ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইকনের পড়ালেখার দায়িত্ব নিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের পাশে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকেরা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনে বিজেপি ও শরিকদের অস্বস্তি রান্নার সময় মাংসের রং হলো সবুজ, কড়াই নিয়ে থানায় হাজির শিশুকে বলাৎকার করে মাদরাসাশিক্ষক বললেন, ‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ তারেক রহমানের পাঙ্খা গজাইছে, সব পাঙ্খা ভেঙে মাটিতে পড়ে যাবে: পাটওয়ারী যে মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীকে লাল কার্ড ধরিয়ে দিতে চান পাটওয়ারী, সেই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন সারজিস আলম সরকারি নির্দেশেই দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ, দাবি টেলিকম সংস্থাগুলোর বাবাকে হারিয়েও থামেনি জীবন, রাতের ডিউটি শেষে সকালে এইচএসসি পরীক্ষা দিলেন ইকন মেয়েটা যে অরক্ষিত হলো, এই দায়ভার কে নেবে: মনিরা শারমিন

বিশ্বকাপের পর ফুটবল ছেড়ে মসজিদের ইমাম হবেন মরক্কোর ডিফেন্ডার মাজরাউই!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

ফুটবলারদের ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর কোচিং, টেলিভিশন বিশ্লেষক কিংবা ক্লাব প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার গল্প নতুন কিছু নয়। কিন্তু নুসাইর মাজরাউইয়ের পরিকল্পনা যেন একেবারেই ভিন্ন। মরক্কোর এই ডিফেন্ডার মাঠের সবুজ ঘাস ছেড়ে ভবিষ্যতে নিজেকে দেখতে চান ধর্মীয় শিক্ষার জগতেএকজন হাফেজে কোরআন এবং ইমাম হিসেবে। বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও মরক্কো জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মাজরাউই। বয়স মাত্র ২৮। একজন ডিফেন্ডারের জন্য এটি ক্যারিয়ারের সেরা সময় বলেই ধরা হয়। অথচ এই সময়েই অবসরের চিন্তা করছেন তিনি।

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাজরাউই জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর পেশাদার ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে তার। কারণ, জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে তিনি সময় দিতে চান ধর্মীয় শিক্ষা ও আত্মিক উন্নয়নে। মাজরাউইয়ের ভাষায়, ফুটবল তাকে অনেক কিছু দিয়েছে। খ্যাতি, অর্থ, সাফল্যসবই পেয়েছেন। কিন্তু জীবনের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন, আধ্যাত্মিক চর্চার জন্য আরও বেশি সময় প্রয়োজন। মাজরাউই বলেন, ‘বিশ্বকাপের পর অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে পারি। জীবন খুবই ছোট। আমি কোরআন মুখস্থ করতে চাই। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মসজিদের ইমাম হওয়ারও ইচ্ছা আছে।

মরক্কোর এই তারকা জানিয়েছেন, তার অন্যতম বড় স্বপ্ন হলো সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করা। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করে একজন ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে চান তিনি। আধুনিক ফুটবলে এমন সিদ্ধান্ত খুব একটা দেখা যায় না। বিশেষ করে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে খেলা একজন ফুটবলার যখন ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে দাঁড়িয়ে অবসরের কথা ভাবেন, তখন সেটি স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দেয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর ঐতিহাসিক সাফল্যের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। সেই আসরে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল মরক্কো।

এরপর ক্লাব ফুটবল ও জাতীয় দলদুই জায়গাতেই নিয়মিত পারফর্ম করে যাচ্ছেন মাজরাউই। তবে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলছে, সাফল্যের সংজ্ঞা কেবল ট্রফি কিংবা ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কারও কারও কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে বিশ্বাস, জ্ঞান ও আত্মিক পরিপূর্ণতা। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর সত্যিই যদি অবসর নেন মাজরাউই, তাহলে ফুটবল বিশ্ব হারাবে একজন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারকে। কিন্তু তিনি হয়তো শুরু করবেন জীবনের একেবারে নতুন এক ইনিংসযেখানে মাঠের গ্যালারির বদলে থাকবে মসজিদের মিম্বর, আর করতালির বদলে থাকবে জ্ঞানচর্চা ও ধর্মীয় সেবার পথচলা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইকনের পড়ালেখার দায়িত্ব নিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী

বিশ্বকাপের পর ফুটবল ছেড়ে মসজিদের ইমাম হবেন মরক্কোর ডিফেন্ডার মাজরাউই!

আপডেট সময় ০৪:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

ফুটবলারদের ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর কোচিং, টেলিভিশন বিশ্লেষক কিংবা ক্লাব প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার গল্প নতুন কিছু নয়। কিন্তু নুসাইর মাজরাউইয়ের পরিকল্পনা যেন একেবারেই ভিন্ন। মরক্কোর এই ডিফেন্ডার মাঠের সবুজ ঘাস ছেড়ে ভবিষ্যতে নিজেকে দেখতে চান ধর্মীয় শিক্ষার জগতেএকজন হাফেজে কোরআন এবং ইমাম হিসেবে। বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও মরক্কো জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মাজরাউই। বয়স মাত্র ২৮। একজন ডিফেন্ডারের জন্য এটি ক্যারিয়ারের সেরা সময় বলেই ধরা হয়। অথচ এই সময়েই অবসরের চিন্তা করছেন তিনি।

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাজরাউই জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর পেশাদার ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে তার। কারণ, জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে তিনি সময় দিতে চান ধর্মীয় শিক্ষা ও আত্মিক উন্নয়নে। মাজরাউইয়ের ভাষায়, ফুটবল তাকে অনেক কিছু দিয়েছে। খ্যাতি, অর্থ, সাফল্যসবই পেয়েছেন। কিন্তু জীবনের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন, আধ্যাত্মিক চর্চার জন্য আরও বেশি সময় প্রয়োজন। মাজরাউই বলেন, ‘বিশ্বকাপের পর অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে পারি। জীবন খুবই ছোট। আমি কোরআন মুখস্থ করতে চাই। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মসজিদের ইমাম হওয়ারও ইচ্ছা আছে।

মরক্কোর এই তারকা জানিয়েছেন, তার অন্যতম বড় স্বপ্ন হলো সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করা। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করে একজন ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে চান তিনি। আধুনিক ফুটবলে এমন সিদ্ধান্ত খুব একটা দেখা যায় না। বিশেষ করে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে খেলা একজন ফুটবলার যখন ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে দাঁড়িয়ে অবসরের কথা ভাবেন, তখন সেটি স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দেয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর ঐতিহাসিক সাফল্যের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। সেই আসরে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল মরক্কো।

এরপর ক্লাব ফুটবল ও জাতীয় দলদুই জায়গাতেই নিয়মিত পারফর্ম করে যাচ্ছেন মাজরাউই। তবে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলছে, সাফল্যের সংজ্ঞা কেবল ট্রফি কিংবা ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কারও কারও কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে বিশ্বাস, জ্ঞান ও আত্মিক পরিপূর্ণতা। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর সত্যিই যদি অবসর নেন মাজরাউই, তাহলে ফুটবল বিশ্ব হারাবে একজন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারকে। কিন্তু তিনি হয়তো শুরু করবেন জীবনের একেবারে নতুন এক ইনিংসযেখানে মাঠের গ্যালারির বদলে থাকবে মসজিদের মিম্বর, আর করতালির বদলে থাকবে জ্ঞানচর্চা ও ধর্মীয় সেবার পথচলা।