ঢাকা , শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসেম্বরে নির্বাচন হওয়া উচিত: সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫
  • ১৪৬৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে তার অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তিনি মনে করেন, নির্বাচন ডিসেম্বরেই হওয়া উচিত। আজ বুধবার (২১ মে) ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন বলে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনো এমন কোনো কার্যকলাপে যুক্ত হবে না, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। ঢাকায় কর্মরত সেনা কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং ঢাকার বাইরে থাকা কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে, ভবিষ্যতেও করে যাবে। সামনে কোরবানির ঈদ, মানুষ যেন নিরাপদে ঈদ উদ্যাপন করতে পারে, সে জন্য সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।”

সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে জেনারেল ওয়াকার বলেন, “রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরতে হবে। তা না হলে জাতীয় প্রতিরক্ষা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।” তিনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি সেনা মোতায়েনকে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি জানান, গত ৫ আগস্ট থেকে সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক চেষ্টা সত্ত্বেও কিছু মহল বাহিনীকে অযথা বিতর্কে জড়াতে চাচ্ছে। দেশীয় ও বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী যাতে এই সুযোগে সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। আলোচিত ‘মানবিক করিডর’ বিষয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় স্বার্থই সবচেয়ে বড় বিষয়। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিষয়টি যুক্ত করতে হবে এবং সবকিছুই রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।”

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জেনারেল ওয়াকার বলেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। কেবল রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমেই এসব সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম ও জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, এসব বিষয়ে তার সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পরামর্শ করা হয়নি। তিনি বলেন, “কী হচ্ছে বা কীভাবে হচ্ছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিসেম্বরে নির্বাচন হওয়া উচিত: সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

আপডেট সময় ১১:২৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে তার অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তিনি মনে করেন, নির্বাচন ডিসেম্বরেই হওয়া উচিত। আজ বুধবার (২১ মে) ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন বলে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনো এমন কোনো কার্যকলাপে যুক্ত হবে না, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। ঢাকায় কর্মরত সেনা কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং ঢাকার বাইরে থাকা কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে, ভবিষ্যতেও করে যাবে। সামনে কোরবানির ঈদ, মানুষ যেন নিরাপদে ঈদ উদ্যাপন করতে পারে, সে জন্য সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।”

সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে জেনারেল ওয়াকার বলেন, “রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরতে হবে। তা না হলে জাতীয় প্রতিরক্ষা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।” তিনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি সেনা মোতায়েনকে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি জানান, গত ৫ আগস্ট থেকে সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক চেষ্টা সত্ত্বেও কিছু মহল বাহিনীকে অযথা বিতর্কে জড়াতে চাচ্ছে। দেশীয় ও বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী যাতে এই সুযোগে সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। আলোচিত ‘মানবিক করিডর’ বিষয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় স্বার্থই সবচেয়ে বড় বিষয়। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিষয়টি যুক্ত করতে হবে এবং সবকিছুই রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।”

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জেনারেল ওয়াকার বলেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। কেবল রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমেই এসব সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম ও জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, এসব বিষয়ে তার সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পরামর্শ করা হয়নি। তিনি বলেন, “কী হচ্ছে বা কীভাবে হচ্ছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই।”