ঢাকা , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে আদালতে অপ্রতিম হত্যার ৪ আসামির মধ্যে ৩ আসামির স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের ফুটপাতে ভারতের পতাকা পাকিস্তানে পুলিশ সদর দপ্তরে হামলা, নিহত ৩১ আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট পাবনায় গুলি ও কুপিয়ে আহত করার ১১ দিন পর জামায়াতকর্মীর মৃত্যু ইরান নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, বললেন-বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে ‘গাজী নজরুল জামায়াতের কেউ নন, স্ত্রীর মৃত্যুর তদন্তের দায়িত্ব সরকারের’ নিখোঁজের পর আট মাসে ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ ‘এ দেশটা ধ্বংস হয়ে যাক, এ দেশের দরকার নাই’—অপ্রতিমের মায়ের আহাজারি

“মাংস আমদানি নয়, উৎপাদন খরচ কমিয়ে দেশের চাহিদা পূরণে কাজ চলছে”—ফরিদা আখতার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৬৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে অনেক দেশ স্বল্পমূল্যে গরুর মাংস রপ্তানির প্রস্তাব দিচ্ছে, তবে এতে দেশের খামারিরা বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোচ্ছে।

বুধবার সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফরিদা আখতার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমরা কেন মাংস আমদানি করবো? বরং দেশেই উৎপাদন খরচ কমিয়ে নিজেদের চাহিদা পূরণে কাজ করবো। আমদানি করে আমরা দেশের ক্ষতি করতে চাই না। তাই উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমেই মাংস ও ডিমের দাম কমানোর পথে আমরা এগোচ্ছি।”

গবেষণার বাজেট কমিয়ে ৫ কোটি টাকা থেকে ৩ কোটিতে নামিয়ে আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি দেশের জন্য ক্ষতিকর। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকলে নতুন উদ্ভাবন ও উন্নয়ন থমকে যাবে।” তিনি গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

মানুষ ও প্রাণীর পারস্পরিক স্বাস্থ্য সম্পর্ক নিয়ে ফরিদা আখতার বলেন, “যে রোগ প্রাণীর হয় তা মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে, আবার মানুষের রোগও প্রাণীতে সংক্রমিত হতে পারে। তাই ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাকে গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।” তিনি প্রাণীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দেশীয় জাত সংরক্ষণে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ফরিদা আখতার বলেন, “উন্নত দেশগুলো নিজেদের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ না এনে উন্নয়নশীল দেশের গবাদিপশুর ওপর দায় চাপাচ্ছে—এটি অন্যায্য। তারা গাড়িতে জ্বালানি পুড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট করছে, অথচ দায় দিচ্ছে আমাদের গরুর ওপর।”

অনুষ্ঠানে বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান।

সচিব বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে দুটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে—প্রাণীর সুস্থতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। তিনি উল্লেখ করেন, “খামারে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক প্রাণী অসুস্থ হয় এবং পরে সেগুলো জবাই করা হয়, যার মাংস খেয়ে মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাণীর নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। আমাদের জানতে হবে, অন্যান্য দেশে প্রাণীর খাবারে কী ব্যবহার হয়, কেন তাদের খরচ কম।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে

“মাংস আমদানি নয়, উৎপাদন খরচ কমিয়ে দেশের চাহিদা পূরণে কাজ চলছে”—ফরিদা আখতার

আপডেট সময় ০৭:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশে অনেক দেশ স্বল্পমূল্যে গরুর মাংস রপ্তানির প্রস্তাব দিচ্ছে, তবে এতে দেশের খামারিরা বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোচ্ছে।

বুধবার সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফরিদা আখতার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমরা কেন মাংস আমদানি করবো? বরং দেশেই উৎপাদন খরচ কমিয়ে নিজেদের চাহিদা পূরণে কাজ করবো। আমদানি করে আমরা দেশের ক্ষতি করতে চাই না। তাই উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমেই মাংস ও ডিমের দাম কমানোর পথে আমরা এগোচ্ছি।”

গবেষণার বাজেট কমিয়ে ৫ কোটি টাকা থেকে ৩ কোটিতে নামিয়ে আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি দেশের জন্য ক্ষতিকর। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকলে নতুন উদ্ভাবন ও উন্নয়ন থমকে যাবে।” তিনি গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

মানুষ ও প্রাণীর পারস্পরিক স্বাস্থ্য সম্পর্ক নিয়ে ফরিদা আখতার বলেন, “যে রোগ প্রাণীর হয় তা মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে, আবার মানুষের রোগও প্রাণীতে সংক্রমিত হতে পারে। তাই ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাকে গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।” তিনি প্রাণীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দেশীয় জাত সংরক্ষণে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ফরিদা আখতার বলেন, “উন্নত দেশগুলো নিজেদের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ না এনে উন্নয়নশীল দেশের গবাদিপশুর ওপর দায় চাপাচ্ছে—এটি অন্যায্য। তারা গাড়িতে জ্বালানি পুড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট করছে, অথচ দায় দিচ্ছে আমাদের গরুর ওপর।”

অনুষ্ঠানে বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান।

সচিব বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে দুটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে—প্রাণীর সুস্থতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। তিনি উল্লেখ করেন, “খামারে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক প্রাণী অসুস্থ হয় এবং পরে সেগুলো জবাই করা হয়, যার মাংস খেয়ে মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাণীর নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। আমাদের জানতে হবে, অন্যান্য দেশে প্রাণীর খাবারে কী ব্যবহার হয়, কেন তাদের খরচ কম।”