বরগুনার আমতলীতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান খাঁনের পক্ষে মানববন্ধন করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের একাংশ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমরান খাঁনের নেতৃত্বে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউএনও রোকনুজ্জামান খাঁন এ বছর ১৩ মে আমতলীতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতের একাংশ বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এতদিন মুখ খোলেনি।

গত ৬ এপ্রিল তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মতিয়ার রহমান, সহ–সভাপতি গাজী সামসুল হক ও আওয়ামী নেতা বশির মৃধাসহ কয়েকজনের সঙ্গে আমতলী চৌরাস্তায় “সকাল–সন্ধ্যা হোটেলের” ভিআইপি কক্ষে বৈঠক ও নৈশভোজে অংশ নেন বলে জানা গেছে। বৈঠকের ছবি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনার জন্ম দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, ইউএনও রোকনুজ্জামান আওয়ামী লীগ সিনিয়র সহ–সভাপতি নুরুল ইসলাম মৃধার ছেলে, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বিপ্লবের সঙ্গেও নিয়মিত চলাফেরা করেন। এসব ঘটনায় বিএনপি–জামায়াতের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

বিএনপি নেতাদের একাংশের দাবি, “নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসরদের সঙ্গে ইউএনওর গোপন বৈঠক প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে।” এ নিয়ে বৃহস্পতিবার কিছু জাতীয় দৈনিকে ছবিসহ প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।

এর প্রতিবাদে ইউএনও রোকনুজ্জামানকে রক্ষায় উপজেলা ছাত্রদলের বিতর্কিত সদস্য সচিব ইমরান খাঁনের নেতৃত্বে মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা, ইমরানের বাবা ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মকবুল আহমেদ খাঁন, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব জালাল খাঁন, ইমরানের ভাই এনামুল হক বাচ্চু খাঁন এবং উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি জাহাঙ্গির হোসেন।

যোগাযোগের চেষ্টা করেও উপজেলা ছাত্রদল সদস্য সচিব ইমরান খাঁনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা বলেন, “একটি ছবি দিয়ে কিছুই প্রমাণ হয় না। ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে দোষারোপ করা উচিত নয়।”

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউএনও ও আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠতা, আর তা রক্ষায় বিএনপি–ছাত্রদলের মানববন্ধন—দুই পক্ষের অস্বাভাবিক রাজনৈতিক মেলবন্ধন এখন আমতলীতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।