এবার ভারতে গরুকে ‘জাতীয় পশু’ ঘোষণার দাবি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাবরি মসজিদ–রাম জন্মভূমি মামলার সাবেক বাদী ইকবাল আনসারি সম্প্রতি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি গরুর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে গরুকে ‘জাতীয় পশু’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব দেন। এএনআইকে তিনি বলেন, ভারতে গরুর রয়েছে গভীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব, যা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তার মতে, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ বিষয়ে সকলেরই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
আনসারি আরও দাবি করেন, গরুকে ‘গোমাতা’ হিসেবে দেখা হয় এবং তাই মুসলিমদেরও এর প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। তিনি গরু জবাইয়ের প্রথা বন্ধের পক্ষেও মত দেন। তার মতে, ধর্মীয় সহাবস্থান ও সামাজিক শান্তির স্বার্থে এ ধরনের চর্চা এড়িয়ে চলাই উত্তম। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইসলাম ধর্মেও গরুর মাংস খাওয়ার বিষয়ে কঠোরভাবে নির্দেশনা নেই এবং গরুর দুধসহ অন্যান্য উপাদান স্বাস্থ্যগতভাবে উপকারী। এর আগে কলকাতার নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসমিও একই ধরনের আহ্বান জানিয়ে মুসলিমদের গরু কোরবানি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। তিনি গরুকে ‘জাতীয় পশু’ ঘোষণার দাবির প্রতি সমর্থন জানান এবং ধর্মীয় সহাবস্থান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় স্থানগুলোতে লাউডস্পিকার ব্যবহারের বিধিনিষেধ নিয়ে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় নেতা মাওলানা শফিক কাসমি অভিযোগ করেন, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন মাইক ব্যবহারে কঠোরতা আরোপ করছে। তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নির্ধারিত ডেসিবেল সীমার মধ্যেই মাইক ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, ফলে সম্পূর্ণভাবে মাইক অপসারণের দাবি আইনসম্মত নয়। এদিকে আজমির দরগাহর ধর্মীয় নেতা সৈয়দ সারওয়ার চিশতিও কেন্দ্রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গরুকে ‘জাতীয় পশু’ ঘোষণার দাবি তোলেন। তিনি একইসঙ্গে দেশব্যাপী গরু জবাই নিষিদ্ধ করার জন্য আইন প্রণয়নেরও অনুরোধ জানান এবং বিষয়টি সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডেকে আলোচনার আহ্বান করেন। তার মতে, এ ইস্যুকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে রেখে সাংবিধানিক ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির আলোকে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে গরু দুধ দেওয়া বন্ধ করলে তাকে অবহেলায় রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হয়, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের পরিস্থিতি রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি গরু জবাই সংক্রান্ত অভিযোগে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনাগুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই ধর্মীয় নেতা। সব মিলিয়ে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরু জবাই, ধর্মীয় অনুভূতি এবং প্রশাসনিক নীতিমালা—এই তিনটি ইস্যু আবারও ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























