আফগানিস্তানের বাগ্রাম বিমানঘাঁটি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক আফগান যুদ্ধে ব্যবহৃত এই ঘাঁটিটি এখন তালেবান সরকারের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাগ্রাম ঘাঁটি ফেরত পেতে চায়। এ নিয়ে তিনি সরাসরি হুশিয়ারিও দেন।
তবে ট্রাম্পের সেই হুমকি পাত্তা না দিয়ে দৃঢ় ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে আফগানিস্তান। তালেবান সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—বাগ্রাম ঘাঁটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার, তাই কোনো বিদেশি শক্তিকে আফগান মাটিতে সেনা মোতায়েনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আফগানিস্তান জানায়, অতীতের সব আলোচনায় সার্বভৌমত্ব রক্ষা ছিল তাদের শর্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু। শরীয়াভিত্তিক নীতি ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে তারা সব দেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক চায়, তবে ভূখণ্ডের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকী আরও স্পষ্টভাবে বলেন, “শুধু বাগ্রাম নয়, আফগানিস্তানের এক ইঞ্চি জমিও যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হবে না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র যদি আমাদের সরকারকে স্বীকৃতি দেয়, তবুও জমি হস্তান্তরের প্রশ্নই আসে না।”
তালেবান সরকার দোহা চুক্তির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। আফগানিস্তান মনে করিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটনের উচিত সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর আফগানিস্তানে সামরিক হস্তক্ষেপ চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় বাগ্রাম ছিল মার্কিন বাহিনীর প্রধান ঘাঁটি। এখানে ফাস্টফুড চেইন, বড় শপিং সেন্টার থেকে শুরু করে একটি বিশাল কারাগার কমপ্লেক্সও ছিল। কিন্তু ২০২১ সালে মার্কিন সেনারা দেশ ছাড়ার পর থেকেই ঘাঁটিটি তালেবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

