ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০ আগে বলত ‘রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী’, এখন বলছে ‘গুপ্ত’: জাহিদুল ইসলাম মন্ত্রীর কাছ থেকে শুনি, তার লম্বা এ কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়: ডেপুটি স্পিকার অনিয়ম-দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতা দেশটাকে খেয়ে ফেলছে: এটিএম আজহার সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে ছাত্রশিবিরের তীব্র প্রতিবাদ নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোকে স্বনির্ভর হতে বলল কাতার বিরোধীদলীয় নেতার জন্য হায়াতে তাইয়্যেবার দোয়া করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতাকে দেড়শ টাকার খাবারের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিরলে ফাঁসির কাষ্ঠে নিতে জুলাই শহীদদের পরিবারই যথেষ্ট: সারজিস কানে শোনে না, কথাও বলতে পারে না তবুও রঙের ভাষায় স্বপ্ন আঁকে সাবা

“মাংস আমদানি নয়, উৎপাদন খরচ কমিয়ে দেশের চাহিদা পূরণে কাজ চলছে”—ফরিদা আখতার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৫৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে অনেক দেশ স্বল্পমূল্যে গরুর মাংস রপ্তানির প্রস্তাব দিচ্ছে, তবে এতে দেশের খামারিরা বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোচ্ছে।

বুধবার সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফরিদা আখতার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমরা কেন মাংস আমদানি করবো? বরং দেশেই উৎপাদন খরচ কমিয়ে নিজেদের চাহিদা পূরণে কাজ করবো। আমদানি করে আমরা দেশের ক্ষতি করতে চাই না। তাই উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমেই মাংস ও ডিমের দাম কমানোর পথে আমরা এগোচ্ছি।”

গবেষণার বাজেট কমিয়ে ৫ কোটি টাকা থেকে ৩ কোটিতে নামিয়ে আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি দেশের জন্য ক্ষতিকর। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকলে নতুন উদ্ভাবন ও উন্নয়ন থমকে যাবে।” তিনি গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

মানুষ ও প্রাণীর পারস্পরিক স্বাস্থ্য সম্পর্ক নিয়ে ফরিদা আখতার বলেন, “যে রোগ প্রাণীর হয় তা মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে, আবার মানুষের রোগও প্রাণীতে সংক্রমিত হতে পারে। তাই ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাকে গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।” তিনি প্রাণীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দেশীয় জাত সংরক্ষণে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ফরিদা আখতার বলেন, “উন্নত দেশগুলো নিজেদের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ না এনে উন্নয়নশীল দেশের গবাদিপশুর ওপর দায় চাপাচ্ছে—এটি অন্যায্য। তারা গাড়িতে জ্বালানি পুড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট করছে, অথচ দায় দিচ্ছে আমাদের গরুর ওপর।”

অনুষ্ঠানে বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান।

সচিব বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে দুটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে—প্রাণীর সুস্থতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। তিনি উল্লেখ করেন, “খামারে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক প্রাণী অসুস্থ হয় এবং পরে সেগুলো জবাই করা হয়, যার মাংস খেয়ে মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাণীর নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। আমাদের জানতে হবে, অন্যান্য দেশে প্রাণীর খাবারে কী ব্যবহার হয়, কেন তাদের খরচ কম।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০

“মাংস আমদানি নয়, উৎপাদন খরচ কমিয়ে দেশের চাহিদা পূরণে কাজ চলছে”—ফরিদা আখতার

আপডেট সময় ০৭:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশে অনেক দেশ স্বল্পমূল্যে গরুর মাংস রপ্তানির প্রস্তাব দিচ্ছে, তবে এতে দেশের খামারিরা বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোচ্ছে।

বুধবার সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফরিদা আখতার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমরা কেন মাংস আমদানি করবো? বরং দেশেই উৎপাদন খরচ কমিয়ে নিজেদের চাহিদা পূরণে কাজ করবো। আমদানি করে আমরা দেশের ক্ষতি করতে চাই না। তাই উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমেই মাংস ও ডিমের দাম কমানোর পথে আমরা এগোচ্ছি।”

গবেষণার বাজেট কমিয়ে ৫ কোটি টাকা থেকে ৩ কোটিতে নামিয়ে আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি দেশের জন্য ক্ষতিকর। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকলে নতুন উদ্ভাবন ও উন্নয়ন থমকে যাবে।” তিনি গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

মানুষ ও প্রাণীর পারস্পরিক স্বাস্থ্য সম্পর্ক নিয়ে ফরিদা আখতার বলেন, “যে রোগ প্রাণীর হয় তা মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে, আবার মানুষের রোগও প্রাণীতে সংক্রমিত হতে পারে। তাই ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাকে গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।” তিনি প্রাণীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দেশীয় জাত সংরক্ষণে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ফরিদা আখতার বলেন, “উন্নত দেশগুলো নিজেদের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ না এনে উন্নয়নশীল দেশের গবাদিপশুর ওপর দায় চাপাচ্ছে—এটি অন্যায্য। তারা গাড়িতে জ্বালানি পুড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট করছে, অথচ দায় দিচ্ছে আমাদের গরুর ওপর।”

অনুষ্ঠানে বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান।

সচিব বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে দুটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে—প্রাণীর সুস্থতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। তিনি উল্লেখ করেন, “খামারে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক প্রাণী অসুস্থ হয় এবং পরে সেগুলো জবাই করা হয়, যার মাংস খেয়ে মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাণীর নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। আমাদের জানতে হবে, অন্যান্য দেশে প্রাণীর খাবারে কী ব্যবহার হয়, কেন তাদের খরচ কম।”