বেসরকারি টেলিভিশন এখন টিভির চার সাংবাদিককে যোগদান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। ঈদুল আজহার আগেই সকল গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের বোনাসসহ বেতন-ভাতা ও বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানায় বিএফইউজে-ডিইউজে।
শনিবার (২৩ মে) বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী ও ডিইউজে সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
একই সঙ্গে নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ে বিএফইউজে-ডিইউজে বদ্ধপরিকর বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে বিএফইউজে ও ডিইউজে বলেছে, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘এখন টিভি’র অবৈধভাবে চার সাংবাদিককে দেওয়া বাধ্যতামূলক ছুটি বাতিল করে কাজে যোগদান নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবাদিকদের ন্যায্য যেকোনো দাবি ও অধিকার আদায়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) বদ্ধপরিকর।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘এখন টিভি’র অবৈধভাবে চার সাংবাদিককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর ডিইউজে নেতৃবৃন্দ গণমাধ্যমটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রাথমিকভাবে চার সাংবাদিককে বাধ্যতামূলক ছুটির বিষয়টি প্রত্যাহার না করায় কর্মসূচি পালন করে ডিইউজেসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এরপরও বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় ফের কর্মসূচি ঘোষণা করে ডিইউজে। একপর্যায়ে ‘এখন টিভি’ কর্তৃপক্ষ ডিইউজেসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসেন এবং এখন টিভির চার সাংবাদিককে তাদের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। আশ্বাস বাস্তবায়ন না করে বিষয়টি নিয়ে টালবাহানা শুরু করে এখন টিভি কর্তৃপক্ষ।
গত ২১ তারিখ ডিইউজে নেতৃবৃন্দসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এখন টিভি কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে পূর্বের আশ্বাস বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে যেতে চাইলে ভবনটির প্রবেশমুখেই বাধার সৃষ্টি ও নেতৃবৃন্দের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে ওই টিভির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
এখন টিভির কর্মকর্তাদের অসৌজন্যমূলক আচরণ সাংবাদিক সমাজকে ক্ষুব্ধ করেছে এবং এরূপ কর্মকাণ্ড ঐতিহ্যবাহী ট্রেড ইউনিয়ন বিএফইউজে ও ডিইউজেকে অবমাননার শামিল।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এখন টিভির অ্যাসাইনমেন্ট ডেস্ক ইনচার্জ ও বিশেষ প্রতিনিধি মাহমুদ রাকিব, বিশেষ প্রতিনিধি মুজাহিদ শুভ, ডেপুটি অ্যাসাইনমেন্ট ডেস্ক ইনচার্জ ও সিনিয়র রিপোর্টার বেলায়েত হোসাইন এবং সিনিয়র রিপোর্টার আজহার লিমনকে শোকজ দিয়ে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। তিন মাস অতিবাহিত হলেও তাদেরকে এখনো কর্মস্থলে ফেরানো হয়নি।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখন টিভি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে এবং প্রতিবারই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। দ্রুততম সময়ে এখন টিভির চার সাংবাদিককে কাজে ফিরিয়ে না নিলে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না। উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির জন্য এখন টিভি কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে।
শোকজ নোটিশের নামে সাংবাদিকদের নিয়ম বহির্ভূতভাবে কর্মস্থল থেকে দূরে রাখা শুধু অন্যায্যই নয়, বরং সংবাদকর্মীদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার পরিপন্থী বলে মনে করে বিএফইউজে-ডিইউজে।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















