এবার হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম না মানা জাহাজ পরবর্তীবার প্রণালিটি দিয়ে যাওয়ার সময় জরিমানা, আটক বা জব্দের মুখে পড়তে পারে। এমনকি নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোকে সহযোগিতা করা জাহাজগুলোকেও শাস্তির তালিকায় যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, রোববার (২৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি কর্তৃপক্ষ। এমন অবস্থায় উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্য আনা–নেয়ার কাজে নিয়োজিত কোম্পানিগুলোকে কোনও জাহাজ ভাড়া করার আগে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোর হালনাগাদ তালিকা দেখে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে ইরানের এই কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোকে সহযোগিতা করা জাহাজগুলোকেও রোববার থেকে ওই তালিকায় যুক্ত করা হবে। এর মধ্যে জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তর, এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে পণ্য পরিবহন এবং এ ধরনের অন্যান্য কার্যক্রমে যুক্ত জাহাজও থাকবে। তালিকা থেকে কোনও জাহাজের নাম বাদ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে। আবেদনে তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়ার কারণও উল্লেখ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে নৌ–চলাচলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অচলাবস্থার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে এই হুঁশিয়ারি দেয়া হলো।
এর আগে গত ১৮ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। এর মাধ্যমে দুই দেশের সরাসরি সামরিক সংঘাত বন্ধ হয় এবং আরও বিস্তৃত একটি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরুর কথা ছিল। এছাড়া ওই সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা ছিল। তবে পরে ওই সমঝোতা বাস্তবায়ন এবং বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা থমকে যায় এবং এর বাস্তবায়নও আটকে যায়।

ডেস্ক রিপোর্ট 




















