ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভেঙে গেল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা, মমতা এখন কী করবেন দুবাই থেকে গ্রেপ্তার মূল আসামি আরিফ বরিশালে নারী শিক্ষার্থীকে হত্যা, মূল আসামি মাইনুল গ্রেপ্তার বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম, বাঁচল না কেউ মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দিপালীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে জামায়াত আমিরের সঙ্গে জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের বৈঠক মায়ের কাছে স্মার্ট ফোনের আবদার, টাকা না পেয়ে যুবকের আত্মহত্যা বিদ্যালয়ে সিনিয়রকে ‘তুই’ সম্বোধন করায় মাথা ফাটলো দুই শিক্ষার্থীর হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর বিষয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বন্ধুত্ব থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা: সুপার ফোরে মুখোমুখি বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৪২ বার পড়া হয়েছে

একদিন আগেও তারা ছিল বন্ধু, আজ (২০ সেপ্টেম্বর) তারাই একে অপরের প্রতিপক্ষ। নিদাহাস ট্রফির ‘নাগিন নৃত্য’ থেকে শুরু করে নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দ্বৈরথ এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এক আলোচিত অধ্যায়।

এশিয়া কাপে সুপার ফোরে উঠতে বাংলাদেশকে তাকিয়ে থাকতে হয়েছিল শ্রীলঙ্কার দিকেই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে শ্রীলঙ্কার জয়ই ছিল বাংলাদেশের একমাত্র ভরসা। পরশু রাতে সেই সমীকরণ মিলে যাওয়ায় বাংলাদেশের টিকিট নিশ্চিত হয় পরবর্তী পর্বের। আর তার পরদিনই সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দল প্রায় নিয়মিতই একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। গত ৩–৪ মাসে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়বার লড়েছে তারা। তাই একে অপরের শক্তি ও দুর্বলতা দুই দলই ভালো জানে। শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং কোচ থিলান কান্দাম্বে বলেন, ‘তাদের বিপক্ষে আমাদের ভালো প্রস্তুতি আছে, আমরা পরিকল্পনা মতোই এগোব।’

বাংলাদেশের দুর্বলতার একটি বড় জায়গা পঞ্চম বোলার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে সাইফ হাসান ও শামীম হোসেন মিলে মাত্র ৪ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ম্যাচ কঠিন করে তুলেছিলেন। সে কারণেই আজকের ম্যাচে দলে ফিরতে পারেন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান। দুবাইয়ের উইকেটে স্পিনারদের সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে দলের পেস বোলিং কোচ শন টেইট এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। তার ভাষায়, ‘এই বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে প্রতিপক্ষ ও কন্ডিশন মাথায় রেখে পরিকল্পনা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশের মতো শ্রীলঙ্কারও ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে স্পিনার ঘিরেই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ফর্মহীন তিকশানার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয়েছিল দুনিত ভেল্লালাগেকে। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে তিনি এখন দেশে। ম্যাচের আগেই ফিরতে পারলেও একাদশে সুযোগ পাওয়া নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২১ ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র ৮টিতে। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ কিছুটা আত্মবিশ্বাসী হতে পারে—শেষ পাঁচ ম্যাচের তিনটিতেই জয় এসেছে লিটন দাসদের পক্ষে।

তবে এবারের এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাই ছিল একচেটিয়া প্রভাবশালী। মাত্র ২ রানে দুই ওপেনার হারিয়ে বাংলাদেশ ১৩৯ রান করলেও, সেটি অনায়াসেই তাড়া করে ফেলেছিল শ্রীলঙ্কা মাত্র ১৪.৪ ওভারে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই তারা পেরিয়েছে প্রথম পর্ব।

বাংলাদেশের আরেকটি ভাবনার জায়গা ব্যাটিংয়ের শেষ দিক। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম ১০ ওভারে তুলেছিল ৮৭ রান, কিন্তু শেষ পর্যন্ত থেমেছিল মাত্র ১৫৪ রানে। সে রান জয় নিশ্চিত করলেও বড় ম্যাচের আগে এ রকম ভাটা চিন্তার কারণ বটে। কোচ টেইট অবশ্য আশাবাদী, ‘কাল (আজ) আমরা উন্নতি দেখাতে পারব, এমনটাই আশা করছি।’

সুপার ফোরে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দলই খেলবে ফাইনালে। তাই প্রতিটি ম্যাচেই জয় যেমন অপরিহার্য, তেমনি নেট রান রেটের দিকেও নজর রাখা জরুরি। গ্রুপ পর্বে নেট রান রেটের কারণে সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের জন্য। এবার সেই ভুল আর করতে চায় না দল।

আজকের ম্যাচ দিয়েই সুপার ফোরে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু। জয় দিয়ে শুরু করতে না পারলে আবারও অঙ্কের খেলায় পড়ে যেতে হতে পারে। তাই ব্যাটে-বলে নিখুঁত পারফরম্যান্সই

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেঙে গেল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা, মমতা এখন কী করবেন

বন্ধুত্ব থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা: সুপার ফোরে মুখোমুখি বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা

আপডেট সময় ০৯:৫৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

একদিন আগেও তারা ছিল বন্ধু, আজ (২০ সেপ্টেম্বর) তারাই একে অপরের প্রতিপক্ষ। নিদাহাস ট্রফির ‘নাগিন নৃত্য’ থেকে শুরু করে নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দ্বৈরথ এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এক আলোচিত অধ্যায়।

এশিয়া কাপে সুপার ফোরে উঠতে বাংলাদেশকে তাকিয়ে থাকতে হয়েছিল শ্রীলঙ্কার দিকেই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে শ্রীলঙ্কার জয়ই ছিল বাংলাদেশের একমাত্র ভরসা। পরশু রাতে সেই সমীকরণ মিলে যাওয়ায় বাংলাদেশের টিকিট নিশ্চিত হয় পরবর্তী পর্বের। আর তার পরদিনই সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দল প্রায় নিয়মিতই একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। গত ৩–৪ মাসে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়বার লড়েছে তারা। তাই একে অপরের শক্তি ও দুর্বলতা দুই দলই ভালো জানে। শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং কোচ থিলান কান্দাম্বে বলেন, ‘তাদের বিপক্ষে আমাদের ভালো প্রস্তুতি আছে, আমরা পরিকল্পনা মতোই এগোব।’

বাংলাদেশের দুর্বলতার একটি বড় জায়গা পঞ্চম বোলার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে সাইফ হাসান ও শামীম হোসেন মিলে মাত্র ৪ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ম্যাচ কঠিন করে তুলেছিলেন। সে কারণেই আজকের ম্যাচে দলে ফিরতে পারেন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান। দুবাইয়ের উইকেটে স্পিনারদের সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে দলের পেস বোলিং কোচ শন টেইট এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। তার ভাষায়, ‘এই বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে প্রতিপক্ষ ও কন্ডিশন মাথায় রেখে পরিকল্পনা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশের মতো শ্রীলঙ্কারও ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে স্পিনার ঘিরেই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ফর্মহীন তিকশানার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয়েছিল দুনিত ভেল্লালাগেকে। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে তিনি এখন দেশে। ম্যাচের আগেই ফিরতে পারলেও একাদশে সুযোগ পাওয়া নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২১ ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র ৮টিতে। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ কিছুটা আত্মবিশ্বাসী হতে পারে—শেষ পাঁচ ম্যাচের তিনটিতেই জয় এসেছে লিটন দাসদের পক্ষে।

তবে এবারের এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাই ছিল একচেটিয়া প্রভাবশালী। মাত্র ২ রানে দুই ওপেনার হারিয়ে বাংলাদেশ ১৩৯ রান করলেও, সেটি অনায়াসেই তাড়া করে ফেলেছিল শ্রীলঙ্কা মাত্র ১৪.৪ ওভারে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই তারা পেরিয়েছে প্রথম পর্ব।

বাংলাদেশের আরেকটি ভাবনার জায়গা ব্যাটিংয়ের শেষ দিক। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম ১০ ওভারে তুলেছিল ৮৭ রান, কিন্তু শেষ পর্যন্ত থেমেছিল মাত্র ১৫৪ রানে। সে রান জয় নিশ্চিত করলেও বড় ম্যাচের আগে এ রকম ভাটা চিন্তার কারণ বটে। কোচ টেইট অবশ্য আশাবাদী, ‘কাল (আজ) আমরা উন্নতি দেখাতে পারব, এমনটাই আশা করছি।’

সুপার ফোরে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দলই খেলবে ফাইনালে। তাই প্রতিটি ম্যাচেই জয় যেমন অপরিহার্য, তেমনি নেট রান রেটের দিকেও নজর রাখা জরুরি। গ্রুপ পর্বে নেট রান রেটের কারণে সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের জন্য। এবার সেই ভুল আর করতে চায় না দল।

আজকের ম্যাচ দিয়েই সুপার ফোরে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু। জয় দিয়ে শুরু করতে না পারলে আবারও অঙ্কের খেলায় পড়ে যেতে হতে পারে। তাই ব্যাটে-বলে নিখুঁত পারফরম্যান্সই