ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন দেশের বাজারে পাওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক শিশুর অনুরোধে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ‘চুক্তিতে’ স্বাক্ষর করলেন স্কালোনি সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের এবার ইরানে স্থলসেনা নামানোর ছক যুক্তরাষ্ট্রের, ভয়ংকর পরিকল্পনা ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষায় ছাত্রদলের দুই নেতার হাতাহাতি ইরানে হামলায় যুক্তরাজ্যের কোনো ঘাঁটি ব্যবহৃত হলে তা হবে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’: আইআরজিসি কৃষক সেজে ফসলি মাঠ থেকে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে ধরল পুলিশ সাবেক রাষ্ট্রপতির ফৌজদারী অপরাধের বিচার সম্ভব, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে কোন বাধা নেই: শিশির মনির বড় লক্ষ্য অর্জনে কি ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বলির পাঁঠা বানালেন মোদি?

ঘরের ভেতর মা-মেয়ের রক্তাক্ত লা*শ, পাশে জখম ৫ বছরের শিশু—আসলে কী ঘটেছিল?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • ১৩৪ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক বাড়ি থেকে মা ও মেয়ের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি বড়ুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া, বয়স ৪০, এবং তাঁদের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া। আহত শিশুটি তাদেরই পাঁচ বছর বয়সী ছেলে পিয়াস বড়ুয়া

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১২টার দিকে সুজন বড়ুয়ার বাড়ি থেকে হঠাৎ চিৎকারের শব্দ শুনে ছুটে যান প্রতিবেশীরা। এ সময় তাঁরা দেখতে পান, রক্তাক্ত অবস্থায় ছোট ছেলে পিয়াসকে কোলে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসছেন এনি বড়ুয়া। দরজার বাইরে এসেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পরে প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতরে ঢুকে এনি বড়ুয়ার মেয়ে প্রিয়ন্তীর রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। এরপর আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া, যিনি চট্টগ্রাম নগরে একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত, জানান, ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন। স্বজনদের ফোন পেয়ে বাড়িতে এসে স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে সুরতহাল শেষে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আনোয়ারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, নিহত মা ও মেয়ের শরীরের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে আহত শিশুটি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “মা-মেয়েকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, দ্রুত এই ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হবে।”

কে বা কারা ঘটিয়েছে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড, কী ছিল এর পেছনের কারণ—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। আর পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছে স্বজন ও স্থানীয়রা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

ঘরের ভেতর মা-মেয়ের রক্তাক্ত লা*শ, পাশে জখম ৫ বছরের শিশু—আসলে কী ঘটেছিল?

আপডেট সময় ১১:৫৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক বাড়ি থেকে মা ও মেয়ের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি বড়ুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া, বয়স ৪০, এবং তাঁদের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া। আহত শিশুটি তাদেরই পাঁচ বছর বয়সী ছেলে পিয়াস বড়ুয়া

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১২টার দিকে সুজন বড়ুয়ার বাড়ি থেকে হঠাৎ চিৎকারের শব্দ শুনে ছুটে যান প্রতিবেশীরা। এ সময় তাঁরা দেখতে পান, রক্তাক্ত অবস্থায় ছোট ছেলে পিয়াসকে কোলে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসছেন এনি বড়ুয়া। দরজার বাইরে এসেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পরে প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতরে ঢুকে এনি বড়ুয়ার মেয়ে প্রিয়ন্তীর রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। এরপর আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া, যিনি চট্টগ্রাম নগরে একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত, জানান, ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন। স্বজনদের ফোন পেয়ে বাড়িতে এসে স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে সুরতহাল শেষে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আনোয়ারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, নিহত মা ও মেয়ের শরীরের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে আহত শিশুটি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “মা-মেয়েকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, দ্রুত এই ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হবে।”

কে বা কারা ঘটিয়েছে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড, কী ছিল এর পেছনের কারণ—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। আর পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছে স্বজন ও স্থানীয়রা।