ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যামলীতে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনায় শিশুর মৃত্যু

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:০৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর শ্যামলীতে গ্যাস লিকেজে শ্যামলী বেবী কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর সংকটাপন্ন অবস্থায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে আরও পাঁচ শিশুকে।

হাসপাতালটির বিলিং ইনচার্জ মো. তানভীর এশিয়া পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালটিকে তলব করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

 

আজ বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, ২০ শয্যার হাসপাতালটি একেবারে আবদ্ধ একটি ফ্লোরে। হাসপাতালের ভেতরেই হাইকেয়ার নামে আরেকটি হাসপাতাল। হাসপাতালে বিভিন্ন জায়গায় যত্রতত্র রয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডার। এনআইসিইউর (নবজাতক কেয়ার ইউনিট) পাশে ছোট একটি কক্ষে অক্সিজেন সরবরাহ সিস্টেম। সেখানে ভেতরে ও বাইরে অক্সিজেন সিলিন্ডারের স্তূপ দেখা গেছে।

 

হাসপাতালটির তথ্যমতে, সংকটাপন্ন শিশুদের চিকিৎসা দিতে এনআইসিইউ ও পিআইসিইউ (পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) শয্যা রয়েছে ১১টি। এ ছাড়া ১১ শয্যার আইসিইউ ইউনিট চালুর প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যেই ঘটেছে অক্সিজেন লিকেজের শিশু মৃত্যুর ঘটনা।

 

এস বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাসপাতাল ঘুরে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মচারীদের পাওয়া গেলেও ঊর্ধ্বতন কাউকে পাওয়া যায়নি।

 

ঘটনার সময় হাসপাতালে ছিলেন বিলিং ইনচার্জ তানভীর। এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, ‘অক্সিজেন লাইনের ত্রুটির কারণে লিকেজ হয়েছে। অনেকেই বলছেন বিস্ফোরণ হয়েছে, যা সত্য নয়। বিস্ফোরণ হলে তো পুরো ভবন কেঁপে উঠত। বহু হতাহতের ঘটনা ঘটত।’

 

তানভীরের দাবি, গ্যাস লিকেজ হলে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে হাসপাতালে থাকা ছয় শিশুকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে সরিয়ে নেওয়ার আগেই শিশু ফাইজের মৃত্যু হয়। তার অবস্থা আগে থেকে সংকটাপন্ন ছিল। বাকিদের হাসপাতাল ভবনেই আরেক হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের চিকিৎসার খোঁজ রাখা হচ্ছে।

সিলিন্ডার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটাই সমস্যা এখানে। জায়গা কম হওয়ায় মূলত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এসে সবকিছু নোট করেছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতালের কাগজপত্র নিয়ে অধিদপ্তরে থাকতে বলেছেন।’

 

হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিল, এমন এক শিশুর মা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এনআইসিইউর সামনে অক্সিজেন থেকে জোর শব্দ হয়। কিছুক্ষণ পর এনআইসিইউতে থাকা একটা বাচ্চা মারা যায়। পাশাপাশি সিলিন্ডারের পাশে থাকা এক যুবকের শরীর অনেকটা ক্ষতি হয়েছে। পরে তাকে কোন হাসপাতালে জানি নিয়েছে।’

 

এ সময় হাসপাতালটিতে পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার কর্মকর্তা ডা. আহসান। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমরা সবকিছু ঘুরে দেখেছি। হাসপাতালটিতে বর্তমানে কোনো রোগী নেই। কর্তৃপক্ষকে হাসপাতালের কাগজপত্র নিয়ে আগামীকাল অধিদপ্তরে হাজির হতে বলা হয়েছে।’

 

এর আগে গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনার পর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

 

তদন্ত প্রতিবেদনে দায়িত্বে অবহেলা এবং চিকিৎসকের অনুপস্থিতির সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলায় ৪ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষের দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

 

লাইসেন্স বাতিলের পর হাসপাতালটিতে নতুন রোগী ভর্তি এবং জরুরি বিভাগসহ বহির্বিভাগের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামলীতে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনায় শিশুর মৃত্যু

আপডেট সময় ০৯:০৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

রাজধানীর শ্যামলীতে গ্যাস লিকেজে শ্যামলী বেবী কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর সংকটাপন্ন অবস্থায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে আরও পাঁচ শিশুকে।

হাসপাতালটির বিলিং ইনচার্জ মো. তানভীর এশিয়া পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালটিকে তলব করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

 

আজ বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, ২০ শয্যার হাসপাতালটি একেবারে আবদ্ধ একটি ফ্লোরে। হাসপাতালের ভেতরেই হাইকেয়ার নামে আরেকটি হাসপাতাল। হাসপাতালে বিভিন্ন জায়গায় যত্রতত্র রয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডার। এনআইসিইউর (নবজাতক কেয়ার ইউনিট) পাশে ছোট একটি কক্ষে অক্সিজেন সরবরাহ সিস্টেম। সেখানে ভেতরে ও বাইরে অক্সিজেন সিলিন্ডারের স্তূপ দেখা গেছে।

 

হাসপাতালটির তথ্যমতে, সংকটাপন্ন শিশুদের চিকিৎসা দিতে এনআইসিইউ ও পিআইসিইউ (পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) শয্যা রয়েছে ১১টি। এ ছাড়া ১১ শয্যার আইসিইউ ইউনিট চালুর প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যেই ঘটেছে অক্সিজেন লিকেজের শিশু মৃত্যুর ঘটনা।

 

এস বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাসপাতাল ঘুরে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মচারীদের পাওয়া গেলেও ঊর্ধ্বতন কাউকে পাওয়া যায়নি।

 

ঘটনার সময় হাসপাতালে ছিলেন বিলিং ইনচার্জ তানভীর। এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, ‘অক্সিজেন লাইনের ত্রুটির কারণে লিকেজ হয়েছে। অনেকেই বলছেন বিস্ফোরণ হয়েছে, যা সত্য নয়। বিস্ফোরণ হলে তো পুরো ভবন কেঁপে উঠত। বহু হতাহতের ঘটনা ঘটত।’

 

তানভীরের দাবি, গ্যাস লিকেজ হলে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে হাসপাতালে থাকা ছয় শিশুকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে সরিয়ে নেওয়ার আগেই শিশু ফাইজের মৃত্যু হয়। তার অবস্থা আগে থেকে সংকটাপন্ন ছিল। বাকিদের হাসপাতাল ভবনেই আরেক হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের চিকিৎসার খোঁজ রাখা হচ্ছে।

সিলিন্ডার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটাই সমস্যা এখানে। জায়গা কম হওয়ায় মূলত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এসে সবকিছু নোট করেছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতালের কাগজপত্র নিয়ে অধিদপ্তরে থাকতে বলেছেন।’

 

হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিল, এমন এক শিশুর মা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এনআইসিইউর সামনে অক্সিজেন থেকে জোর শব্দ হয়। কিছুক্ষণ পর এনআইসিইউতে থাকা একটা বাচ্চা মারা যায়। পাশাপাশি সিলিন্ডারের পাশে থাকা এক যুবকের শরীর অনেকটা ক্ষতি হয়েছে। পরে তাকে কোন হাসপাতালে জানি নিয়েছে।’

 

এ সময় হাসপাতালটিতে পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার কর্মকর্তা ডা. আহসান। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমরা সবকিছু ঘুরে দেখেছি। হাসপাতালটিতে বর্তমানে কোনো রোগী নেই। কর্তৃপক্ষকে হাসপাতালের কাগজপত্র নিয়ে আগামীকাল অধিদপ্তরে হাজির হতে বলা হয়েছে।’

 

এর আগে গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনার পর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

 

তদন্ত প্রতিবেদনে দায়িত্বে অবহেলা এবং চিকিৎসকের অনুপস্থিতির সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলায় ৪ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষের দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

 

লাইসেন্স বাতিলের পর হাসপাতালটিতে নতুন রোগী ভর্তি এবং জরুরি বিভাগসহ বহির্বিভাগের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।