এবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বা সংগঠন ছাড়া যেকোনো রাজনৈতিক দল সভা–সমাবেশ করতে পারবে এবং এতে কোনো বাধা নেই। মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারের সমালোচনা করার অধিকারও সবার রয়েছে। একইসঙ্গে বিগত সরকারের সময় কথা বলার অপরাধে লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের গ্রেপ্তারের সংস্কৃতি থেকে বর্তমান সরকার বের হয়ে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আজ সোমবার সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। বিগত ছয় মাসের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি মিরাজ শেখ গুমের অভিযোগে কোস্টগার্ডের বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে উল্লেখ তিনি বলেন, গুমের অভিযোগ তদন্তে রাষ্ট্র ভিকটিম পরিবারের পাশে রয়েছে।
গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন এবং মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে সমালোচনার জবাবও দেন আইনমন্ত্রী। তার দাবি, আগের খসড়াগুলোতে বেশ কিছু অস্পষ্টতা ছিল। যাচাই–বাছাই করে আইনগুলো নতুনভাবে সংসদে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সরকার আইন বাতিল বা আটকে দিচ্ছে—এমন প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের সুযোগ থাকবে বলেও জানান মো. আসাদুজ্জামান। তবে আইনের প্রয়োগে নিরপরাধ কেউ যেন ভুক্তভোগী না হন, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে সংবিধান সংস্কার নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দল থেকে কোনো প্রস্তাব এলে এবং তা যুক্তিসঙ্গত হলে গ্রহণের চেষ্টা করবে সরকার। বিগত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে বিচার বিভাগের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ না থাকার দাবি করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ যাচাই–বাছাইয়ের কথাও জানান আইনমন্ত্রী। সবশেষে অতীতের খুন–গুম ও রাজনৈতিক মামলা–মোকদ্দমার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানান আইনমন্ত্রী।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















