউজের এক সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনে আলাপকালে ট্রাম্প ওমানে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন বলেও খবর পাওয়া যায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের আলোচনায় ওমানবাধা হয়ে দাঁড়ালেদেশটিকে হামলার মুখে পড়তে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান আলাদাভাবে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেয়া। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বর্তমানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। সাধারণ সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। এছাড়া আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুদ্ধের কারণে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর কতটা আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে, তা নিয়েও চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ ‘আমেরিকার’ হলে ক্যালিফোর্নিয়া ‘ইরানের’: ট্রাম্পকে তেহরান

ইরানকে সহায়তা করা দেশগুলোকে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আপডেট সময় ১০:১০:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

এবার ইরানকে সহায়তা বা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনও দেশকেভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতিভোগ করার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধেসবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থানেয়ারও ঘোষণা দেন। তবে ইরানকে সহায়তা করলে কী ধরনের শাস্তি দেয়া হবে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, বুধবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানে বড় অক্ষরে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধেসবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাশুরু করছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি এবং কোনও দেশের নামও উল্লেখ করেননি।

গত সোমবার ইরানের সঙ্গে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয় যুক্তরাষ্ট্রের। আর এরপরই ট্রাম্প এ হুমকি দিলেন। তবে সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক বা সামরিকভাবে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার কোনও পথ এখনও দেখা যাচ্ছে না। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছিল। বিবিসি বলছে, ট্রাম্পের সর্বশেষ পদক্ষেপে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে এপ্রিল মাসে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি ব্যাংক ও কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতেঅপারেশন ইকোনমিক ফিউরিশুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার সন্ধ্যার পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও ধরনের চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির বিরুদ্ধে তিনিঅর্থনৈতিক ডিডেশুরু করছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘কোনও দেশ যদি তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ইরানকে কোনও ধরনের সহায়তা দিলে, সেই দেশকেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে।

তবে এ ক্ষেত্রে দেশগুলোকে কী ধরনের শাস্তি দেয়া হতে পারে, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, ‘তেল চোরাচালান, অর্থ বিনিময়ের ব্যবস্থা, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মানি এক্সচেঞ্জ, জাহাজের নিবন্ধন এবং ভুয়া কোম্পানিসবকিছু এখনই বন্ধ করতে হবে। আপনারা জানেন, কাদের কথা বলা হচ্ছে।এর এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। ইরানের পক্ষ থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির পর এই সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি। আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তবে দুটিই সাগরে গিয়ে পড়ে।

দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অর্থ বিনিময় কেন্দ্র ও ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরে দুবাইয়ের আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসছে। ইউএইর এই সিদ্ধান্তের পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা না করার সতর্কবার্তা দেয়। তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকে কোনও ধরনের সহায়তা করা হলে সেটিকে দেশটির সঙ্গে যোগসাজশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর প্রায় এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও বলেছিলেন, ইরানের ওপর এমন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিচ্ছিন্নতা আরোপ করা হবে, ‘যা বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি।

এর আগে চলতি সপ্তাহেই ফক্স নিউজের এক সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনে আলাপকালে ট্রাম্প ওমানে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন বলেও খবর পাওয়া যায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের আলোচনায় ওমানবাধা হয়ে দাঁড়ালেদেশটিকে হামলার মুখে পড়তে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান আলাদাভাবে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেয়া। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বর্তমানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। সাধারণ সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। এছাড়া আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুদ্ধের কারণে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর কতটা আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে, তা নিয়েও চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প।