ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার চান ৪৬ শতাংশ মার্কিনি আম্মার ও শিবির নেতাদের মারধরে আহত ২ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত, লক্ষ্মীপুরে পাশাপাশি দাফন দুই ভাই চাপের মুখে আন্দোলনকারীদের মামলা প্রত্যাহারের পথে শুভেন্দু সরকার গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী আহত জুলাই যোদ্ধা সুজনের নবজাতক কন্যার জন্য উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী মার্কিন হামলায় ইরানের ১২ সেতু, ২ টানেল ক্ষতিগ্রস্ত ইসরায়েলিদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিল মালয়েশিয়া বিশ্ব ফুটবল পরিচালনায় ‘অযোগ্য’ ইনফান্তিনো: অভিযোগ ভারতের ৪৪ বিমানবন্দর প্রকল্পের পেছনের কারণ কী

কারখানার কর্মী থেকে জার্মানির বিশ্বকাপ তারকা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৪০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ৭৮ বার পড়া হয়েছে

টানা দুই আসরের ব্যর্থতার পর আবারও নক আউট পর্বে জার্মানি। এ সাফল্যের পেছনে আছেন এমন একজন যিনি ৮ ঘণ্টা কারখানায় কাজ করতেন। ফুসরত মিললেই খেলতেন ফুটবল। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২১ গোলের জয়ে জোড়া গোল তাকে জার্মানদের নায়ক বানিয়ে দিয়েছেন।একসময় ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে কারখানায় ৮ ঘণ্টা কাজ করতেন ডেনিজ উন্দাভ। কয়েক মাস আগেও তার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে ছিল বড় অনিশ্চয়তা। কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছিলেন বচসায়।

উন্দাভ এক ম্যাচে বদলি নেমে শেষ সময়ে গোল করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘শুরুর একাদশও ডিজার্ভ করেন।তবে জার্মান কোচ উল্টো সংবাদমাধ্যমের সামনেই বলে বসেন, শুরু থেকে খেললে হয়তো ওই গোলটিই করতে পারতেন না উন্দাভ। সেই বিতর্কের জবাব মাঠে দিয়েছেন উন্দাভ। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জয়ের পর নাগেলসমানও স্বীকার করেছেন, উন্দাভকে শুরুর একাদশে রাখার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন, ‘কেন আমি ওর ছন্দ নষ্ট করব? দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে দুই ম্যাচেই গোল করেছে। তবে ওকে শুরু থেকেই খেলানো হতে পারে।

তবে উন্দাভের গল্পের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য অংশটা মাঠের বাইরের। ১৪ বছর বয়সে ভের্ডার ব্রেমেন ক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়েছিল, ছোটখাটো গড়নের কারণে তার কোনো ভবিষ্যৎ নেই। সেই প্রত্যাখ্যান ভেঙে দিয়েছিল কিশোর উন্দাভকে। তবে নতুন উদ্যমে নিজেকে গড়ে তোলেন তিনি। পরে ১৭ বছর বয়সে পরিবারকে ছেড়ে জার্মানির চতুর্থ বিভাগের ক্লাব হাভেলসেতে যোগ দেন। সপ্তাহে পেতেন মাত্র ১২০ পাউন্ড। ফুটবল থেকে পাওয়া অর্থে জীবন চলত না বলে কারখানায় কাজ করতে হতো।

বেলজিয়ান গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের গল্প বলেছিলেন উন্দাভ, ‘ভোর ৪টার দিকে উঠতাম। কারখানায় যেতাম, তারপর অনুশীলনে। রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফিরতাম। পরদিন আবার একই রুটিন। বেঁচে থাকার জন্যই কাজটা করতে হয়েছে। শুধু ফুটবল থেকে পাওয়া টাকায় চলা সম্ভব ছিল না।২০২০ সালে বেলজিয়ামের ইউনিয়ন সেন্টজিলোয়াজে যোগ দেওয়ার পর বদলাতে শুরু করে উন্দাভের ভাগ্য। এখন জার্মানির হয়ে তার চোখে আরও বড় স্বপ্ন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার চান ৪৬ শতাংশ মার্কিনি

কারখানার কর্মী থেকে জার্মানির বিশ্বকাপ তারকা

আপডেট সময় ০৪:৪০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

টানা দুই আসরের ব্যর্থতার পর আবারও নক আউট পর্বে জার্মানি। এ সাফল্যের পেছনে আছেন এমন একজন যিনি ৮ ঘণ্টা কারখানায় কাজ করতেন। ফুসরত মিললেই খেলতেন ফুটবল। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২১ গোলের জয়ে জোড়া গোল তাকে জার্মানদের নায়ক বানিয়ে দিয়েছেন।একসময় ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে কারখানায় ৮ ঘণ্টা কাজ করতেন ডেনিজ উন্দাভ। কয়েক মাস আগেও তার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে ছিল বড় অনিশ্চয়তা। কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছিলেন বচসায়।

উন্দাভ এক ম্যাচে বদলি নেমে শেষ সময়ে গোল করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘শুরুর একাদশও ডিজার্ভ করেন।তবে জার্মান কোচ উল্টো সংবাদমাধ্যমের সামনেই বলে বসেন, শুরু থেকে খেললে হয়তো ওই গোলটিই করতে পারতেন না উন্দাভ। সেই বিতর্কের জবাব মাঠে দিয়েছেন উন্দাভ। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জয়ের পর নাগেলসমানও স্বীকার করেছেন, উন্দাভকে শুরুর একাদশে রাখার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন, ‘কেন আমি ওর ছন্দ নষ্ট করব? দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে দুই ম্যাচেই গোল করেছে। তবে ওকে শুরু থেকেই খেলানো হতে পারে।

তবে উন্দাভের গল্পের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য অংশটা মাঠের বাইরের। ১৪ বছর বয়সে ভের্ডার ব্রেমেন ক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়েছিল, ছোটখাটো গড়নের কারণে তার কোনো ভবিষ্যৎ নেই। সেই প্রত্যাখ্যান ভেঙে দিয়েছিল কিশোর উন্দাভকে। তবে নতুন উদ্যমে নিজেকে গড়ে তোলেন তিনি। পরে ১৭ বছর বয়সে পরিবারকে ছেড়ে জার্মানির চতুর্থ বিভাগের ক্লাব হাভেলসেতে যোগ দেন। সপ্তাহে পেতেন মাত্র ১২০ পাউন্ড। ফুটবল থেকে পাওয়া অর্থে জীবন চলত না বলে কারখানায় কাজ করতে হতো।

বেলজিয়ান গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের গল্প বলেছিলেন উন্দাভ, ‘ভোর ৪টার দিকে উঠতাম। কারখানায় যেতাম, তারপর অনুশীলনে। রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফিরতাম। পরদিন আবার একই রুটিন। বেঁচে থাকার জন্যই কাজটা করতে হয়েছে। শুধু ফুটবল থেকে পাওয়া টাকায় চলা সম্ভব ছিল না।২০২০ সালে বেলজিয়ামের ইউনিয়ন সেন্টজিলোয়াজে যোগ দেওয়ার পর বদলাতে শুরু করে উন্দাভের ভাগ্য। এখন জার্মানির হয়ে তার চোখে আরও বড় স্বপ্ন।