কদিকে কাতারের উপহার দেওয়া ৪০ কোটি ডলারের বিলাসবহুল বিমান যুক্ত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বহরে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা স্থগিত হওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই দিনে ওয়াশিংটনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সরকারি বহরে যুক্ত হয়েছে কাতার সরকারের উপহার দেওয়া একটি বিলাসবহুল Boeing 747-8 বিমান। প্রয়োজনীয় রূপান্তর ও নিরাপত্তা উন্নয়ন শেষে বিমানটি এখন থেকে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বহরের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই অত্যাধুনিক জেট বিমানটি গত বছর মার্কিন প্রশাসনকে শর্তহীন উপহার হিসেবে দেয় Qatar। এরপর বিমানটিকে প্রেসিডেন্টের যাতায়াত উপযোগী করতে ব্যাপক প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সংস্কার সম্পন্ন করে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
শুক্রবার জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন বিমানটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ সময় তিনি বলেন, বিমানটিকে এমন একটি বিলাসবহুল ‘উড়ন্ত হোয়াইট হাউজে’ পরিণত করা হয়েছে, যার তুলনা আগে দেখা যায়নি।
তবে এই আয়োজনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গন থেকে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খবর। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত শান্তি আলোচনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে বৈঠকটি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠক স্থগিত হওয়ার পাশাপাশি বাতিল করা হয়েছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট J. D. Vance-এর নির্ধারিত সফরও। ফলে যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকটি আপাতত না হলেও শান্তি প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, আলোচনা স্থগিত হওয়ার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে তেহরান জানিয়েছিল, বিদ্যমান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলে তারা কারিগরি পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব একটি সমঝোতা স্মারকে ভার্চুয়ালি স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় সুইজারল্যান্ডের Geneva-এ চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। আলোচনার এজেন্ডায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে বৈঠক স্থগিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা সাময়িকভাবে থমকে গেলেও কূটনৈতিক উদ্যোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। একই সময়ে কাতারের উপহার দেওয়া নতুন প্রেসিডেন্টীয় বিমান যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























