ঢাকা , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যে ৩ শ্রেণির মানুষের ঠিকানা হবে জাহান্নাম ওমরাহ ভিসা নিয়ে সৌদিতে ভিক্ষাবৃত্তি, দেশে ফিরতেই ৩ নারীসহ আটক ৪  কিলোমিটার প্রতি ৪ টাকা ৫ পয়সা ভাড়া চান বাস মালিকরা সাত ডাকাতের সঙ্গে একই লড়লেন গৃহকর্তা, এক ডাকাত নিহত জনরোষের মুখে পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রী ইরানকে পারমাণবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ট্রাম্প কে?: ইরানি প্রেসিডেন্ট জনগণের কষ্টের কথা ভেবে তেলের দাম খুব সামান্য বাড়িয়েছে সরকার: জ্বালানি মন্ত্রী এনসিপিতে যোগ দিলেন জুনায়েদ-রাফে-রিফাতরাসহ ৩০ জন, বিকেলে দায়িত্ব বণ্টন দেশীয় কোম্পানির ট্যাংকারে পেট্রোল-অকটেন উপচে পড়ছে, নিচ্ছে না সরকার এস আলমের কাছে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ফেরাতে চাকরিচ্যুতদের অবস্থান

পাকিস্তানকে চীনের ‘পুরস্কার’! আধুনিক J-35A যুদ্ধবিমান পাচ্ছে ৫০% ছাড়ে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২২:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫
  • ৯১২ বার পড়া হয়েছে

ভারতীয় নিউজ১৮, এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের কিছুদিনের মধ্যেই চীন পাকিস্তানের কাছে তাদের অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার জেট , J-35A দ্রুত হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই উদ্যোগকে পাকিস্তানের “সংঘাতে ভূমিকার পুরস্কার” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। এই পদক্ষেপটি চীন-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গতি বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের কৌশলগত আগ্রহ বৃদ্ধিরও ইঙ্গিত দেয়।

সূত্র অনুযায়ী, পাকিস্তান আগামী আগস্টের মধ্যেই প্রথম দফায় ৩০টি J-35A ফাইটার জেট পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচির তুলনায় এটি একটি জোরদার অগ্রগতি। বর্তমানে চীনে সরকারি সফরে থাকা পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার চীনা সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই চুক্তির আর্থিক ও লজিস্টিক বিষয়গুলি চূড়ান্ত করেছেন বলে জানা গেছে।

এই চুক্তিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে চীনের প্রস্তাবিত আর্থিক সুবিধা। চীন এই যুদ্ধবিমানে ৫০% ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি সহজ শর্তে অর্থপ্রদান মঞ্জুর করেছে , যা পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের কৌশলগত সম্পর্ককে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তা স্পষ্ট করে। চীনের মতে, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে পাকিস্তানের “সফল আকাশ প্রতিরক্ষা পারফরম্যান্স”-এর স্বীকৃতিস্বরূপ এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছর জানানো হয়েছিল পাকিস্তান ৪০টি J-35A যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে, যা হবে চীনের তৈরি এই উন্নত প্রযুক্তির প্রথম রপ্তানি।

নিউজ১৮-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যে বেইজিংয়ে চীনের পিপল’স লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স সদর দফতরে J-35A বিমানের উপর প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানো হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির পর চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ভারতীয় বায়ুসেনার আধুনিকীকরণসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এই যুদ্ধবিমান চুক্তির পাশাপাশি চীন পাকিস্তানের বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামোতে অতিরিক্ত ২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে। এটি চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (CPEC)-এর দ্বিতীয় ধাপের অংশ, যার লক্ষ্য দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এর বিনিময়ে ইসলামাবাদ গওয়াদর বন্দরে চীনা স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ও কার্যকর অপারেশনাল অ্যাক্সেস নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর “অপারেশন সিন্ধুর”-এ পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে বেশ কয়েকটি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করার পর চীন এই অভিযানের সমালোচনা করেছিল। শুরুতে পাকিস্তান চীনা জেট ব্যবহারের কথা অস্বীকার করলেও, পরে উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর জেট ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন।

মঙ্গলবার বেইজিং এক বিবৃতিতে জানায়, তারা “জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায়” ইসলামাবাদের পাশে আছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই পাকিস্তানকে “আয়রনক্ল্যাড বন্ধু” আখ্যা দিয়ে বলেন, “সব আবহাওয়ার কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব” আরও গভীর করা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যে ৩ শ্রেণির মানুষের ঠিকানা হবে জাহান্নাম

পাকিস্তানকে চীনের ‘পুরস্কার’! আধুনিক J-35A যুদ্ধবিমান পাচ্ছে ৫০% ছাড়ে

আপডেট সময় ১০:২২:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

ভারতীয় নিউজ১৮, এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের কিছুদিনের মধ্যেই চীন পাকিস্তানের কাছে তাদের অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার জেট , J-35A দ্রুত হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই উদ্যোগকে পাকিস্তানের “সংঘাতে ভূমিকার পুরস্কার” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। এই পদক্ষেপটি চীন-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গতি বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের কৌশলগত আগ্রহ বৃদ্ধিরও ইঙ্গিত দেয়।

সূত্র অনুযায়ী, পাকিস্তান আগামী আগস্টের মধ্যেই প্রথম দফায় ৩০টি J-35A ফাইটার জেট পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচির তুলনায় এটি একটি জোরদার অগ্রগতি। বর্তমানে চীনে সরকারি সফরে থাকা পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার চীনা সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই চুক্তির আর্থিক ও লজিস্টিক বিষয়গুলি চূড়ান্ত করেছেন বলে জানা গেছে।

এই চুক্তিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে চীনের প্রস্তাবিত আর্থিক সুবিধা। চীন এই যুদ্ধবিমানে ৫০% ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি সহজ শর্তে অর্থপ্রদান মঞ্জুর করেছে , যা পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের কৌশলগত সম্পর্ককে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তা স্পষ্ট করে। চীনের মতে, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে পাকিস্তানের “সফল আকাশ প্রতিরক্ষা পারফরম্যান্স”-এর স্বীকৃতিস্বরূপ এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছর জানানো হয়েছিল পাকিস্তান ৪০টি J-35A যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে, যা হবে চীনের তৈরি এই উন্নত প্রযুক্তির প্রথম রপ্তানি।

নিউজ১৮-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যে বেইজিংয়ে চীনের পিপল’স লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স সদর দফতরে J-35A বিমানের উপর প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানো হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির পর চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ভারতীয় বায়ুসেনার আধুনিকীকরণসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এই যুদ্ধবিমান চুক্তির পাশাপাশি চীন পাকিস্তানের বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামোতে অতিরিক্ত ২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে। এটি চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (CPEC)-এর দ্বিতীয় ধাপের অংশ, যার লক্ষ্য দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এর বিনিময়ে ইসলামাবাদ গওয়াদর বন্দরে চীনা স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ও কার্যকর অপারেশনাল অ্যাক্সেস নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর “অপারেশন সিন্ধুর”-এ পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে বেশ কয়েকটি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করার পর চীন এই অভিযানের সমালোচনা করেছিল। শুরুতে পাকিস্তান চীনা জেট ব্যবহারের কথা অস্বীকার করলেও, পরে উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর জেট ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন।

মঙ্গলবার বেইজিং এক বিবৃতিতে জানায়, তারা “জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায়” ইসলামাবাদের পাশে আছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই পাকিস্তানকে “আয়রনক্ল্যাড বন্ধু” আখ্যা দিয়ে বলেন, “সব আবহাওয়ার কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব” আরও গভীর করা হবে।