ঢাকা , শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জামায়াতের ফেসবুক পেজে বিজয়ী ৩৮ প্রার্থীর নাম ৫০ কেন্দ্রে জামায়াত প্রার্থী ডা. তাহের বড় ব্যবধানে এগিয়ে ঢাকা-১০ আসনে ৪ কেন্দ্রের ফলে এগিয়ে বিএনপি যশোর-২ চৌগাছা ৬০ কেন্দ্রে জামায়াত এগিয়ে, ধানের শীষ পেছনে কুষ্টিয়া-৩ আসনে ৪৫ কেন্দ্রে এগিয়ে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মুফতি আমির হামজা নিজ কেন্দ্রে ৫ ভোটে পরাজিত জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান, জয়ী ধানের শীষের শফিকুল ইসলাম খান ধানের শীষে বিজয়ী নাসির উদ্দিন চৌধুরী, শুভেচ্ছা জানালেন জামায়াত প্রার্থী শিশির মনির ঝিনাইদহ-১ আসনে ধানের শীষে জয়ী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ঢাকা-১৫ আসনে ৩০ কেন্দ্রে এগিয়ে ডা. শফিকুর রহমান, দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ ভোটগ্রহণ ঢাকা-৬ আসনে তিন কেন্দ্রে এগিয়ে ইশরাক হোসেন, ধানের শীষে ২৮০০ ভোট

দেশের জন্য আবু সাঈদের মতো বুক পেতে দিতে রাজি আছি: জামায়াতে আমির

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

এবার জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যেভাবে আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়েছিলো, দেশের জন্য ওইভাবে বুক পেতে দিতে রাজি আছি। কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মান কারো কাছে বন্ধক রাখবো না। উত্তরাঞ্চল সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল নয়টায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপুর বামনপাড়ায় শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কথা দিচ্ছি, জীবন যাবে তবুও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না। যেভাবে আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়েছিলো, দেশের জন্য ওইভাবে বুক পেতে দিতে রাজি আছি। কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মান কারো কাছে বন্ধক রাখব না। আল্লাহ যেন এই তৌফিক দান করেন। আমরা এগিয়ে যাবো, সবাই মিলে এগিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখানে এসেছিলাম আমাদের আবেগের ঠিকানা, আপনাদের কলিজার টুকরা শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে মোলাকাত করার জন্য। আমরা কৃতজ্ঞ এই শহীদ পরিবারটি ভালোবাসা দিয়ে আমাদেরকে এখানে গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা এই পরিবারের এবং তাদের উছিলায় এই এলাকার সমস্ত মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আবু সাঈদসহ শহীদদের স্মরণ করে জামায়াতের আমীর বলেন, আমরা অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি, শহীদ আবু সাঈদ এবং তার সঙ্গীরা যারা জীবন দিয়ে আমাদেরকে ঋণী করে গিয়েছেন, আমাদের ঘাড়ে তারা যে দায়িত্বের বোঝা রেখে গিয়েছেন, যে আমানতের বোঝা রেখে গিয়েছেন— জীবন দিয়ে হলেও তাদের সেই আমানত রক্ষা করার জন্য আমরা লড়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।

শফিকুর রহমান বলেন, তাদের আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশা ছিলো, একটি দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, দুঃশাসনমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার। যে বাংলাদেশে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করবে এবং যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী, দক্ষতা অনুযায়ী জাতি গঠনে, উন্নয়নে অবদান রাখবে। এখানে কোনো ধরনের বৈষম্য হবে না। এর জন্য তারা রাস্তায় নেমে স্লোগান দিয়েছিল, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমরা সেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আল্লাহ আমাদের এই কমিটমেন্ট পূরণ করার তৌফিক দান করুন। আমরা তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের নিজস্ব কোনো এজেন্ডা নাই। আপনারা দেখেছেন ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত আমরা কোনো চাঁদাবাজি করি নাই, আমরা কোনো দখলদারি করি নাই, আমরা কোনো দুর্নীতি করি নাই। আমরা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করি নাই, আমরা কারো ওপর ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশোধ নেই নাই। বরঞ্চ আমরা চেয়েছি একটি শান্তির বাংলাদেশ গঠন করার জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে। আমরা আমাদের জাতিকে বিভক্ত হতে দেবো না।

এই বিভক্তির অবসান ঘটানোর জন্যই আমরা দশটি দল একত্রিত হয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দশে মিলে আপনাদের সামনে এসেছি। আমরা বাংলাদেশের ৩০০ আসনে পারস্পরিক সমঝতার ভিত্তিতে বিভিন্ন দল থেকে প্রার্থী দিয়েছি। এখানেও আমার সঙ্গে কিছু প্রার্থী আছেন। বিশেষ করে এই আসনে দশ দলের পক্ষ থেকে যাকে দেওয়া হয়েছে, একজন মুফাসসিরে কোরআন, বিশিষ্ট আলেম দ্বীন, সারা বাংলাদেশের মানুষ যাকে মহব্বত করে, যাকে চিনে, সেই রকম একটা কণ্ঠ, একটা ব্যক্তিত্ব, আপনাদেরই এক সন্তান আপনাদের কাছে আমরা দিয়েছি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতের ফেসবুক পেজে বিজয়ী ৩৮ প্রার্থীর নাম

দেশের জন্য আবু সাঈদের মতো বুক পেতে দিতে রাজি আছি: জামায়াতে আমির

আপডেট সময় ১২:৩৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

এবার জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যেভাবে আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়েছিলো, দেশের জন্য ওইভাবে বুক পেতে দিতে রাজি আছি। কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মান কারো কাছে বন্ধক রাখবো না। উত্তরাঞ্চল সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল নয়টায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপুর বামনপাড়ায় শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কথা দিচ্ছি, জীবন যাবে তবুও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না। যেভাবে আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়েছিলো, দেশের জন্য ওইভাবে বুক পেতে দিতে রাজি আছি। কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মান কারো কাছে বন্ধক রাখব না। আল্লাহ যেন এই তৌফিক দান করেন। আমরা এগিয়ে যাবো, সবাই মিলে এগিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখানে এসেছিলাম আমাদের আবেগের ঠিকানা, আপনাদের কলিজার টুকরা শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে মোলাকাত করার জন্য। আমরা কৃতজ্ঞ এই শহীদ পরিবারটি ভালোবাসা দিয়ে আমাদেরকে এখানে গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা এই পরিবারের এবং তাদের উছিলায় এই এলাকার সমস্ত মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আবু সাঈদসহ শহীদদের স্মরণ করে জামায়াতের আমীর বলেন, আমরা অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি, শহীদ আবু সাঈদ এবং তার সঙ্গীরা যারা জীবন দিয়ে আমাদেরকে ঋণী করে গিয়েছেন, আমাদের ঘাড়ে তারা যে দায়িত্বের বোঝা রেখে গিয়েছেন, যে আমানতের বোঝা রেখে গিয়েছেন— জীবন দিয়ে হলেও তাদের সেই আমানত রক্ষা করার জন্য আমরা লড়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।

শফিকুর রহমান বলেন, তাদের আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশা ছিলো, একটি দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, দুঃশাসনমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার। যে বাংলাদেশে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করবে এবং যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী, দক্ষতা অনুযায়ী জাতি গঠনে, উন্নয়নে অবদান রাখবে। এখানে কোনো ধরনের বৈষম্য হবে না। এর জন্য তারা রাস্তায় নেমে স্লোগান দিয়েছিল, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমরা সেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আল্লাহ আমাদের এই কমিটমেন্ট পূরণ করার তৌফিক দান করুন। আমরা তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের নিজস্ব কোনো এজেন্ডা নাই। আপনারা দেখেছেন ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত আমরা কোনো চাঁদাবাজি করি নাই, আমরা কোনো দখলদারি করি নাই, আমরা কোনো দুর্নীতি করি নাই। আমরা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করি নাই, আমরা কারো ওপর ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশোধ নেই নাই। বরঞ্চ আমরা চেয়েছি একটি শান্তির বাংলাদেশ গঠন করার জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে। আমরা আমাদের জাতিকে বিভক্ত হতে দেবো না।

এই বিভক্তির অবসান ঘটানোর জন্যই আমরা দশটি দল একত্রিত হয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দশে মিলে আপনাদের সামনে এসেছি। আমরা বাংলাদেশের ৩০০ আসনে পারস্পরিক সমঝতার ভিত্তিতে বিভিন্ন দল থেকে প্রার্থী দিয়েছি। এখানেও আমার সঙ্গে কিছু প্রার্থী আছেন। বিশেষ করে এই আসনে দশ দলের পক্ষ থেকে যাকে দেওয়া হয়েছে, একজন মুফাসসিরে কোরআন, বিশিষ্ট আলেম দ্বীন, সারা বাংলাদেশের মানুষ যাকে মহব্বত করে, যাকে চিনে, সেই রকম একটা কণ্ঠ, একটা ব্যক্তিত্ব, আপনাদেরই এক সন্তান আপনাদের কাছে আমরা দিয়েছি।