ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি মাদুরোর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চান ভেনেজুয়েলার সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ‘মুরগি’ বিশ্ব জ্বালানি বাজার আমেরিকা নয়, ইরানের হাতেই আছে: গালিবাফ কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার রহস্য উদঘাটন, যেভাবে গ্রেপ্তার হলো ঘাতকরা পঞ্চাশ বছর পর যশোরে পাশাপাশি বাবা-ছেলের নামফলক মার্কিন নৌ-অবরোধ তোয়াক্কা না করে ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল বাইরে পাঠালো ইরান: ডন কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যা: ছেলের প্রথম জন্মদিন আজ, বাবার মরদেহ সমাহিত হয়েছে গতকাল ড. ইউনূসের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’র মর্যাদা ৬ মাস কমল আমার অধীনে বন্দি ছিলেন শেখ হাসিনা: জেরায় অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আযমী আমরা অনেক কথা বলি, কিন্তু বাস্তবায়ন করি না: বিডা চেয়ারম্যান

‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ নিয়ে মন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাল জামায়াত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:০২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

এবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদেরইনকিলাব জিন্দাবাদস্লোগান নিয়ে দেওয়া সাম্প্রতিক মন্তব্যে গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, মন্ত্রীর এই বক্তব্য কেবল অসঙ্গতই নয়, বরং ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব ও গণআকাঙ্ক্ষার বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল। আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।

এদিকে বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘ইনকিলাবশব্দটি আরবি উৎসভিত্তিক হলেও এটি উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভাষা কোনো সংকীর্ণ গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং ব্যবহারের মাধ্যমে তা সমৃদ্ধ ও বিকশিত হয়। বাংলা ভাষা নিজেই তদ্ভব, তৎসম, আরবি, ফারসি, পর্তুগিজ ও ইংরেজিসহ অসংখ্য ভাষার সমন্বয়ে আজকের এই রূপ লাভ করেছে। কোনো শব্দের উৎপত্তিকে কেন্দ্র করে তাকেবাংলাবিরোধীআখ্যা দেওয়া ভাষাবিজ্ঞানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

জামায়াত নেতা বলেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদকোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একচেটিয়া স্লোগান নয়; এটি শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। দেশের ছাত্রজনতা যখন অধিকার আদায়ে রুখে দাঁড়ায়, তখন তাদের কণ্ঠরোধ করার জন্য ভাষাগত অজুহাত দাঁড় করানো গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ভাষার প্রশ্নে বিভাজন সৃষ্টি করে জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করার অপচেষ্টা কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে কাম্য নয়।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন, এই স্লোগান উচ্চারিত হলে তাঁররক্তক্ষরণহয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত নেতা পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অনিয়ম, ঘুষদুর্নীতি এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছালেও কেন মন্ত্রীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় না? তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে জাতির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটানোর মতো অনেক ইস্যু থাকলেও সেগুলো মন্ত্রীদের স্পর্শ করে না। জনগণের ন্যায্য প্রতিবাদের ভাষাকে দোষারোপ না করে বরং জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে বাংলা ভাষা আমাদের গৌরবের ও আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। কোনো শব্দ বা স্লোগানকে কেন্দ্র করে জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা পরিহার করা উচিত। একই সঙ্গে জামায়াতের পক্ষ থেকে অবিলম্বে মন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে, অন্যথায় জনগণই এর যথাযথ জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি

‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ নিয়ে মন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাল জামায়াত

আপডেট সময় ০১:০২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদেরইনকিলাব জিন্দাবাদস্লোগান নিয়ে দেওয়া সাম্প্রতিক মন্তব্যে গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, মন্ত্রীর এই বক্তব্য কেবল অসঙ্গতই নয়, বরং ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব ও গণআকাঙ্ক্ষার বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল। আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।

এদিকে বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘ইনকিলাবশব্দটি আরবি উৎসভিত্তিক হলেও এটি উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভাষা কোনো সংকীর্ণ গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং ব্যবহারের মাধ্যমে তা সমৃদ্ধ ও বিকশিত হয়। বাংলা ভাষা নিজেই তদ্ভব, তৎসম, আরবি, ফারসি, পর্তুগিজ ও ইংরেজিসহ অসংখ্য ভাষার সমন্বয়ে আজকের এই রূপ লাভ করেছে। কোনো শব্দের উৎপত্তিকে কেন্দ্র করে তাকেবাংলাবিরোধীআখ্যা দেওয়া ভাষাবিজ্ঞানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

জামায়াত নেতা বলেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদকোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একচেটিয়া স্লোগান নয়; এটি শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। দেশের ছাত্রজনতা যখন অধিকার আদায়ে রুখে দাঁড়ায়, তখন তাদের কণ্ঠরোধ করার জন্য ভাষাগত অজুহাত দাঁড় করানো গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ভাষার প্রশ্নে বিভাজন সৃষ্টি করে জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করার অপচেষ্টা কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে কাম্য নয়।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন, এই স্লোগান উচ্চারিত হলে তাঁররক্তক্ষরণহয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত নেতা পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অনিয়ম, ঘুষদুর্নীতি এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছালেও কেন মন্ত্রীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় না? তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে জাতির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটানোর মতো অনেক ইস্যু থাকলেও সেগুলো মন্ত্রীদের স্পর্শ করে না। জনগণের ন্যায্য প্রতিবাদের ভাষাকে দোষারোপ না করে বরং জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে বাংলা ভাষা আমাদের গৌরবের ও আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। কোনো শব্দ বা স্লোগানকে কেন্দ্র করে জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা পরিহার করা উচিত। একই সঙ্গে জামায়াতের পক্ষ থেকে অবিলম্বে মন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে, অন্যথায় জনগণই এর যথাযথ জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।