ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বর্তমানে দেশে ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চীনা জে-১০সি যুদ্ধবিমান কিনবে বাংলাদেশ, নজর রাখছে ভারত সরকারি হাসপাতালে জন্ম নিলেই স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়ার ঘোষণা বিজয় থালাপতির খালের পাড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি রয়েছে: ত্রাণমন্ত্রী ঈশ্বরের কাছে আরেকটি বিশ্বকাপ চাওয়া অনেক বেশি হয়ে যাবে: মেসি বিশ্বকাপে আগেও ব্রাজিলকে ‘ডুবিয়েছিল’ বিতর্কিত এই রেফারি ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, মার্কিন কারাগার থেকে ঐক্যের ডাক মাদুরোর ইরান যুদ্ধের জরুরি ব্যয়ের জন্য ৮৭৬০ কোটি ডলার চাইলেন ট্রাম্প একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রই পারে বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে: রাশিয়া মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনে ন্যাটো সরাসরি জড়িত: ইরান

ইরান যুদ্ধের জরুরি ব্যয়ের জন্য ৮৭৬০ কোটি ডলার চাইলেন ট্রাম্প

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

এবার হোয়াইট হাউস আইনপ্রণেতাদের কাছে ৮৭৬০ কোটি ডলার অনুমোদনের আবেদন জানিয়েছে। এর বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের ইরান যুদ্ধ সংক্রান্তজরুরি প্রয়োজনমেটাতে ব্যয় করা হবে। কংগ্রেস সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে একটি প্রস্তাব পাস করার মাত্র এক দিন পর এই আবেদন করা হলো। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই অর্থের মধ্যে ৬৭০০ কোটি ডলার যাবে প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য। এর মধ্যে ২১০০ কোটি ডলার গোলাবারুদ ক্রয়ে, ১৭৩০ কোটি ডলার সামরিক অভিযান পরিচালনার ব্যয়ে এবং ১২১০ কোটি ডলার গোপন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকি অর্থের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের সহায়তায় ১১০০ কোটি ডলার এবং মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ১৪০ কোটি ডলার।

তবে প্রস্তাবটি কংগ্রেসে কঠিন বাধার মুখে পড়তে পারে। কারণ ইরান সংঘাত ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয় নয়। এর মধ্যে আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, এই অনুরোধের অধিকাংশই অপারেশন এপিক ফিউরি (ওইএফ) সংক্রান্ত জরুরি চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হবে। এতে ইরান যুদ্ধের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে প্রায় ৩০ কোটি ডলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে এসব স্থাপনার কয়েকটি হামলার শিকার হয়।

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে। তবে হোয়াইট হাউসের বাজেট অফিসের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সামরিক হামলার পর অস্ত্রভাণ্ডারের মজুত পুনর্গঠনের জন্য পেন্টাগনের অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন। এমন সময়ে এই অর্থের আবেদন করা হলো, যখন কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের একটি অংশ গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যে শান্তি পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছেন, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বুধবার এর আগে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান সিনেটরদের সঙ্গে এক উত্তেজনাপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। তার আগে তিনি হঠাৎ করেই দ্বিদলীয় আবাসন সংক্রান্ত একটি বিল স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান বাতিল করে দেন। ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে ট্রাম্প মঙ্গলবারের ভোটের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রিত সিনেটে অনুষ্ঠিত ওই ভোট ছিল তার যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রতীকী পদক্ষেপ। এটি ছিল এমন প্রথম প্রস্তাব, যা কংগ্রেস পাস করে কোনো প্রেসিডেন্টকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।

বুধবারের বৈঠকের আগে ট্রাম্প যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত ভোটকেভুল সময়ে নেয়া এবং অর্থহীনবলে আখ্যায়িত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ডেমোক্রেটদের সঙ্গে ভোট দেয়া চার রিপাবলিকান সিনেটরকে পরাজিত বলে উল্লেখ করেন। ওই চার রিপাবলিকানের একজন, লুইজিয়ানার সিনেটর বিল ক্যাসিডি বলেন যেবুধবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের উচ্চস্বরে তর্কবিতর্ক হয়। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি দাঁড়িয়ে বলেছিলাম, ‘আপনি আমেরিকান জনগণকে বলেননি আসলে কী ঘটছে।তিনি আরও বলেন, এটি চার সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু চার মাস ধরে চলছে। আমাদের মূল লক্ষ্যগুলো এখনো অর্জিত হয়নি।

বুধবার এর আগে ন্যাটো (নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন)-এর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকেও ট্রাম্প যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত ভোট নিয়ে আবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমাদের চারজন রিপাবলিকান সিনেটর এবং সব ডেমোক্রেট ছিল। তারা যুদ্ধ হারতে চায়। কারণ তারা বোকা। গত মাসে পেন্টাগনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জুলস হার্স্ট কংগ্রেসের একটি প্যানেলকে জানিয়েছিলেন, এ পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ২৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং আইনপ্রণেতাদের মতে, এই হিসাব সংঘাতের আর্থিক ক্ষতির প্রকৃত ব্যাপ্তি পুরোপুরি তুলে ধরে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বর্তমানে দেশে ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরান যুদ্ধের জরুরি ব্যয়ের জন্য ৮৭৬০ কোটি ডলার চাইলেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ১২:০২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

এবার হোয়াইট হাউস আইনপ্রণেতাদের কাছে ৮৭৬০ কোটি ডলার অনুমোদনের আবেদন জানিয়েছে। এর বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের ইরান যুদ্ধ সংক্রান্তজরুরি প্রয়োজনমেটাতে ব্যয় করা হবে। কংগ্রেস সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে একটি প্রস্তাব পাস করার মাত্র এক দিন পর এই আবেদন করা হলো। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই অর্থের মধ্যে ৬৭০০ কোটি ডলার যাবে প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য। এর মধ্যে ২১০০ কোটি ডলার গোলাবারুদ ক্রয়ে, ১৭৩০ কোটি ডলার সামরিক অভিযান পরিচালনার ব্যয়ে এবং ১২১০ কোটি ডলার গোপন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকি অর্থের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের সহায়তায় ১১০০ কোটি ডলার এবং মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ১৪০ কোটি ডলার।

তবে প্রস্তাবটি কংগ্রেসে কঠিন বাধার মুখে পড়তে পারে। কারণ ইরান সংঘাত ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয় নয়। এর মধ্যে আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, এই অনুরোধের অধিকাংশই অপারেশন এপিক ফিউরি (ওইএফ) সংক্রান্ত জরুরি চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হবে। এতে ইরান যুদ্ধের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে প্রায় ৩০ কোটি ডলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে এসব স্থাপনার কয়েকটি হামলার শিকার হয়।

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে। তবে হোয়াইট হাউসের বাজেট অফিসের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সামরিক হামলার পর অস্ত্রভাণ্ডারের মজুত পুনর্গঠনের জন্য পেন্টাগনের অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন। এমন সময়ে এই অর্থের আবেদন করা হলো, যখন কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের একটি অংশ গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যে শান্তি পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছেন, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বুধবার এর আগে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান সিনেটরদের সঙ্গে এক উত্তেজনাপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। তার আগে তিনি হঠাৎ করেই দ্বিদলীয় আবাসন সংক্রান্ত একটি বিল স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান বাতিল করে দেন। ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে ট্রাম্প মঙ্গলবারের ভোটের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রিত সিনেটে অনুষ্ঠিত ওই ভোট ছিল তার যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রতীকী পদক্ষেপ। এটি ছিল এমন প্রথম প্রস্তাব, যা কংগ্রেস পাস করে কোনো প্রেসিডেন্টকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।

বুধবারের বৈঠকের আগে ট্রাম্প যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত ভোটকেভুল সময়ে নেয়া এবং অর্থহীনবলে আখ্যায়িত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ডেমোক্রেটদের সঙ্গে ভোট দেয়া চার রিপাবলিকান সিনেটরকে পরাজিত বলে উল্লেখ করেন। ওই চার রিপাবলিকানের একজন, লুইজিয়ানার সিনেটর বিল ক্যাসিডি বলেন যেবুধবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের উচ্চস্বরে তর্কবিতর্ক হয়। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি দাঁড়িয়ে বলেছিলাম, ‘আপনি আমেরিকান জনগণকে বলেননি আসলে কী ঘটছে।তিনি আরও বলেন, এটি চার সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু চার মাস ধরে চলছে। আমাদের মূল লক্ষ্যগুলো এখনো অর্জিত হয়নি।

বুধবার এর আগে ন্যাটো (নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন)-এর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকেও ট্রাম্প যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত ভোট নিয়ে আবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমাদের চারজন রিপাবলিকান সিনেটর এবং সব ডেমোক্রেট ছিল। তারা যুদ্ধ হারতে চায়। কারণ তারা বোকা। গত মাসে পেন্টাগনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জুলস হার্স্ট কংগ্রেসের একটি প্যানেলকে জানিয়েছিলেন, এ পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ২৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং আইনপ্রণেতাদের মতে, এই হিসাব সংঘাতের আর্থিক ক্ষতির প্রকৃত ব্যাপ্তি পুরোপুরি তুলে ধরে না।