ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে পিছু হটতে বাধ্য করলো ইরান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৪৪:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
  • ৩৫৯ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা। ইরান জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে তাদের আঞ্চলিক জলসীমার দিকে এগিয়ে আসা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে সতর্ক করে পিছু হটতে বাধ্য করেছে তারা। যদিও মার্কিন সেনাবাহিনী দাবি করছে, পুরো ঘটনা ছিল “পেশাদার ও নিরাপদ”, এবং এতে তাদের অভিযানে কোনো প্রভাব পড়েনি।

এ ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৩ জুলাই) সকালে (স্থানীয় সময় সকাল ১০টা) যখন ইউএসএস ফিটজেরাল্ড (USS Fitzgerald) নামক অ্যারলেই বার্ক-শ্রেণির গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইরানের জলসীমার কাছাকাছি চলে আসে। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ইরানি হেলিকপ্টার যুদ্ধজাহাজটির ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে এবং রেডিওর মাধ্যমে ইংরেজিতে সতর্কবার্তা দিচ্ছে, যাতে জাহাজটি কোর্স পরিবর্তন করে।

ইরানি বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধজাহাজটি তাদের জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করলে ইরানি হেলিকপ্টার গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ভিডিওতে শোনা যায়, একজন ইরানি অফিসার স্পষ্ট ভাষায় বলে দিচ্ছেন “এই পথ ইরানের তদারকিতে রয়েছে, কোর্স পরিবর্তন করুন।” এ ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এটিকে ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ মুখোমুখি অবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছে।তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) বলছে, এটি ছিল আন্তর্জাতিক জলসীমায় সংঘটিত একটি “পেশাদার ও নিরাপদ” ইন্টারঅ্যাকশন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) রয়টার্সকে জানান, ইরান এই ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করছে। এই ঘটনার ফলে ইউএসএস ফিটজেরাল্ডের মিশনে কোনো ধরনের বাধা আসেনি। তিনি আরও জানান, ইরানি হেলিকপ্টারটি ছিল একটি SH-3 ‘সি কিং’, এবং তারা কোনওভাবেই মার্কিন জাহাজকে হুমকি দিতে পারেনি। এই ঘটনাটি ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম সামরিক মুখোমুখি হওয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধরত অবস্থায় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে “চমৎকার সাফল্য” বলে উল্লেখ করলেও মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, কেবল ‘ফোর্দো’ নামক একটি স্থাপনাই ধ্বংস হয়েছে। এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, “ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। তিনি আরও বলেন, “বর্তমান যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে কিনা তা নিয়ে তিনি আশাবাদী নন।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে পিছু হটতে বাধ্য করলো ইরান

আপডেট সময় ১১:৪৪:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা। ইরান জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে তাদের আঞ্চলিক জলসীমার দিকে এগিয়ে আসা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে সতর্ক করে পিছু হটতে বাধ্য করেছে তারা। যদিও মার্কিন সেনাবাহিনী দাবি করছে, পুরো ঘটনা ছিল “পেশাদার ও নিরাপদ”, এবং এতে তাদের অভিযানে কোনো প্রভাব পড়েনি।

এ ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৩ জুলাই) সকালে (স্থানীয় সময় সকাল ১০টা) যখন ইউএসএস ফিটজেরাল্ড (USS Fitzgerald) নামক অ্যারলেই বার্ক-শ্রেণির গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইরানের জলসীমার কাছাকাছি চলে আসে। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ইরানি হেলিকপ্টার যুদ্ধজাহাজটির ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে এবং রেডিওর মাধ্যমে ইংরেজিতে সতর্কবার্তা দিচ্ছে, যাতে জাহাজটি কোর্স পরিবর্তন করে।

ইরানি বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধজাহাজটি তাদের জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করলে ইরানি হেলিকপ্টার গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ভিডিওতে শোনা যায়, একজন ইরানি অফিসার স্পষ্ট ভাষায় বলে দিচ্ছেন “এই পথ ইরানের তদারকিতে রয়েছে, কোর্স পরিবর্তন করুন।” এ ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এটিকে ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ মুখোমুখি অবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছে।তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) বলছে, এটি ছিল আন্তর্জাতিক জলসীমায় সংঘটিত একটি “পেশাদার ও নিরাপদ” ইন্টারঅ্যাকশন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) রয়টার্সকে জানান, ইরান এই ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করছে। এই ঘটনার ফলে ইউএসএস ফিটজেরাল্ডের মিশনে কোনো ধরনের বাধা আসেনি। তিনি আরও জানান, ইরানি হেলিকপ্টারটি ছিল একটি SH-3 ‘সি কিং’, এবং তারা কোনওভাবেই মার্কিন জাহাজকে হুমকি দিতে পারেনি। এই ঘটনাটি ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম সামরিক মুখোমুখি হওয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধরত অবস্থায় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে “চমৎকার সাফল্য” বলে উল্লেখ করলেও মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, কেবল ‘ফোর্দো’ নামক একটি স্থাপনাই ধ্বংস হয়েছে। এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, “ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। তিনি আরও বলেন, “বর্তমান যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে কিনা তা নিয়ে তিনি আশাবাদী নন।”