ঢাকা , সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মসজিদে দান করতে গিয়ে জাল নোটসহ ধরা পড়লেন এক ব্যক্তি চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি, এলাকায় আতঙ্ক শাহবাগ মোড় অবরোধ করে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ রাজধানীতে মিছিলের চেষ্টা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের ১৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার ইয়ামাল-ওইয়ারসাবালে দিশেহারা সৌদি আরব, প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলের লিড নিল স্পেন এআই দিয়ে ব্রাজিল সমর্থককে আর্জেন্টিনার জার্সি পরানোয় যুবককে লিগ্যাল নোটিশ রাজধানীতে ২০ দিনে চাঁদাবাজ-ছিনতাইকারীসহ গ্রেফতার ১৫৩৭ হুমকির অডিও ঘিরে উদ্বেগ, শাহজাহান চৌধুরীর নিরাপত্তা চায় জামায়াত মাননীয় স্পিকার, এটা আগষ্টের শাহবাগ: মাহমুদা মিতু অযুর সময় বজ্রপাতে মাদ্রাসার ৩ ছাত্রের মৃত্যু, আহত ১

যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে শিবির নেতা নিহত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

 

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে যুবদল নেতার শাবলের ছুরিকাঘাতে সাইফুল্লাহ বারী (৩২) নামে এক ছাত্রশিবির নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বন্ধু সালাউদ্দিন (৩০)। নিহত সাইফুল্লাহ ছাত্রশিবিরের বোনারপাড়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ছিলেন।

 

রবিবার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়ার চার মাথায় এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত সাইফুল্লাহ ওই ইউনিয়নের শিমুল তাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে ও রংপুর ধাপের সাতগড়া মডেল কামিল মাদ্রাসার তৃতীয় বর্ষের আল কুরআন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে।

 

অপরদিকে অভিযুক্ত মোখলেছুর রহমান মুকুল ও পলাশ আপন দুই ভাই। তারা একই ইউনিয়নের বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ও উপজেলা যুবদলের সদস্য।

 

জানা যায়, আজ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোনারপাড়া বাজারের (উপজেলা চত্বরে) চারমাথা চত্বরে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বিষয় নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে বোনারপাড়া ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি মুকুল ও তার ভাই পলাশ শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা করে। পরে মুকুলের ছোট ভাই পলাশ সাইফুল্লাহ বারীর গলায় লোহার শাবল দিয়ে সজোরে আঘাত করে।

 

এ সময় সাইফুল্লাহ বারীর সাথে থাকা তার বন্ধু সালাউদ্দিনকেও (৩০) ছুরিকাঘাত করেন তারা। পরে স্বজনরা প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হওয়া সাইফুল্লাহ বারীকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

অন্যদিকে গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

ঘটনাস্থলে থাকা নিহত শিবির সভাপতির বন্ধু মোবাশ্বের বলেন, এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমার চাচা হাবিবুল্লাহ। দীর্ঘদিন থেকে ওই স্কুলে কমিটি নেই। সম্প্রতি স্কুলে কমিটি গঠনের কথা চলছিলো। আজ বিকেলে আমার চাচা বোনারপাড়া বাজারে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় মুকুল-পলাশসহ বেশ কয়েকজন এসে কমিটির বিষয় নিয়ে চাচার সাথে খারাপ ব্যবহারসহ গালিগালাজ করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা কয়েকজন বাজারে আসি। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক হলে স্থানীয়রা দুই দলকেই সরিয়ে দেন। কিন্তু চলে যাওয়ার সময় তারা ধাওয়া দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ছুরি নিয়ে এসে মুকুল ও তার ভাই পলাশ সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা করে। শাবলের আঘাতে সাইফুল্লাহ বারীর গলা কেটে যায়।

 

সাঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মুকুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাকে দল থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

 

গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ফেরদাউস সরকার রুম্মন বলেন, সাইফুল্লাহ বারী আমাদের সংগঠনের একজন দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

 

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) পবিত্র কুমার বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্তসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মসজিদে দান করতে গিয়ে জাল নোটসহ ধরা পড়লেন এক ব্যক্তি

যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে শিবির নেতা নিহত

আপডেট সময় ০৮:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

 

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে যুবদল নেতার শাবলের ছুরিকাঘাতে সাইফুল্লাহ বারী (৩২) নামে এক ছাত্রশিবির নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বন্ধু সালাউদ্দিন (৩০)। নিহত সাইফুল্লাহ ছাত্রশিবিরের বোনারপাড়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ছিলেন।

 

রবিবার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়ার চার মাথায় এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত সাইফুল্লাহ ওই ইউনিয়নের শিমুল তাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে ও রংপুর ধাপের সাতগড়া মডেল কামিল মাদ্রাসার তৃতীয় বর্ষের আল কুরআন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে।

 

অপরদিকে অভিযুক্ত মোখলেছুর রহমান মুকুল ও পলাশ আপন দুই ভাই। তারা একই ইউনিয়নের বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ও উপজেলা যুবদলের সদস্য।

 

জানা যায়, আজ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোনারপাড়া বাজারের (উপজেলা চত্বরে) চারমাথা চত্বরে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বিষয় নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে বোনারপাড়া ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি মুকুল ও তার ভাই পলাশ শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা করে। পরে মুকুলের ছোট ভাই পলাশ সাইফুল্লাহ বারীর গলায় লোহার শাবল দিয়ে সজোরে আঘাত করে।

 

এ সময় সাইফুল্লাহ বারীর সাথে থাকা তার বন্ধু সালাউদ্দিনকেও (৩০) ছুরিকাঘাত করেন তারা। পরে স্বজনরা প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হওয়া সাইফুল্লাহ বারীকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

অন্যদিকে গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

ঘটনাস্থলে থাকা নিহত শিবির সভাপতির বন্ধু মোবাশ্বের বলেন, এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমার চাচা হাবিবুল্লাহ। দীর্ঘদিন থেকে ওই স্কুলে কমিটি নেই। সম্প্রতি স্কুলে কমিটি গঠনের কথা চলছিলো। আজ বিকেলে আমার চাচা বোনারপাড়া বাজারে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় মুকুল-পলাশসহ বেশ কয়েকজন এসে কমিটির বিষয় নিয়ে চাচার সাথে খারাপ ব্যবহারসহ গালিগালাজ করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা কয়েকজন বাজারে আসি। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক হলে স্থানীয়রা দুই দলকেই সরিয়ে দেন। কিন্তু চলে যাওয়ার সময় তারা ধাওয়া দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ছুরি নিয়ে এসে মুকুল ও তার ভাই পলাশ সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা করে। শাবলের আঘাতে সাইফুল্লাহ বারীর গলা কেটে যায়।

 

সাঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মুকুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাকে দল থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

 

গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ফেরদাউস সরকার রুম্মন বলেন, সাইফুল্লাহ বারী আমাদের সংগঠনের একজন দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

 

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) পবিত্র কুমার বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্তসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।