ঢাকা , সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে আন্দোলনে নামছে মুসলিমরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৩৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেশব্যাপী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড (এআইএমপিএলবি)।

 

সোমবার (২২ জুন) অনুষ্ঠিত সংগঠনটির কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মসজিদ ও মাদরাসা সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন রাজ্যের নীতিগত পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

বৈঠক শেষে বোর্ডের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিজেপি-শাসিত কয়েকটি রাজ্যে মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণপিটুনি, মসজিদ ও মাদরাসা উচ্ছেদ, বাড়িঘরে বুলডোজার অভিযান এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার ঘটনা বেড়েছে। এসব পদক্ষেপ দেশের সামাজিক সম্প্রীতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেন নেতারা।

 

বোর্ড জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ নিয়ে একটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। নেতাদের ভাষ্য, বিষয়টি কেবল একটি সম্প্রদায়ের স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সামাজিক ঐক্যের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।

 

মধ্যপ্রদেশের কামাল মওলা মসজিদ-ভোজশালা সংক্রান্ত মামলায় উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক রায় নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, রায়টি ঐতিহাসিক দলিল, সরকারি নথি এবং দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলমান মামলায় সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

 

এছাড়া বিভিন্ন রাজ্যে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের সমালোচনা করেছে বোর্ড। তাদের মতে, কোনো নাগরিক বা শিক্ষার্থীর ওপর ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় চাপিয়ে দেওয়া সংবিধানপ্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের স্কুল ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত মাদরাসাগুলোতে এ ধরনের নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

 

একই সঙ্গে মাদরাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সরকারি নির্দেশনার ওপর কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। বোর্ডের নেতাদের দাবি, গানটির কিছু অংশ মুসলমানদের একত্ববাদী ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

সভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড) বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বোর্ডের দাবি, এমন উদ্যোগ ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ভারতের বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার পরিপন্থী। উত্তরাখণ্ডে এ সংক্রান্ত আইনের বিরুদ্ধে চলমান আইনি লড়াইয়ের মতো অন্যান্য রাজ্যেও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

 

মুসলমানদের অধিকার রক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে দেশব্যাপী গণআন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে বোর্ড। এ উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ কর্মপরিষদ গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

 

বোর্ডের সভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহিম মুজাদ্দেদি। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম, আইনজীবী, সমাজনেতা এবং বোর্ডের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে আন্দোলনে নামছে মুসলিমরা

আপডেট সময় ০৮:৩৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেশব্যাপী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড (এআইএমপিএলবি)।

 

সোমবার (২২ জুন) অনুষ্ঠিত সংগঠনটির কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মসজিদ ও মাদরাসা সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন রাজ্যের নীতিগত পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

বৈঠক শেষে বোর্ডের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিজেপি-শাসিত কয়েকটি রাজ্যে মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণপিটুনি, মসজিদ ও মাদরাসা উচ্ছেদ, বাড়িঘরে বুলডোজার অভিযান এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার ঘটনা বেড়েছে। এসব পদক্ষেপ দেশের সামাজিক সম্প্রীতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেন নেতারা।

 

বোর্ড জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ নিয়ে একটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। নেতাদের ভাষ্য, বিষয়টি কেবল একটি সম্প্রদায়ের স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সামাজিক ঐক্যের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।

 

মধ্যপ্রদেশের কামাল মওলা মসজিদ-ভোজশালা সংক্রান্ত মামলায় উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক রায় নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, রায়টি ঐতিহাসিক দলিল, সরকারি নথি এবং দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলমান মামলায় সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

 

এছাড়া বিভিন্ন রাজ্যে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের সমালোচনা করেছে বোর্ড। তাদের মতে, কোনো নাগরিক বা শিক্ষার্থীর ওপর ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় চাপিয়ে দেওয়া সংবিধানপ্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের স্কুল ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত মাদরাসাগুলোতে এ ধরনের নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

 

একই সঙ্গে মাদরাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সরকারি নির্দেশনার ওপর কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। বোর্ডের নেতাদের দাবি, গানটির কিছু অংশ মুসলমানদের একত্ববাদী ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

সভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড) বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বোর্ডের দাবি, এমন উদ্যোগ ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ভারতের বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার পরিপন্থী। উত্তরাখণ্ডে এ সংক্রান্ত আইনের বিরুদ্ধে চলমান আইনি লড়াইয়ের মতো অন্যান্য রাজ্যেও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

 

মুসলমানদের অধিকার রক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে দেশব্যাপী গণআন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে বোর্ড। এ উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ কর্মপরিষদ গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

 

বোর্ডের সভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহিম মুজাদ্দেদি। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম, আইনজীবী, সমাজনেতা এবং বোর্ডের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়।