ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঝালমুড়ি খেলাম আমি, আর ঝাল লাগল তৃণমূলের: মোদি জ্বালানি স্বল্পতার কারণে সক্ষমতার পুরোটা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না: বিদ্যুৎ বিভাগ রবিবার থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ডাক প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতেনাতে ধরার পর চোরকে নামাজ পড়িয়ে ছেড়ে দিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ফুয়েল কার্ডের ছবির সঙ্গে অমিল থাকায় তরুণকে থাপ্পড় দিলেন ইউএনও এমপিরা সংসদে গেছেন জনগণের সমস্যার সমাধান করতে, নিজেদের জন্য নয়: তাসনিম জারা দেশের দ্বিতীয় তেল শোধনাগার না হওয়া দুঃখজনক: সেনাপ্রধান মার্কিন অবরোধ থাকলে খুলবে না হরমুজ প্রণালী: ইরান মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জামায়াত আমীরের বাড়ল বাসভাড়া, নতুন ভাড়া নির্ধারণ

হরমুজ প্রণালি আর খোলা সম্ভব না: ইরান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৩:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকেনির্লজ্জভাবেযুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। বুধবার (২২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই ঘোষণা দেন।  তিনি দাবি করেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌঅবরোধ মূলত বিশ্ব অর্থনীতিকেজিম্মিকরার নামান্তর এবং ইসরায়েল সব ফ্রন্টেযুদ্ধবাজআচরণ করছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও শান্তি আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা বললেও শর্ত হিসেবে অবরোধ ও হুমকি বন্ধের ওপর জোর দিয়েছেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির বিস্তারিত উঠে এসেছে।

এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চলমান নৌঅবরোধের সাফল্যে সন্তুষ্ট এবং তিনি মনে করেন ইরান বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। বুধবার শেষ হতে যাওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি করেছেন, তবে নতুন কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।  হোয়াইট হাউস বলছে, যুদ্ধের সমাপ্তি কবে হবে তা সম্পূর্ণভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে এবং তিনি মার্কিন জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অনমনীয় অবস্থান এবং আলোচনার টেবিলে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকা মূলত ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও চাপে ফেলার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইরানএমএসসি ফ্রান্সেসকাএবংএপামিনন্ডাসনামক দুটি মালবাহী জাহাজ জব্দ করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দাবি অনুযায়ী, জাহাজ দুটি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া চলাচল করছিল এবং তাদের নেভিগেশন সিস্টেমের তথ্য গোপন করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।  আইআরজিসি এই অভিযানের নাটকীয় ফুটেজও প্রচার করেছে। অন্যদিকে গ্রিসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিওর্গোস গেরাপেট্রিটিস নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রিক মালিকানাধীন একটি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে, তবে সেটি জব্দ করা হয়েছে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এ ছাড়াওইউফোরিয়ানামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি জাহাজ আক্রান্ত হলেও সেটি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন থেকে নৌবাহিনী সচিব জন ফেলানকে কোনো কারণ ছাড়াই অবিলম্বে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষক অ্যান্ড্রু পিকের মতে, ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকেই তাদের বিজয়ের মানদণ্ড হিসেবে দেখছে। তবে হোয়াইট হাউস ইরানের জাহাজ জব্দের ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করছে না, কারণ জব্দ করা জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ছিল না।  বর্তমানে পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধি দল প্রস্তুত থাকলেও ইরানের অনড় অবস্থানের কারণে তা ঝুলে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, এই চরম অর্থনৈতিক সংকটে ইরানি নীতিনির্ধারকরা শিগগিরই একটি আপস প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসবে। সূত্র: বিবিসি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালমুড়ি খেলাম আমি, আর ঝাল লাগল তৃণমূলের: মোদি

হরমুজ প্রণালি আর খোলা সম্ভব না: ইরান

আপডেট সময় ১০:৫৩:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকেনির্লজ্জভাবেযুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। বুধবার (২২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই ঘোষণা দেন।  তিনি দাবি করেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌঅবরোধ মূলত বিশ্ব অর্থনীতিকেজিম্মিকরার নামান্তর এবং ইসরায়েল সব ফ্রন্টেযুদ্ধবাজআচরণ করছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও শান্তি আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা বললেও শর্ত হিসেবে অবরোধ ও হুমকি বন্ধের ওপর জোর দিয়েছেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির বিস্তারিত উঠে এসেছে।

এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চলমান নৌঅবরোধের সাফল্যে সন্তুষ্ট এবং তিনি মনে করেন ইরান বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। বুধবার শেষ হতে যাওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি করেছেন, তবে নতুন কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।  হোয়াইট হাউস বলছে, যুদ্ধের সমাপ্তি কবে হবে তা সম্পূর্ণভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে এবং তিনি মার্কিন জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অনমনীয় অবস্থান এবং আলোচনার টেবিলে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকা মূলত ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও চাপে ফেলার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইরানএমএসসি ফ্রান্সেসকাএবংএপামিনন্ডাসনামক দুটি মালবাহী জাহাজ জব্দ করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দাবি অনুযায়ী, জাহাজ দুটি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া চলাচল করছিল এবং তাদের নেভিগেশন সিস্টেমের তথ্য গোপন করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।  আইআরজিসি এই অভিযানের নাটকীয় ফুটেজও প্রচার করেছে। অন্যদিকে গ্রিসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিওর্গোস গেরাপেট্রিটিস নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রিক মালিকানাধীন একটি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে, তবে সেটি জব্দ করা হয়েছে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এ ছাড়াওইউফোরিয়ানামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি জাহাজ আক্রান্ত হলেও সেটি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন থেকে নৌবাহিনী সচিব জন ফেলানকে কোনো কারণ ছাড়াই অবিলম্বে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষক অ্যান্ড্রু পিকের মতে, ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকেই তাদের বিজয়ের মানদণ্ড হিসেবে দেখছে। তবে হোয়াইট হাউস ইরানের জাহাজ জব্দের ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করছে না, কারণ জব্দ করা জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ছিল না।  বর্তমানে পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধি দল প্রস্তুত থাকলেও ইরানের অনড় অবস্থানের কারণে তা ঝুলে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, এই চরম অর্থনৈতিক সংকটে ইরানি নীতিনির্ধারকরা শিগগিরই একটি আপস প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসবে। সূত্র: বিবিসি