ডিম মারা অধিকার, না কি অনধিকার বা সংস্কৃতি না অপসংস্কৃতি? এ প্রশ্নে সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনীতি বিশ্লেষক শামসুল আলম লিটন বলেছেন, সংস্কৃতি-অপসংস্কৃতি যেটাই বলুন না কেন এটা সেনসেশনের দিক থেকে আমরা দেখি এবং আমরা সেভাবে দেখতে অভ্যস্ত। আমাদের সবকিছু তো ইনোভেট হয় অথবা অ্যাড হয়, সংস্কৃতিতে, চিন্তায়, চেতনায়, স্লোগানে কিংবা দেয়াল লিখনে। ডিমের যে ব্যাপারটি এটা আমাদের দেশে কম প্রচলিত হলেও পশ্চিমা দেশগুলো যেখানে গণতন্ত্র চর্চা এবং বাকস্বাধীনতা সর্বোচ্চ এবং বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব, কোথাও ফার্স্ট। অনেকগুলো রেফারেন্স তাদের নিশ্চিত করা থাকে, রাষ্ট্র সকল ক্ষেত্রে ফেইল করলেও বাক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ফেল করতে পারবে না। এই গ্যারান্টি যেসব দেশে আছে, সেখানে ডিমের সংস্কৃতি চালু আছে। এই ডিমটি হচ্ছে প্রতিবাদের একটা ভাষা।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিবাদের সঙ্গে ডিম নিক্ষেপ সংস্কৃতি কীভাবে যুক্ত- এর উদাহরণ দিয়ে শামসুল আলম লিটন বলেন, সর্বশেষ যে ডিমের ঘটনাটি বিলেতে আলোচিত হয়েছিল, সেটা ছিল পরিবেশমন্ত্রী কোনো পরিবেশবিরোধী সিদ্ধান্তকে পরিবেশবাদীরা তখন ডিমকে তারা অনেক রং মিশিয়ে এর মধ্যে রংটা ব্লু বেশি ছিল।
কারণ পরিবেশপন্থী কালার একটু বেশি দেখা যায়। ডিম নিক্ষেপে উনার একেবারে কিন্তু পুরোটাই ভিজে গেছে। এই কারণে এবং পরবর্তীতে এই ঘটনার জের ধরে কিন্তু ওটা ব্যাপক প্রভাব তৈরি হয়েছে। কী কারণে? কারণ হচ্ছে যখন ওখানে প্রটেস্ট হয়, যেখানে আসলে তো আমরা কি পাবলিক মানুষকে শুনি? আমাদের সরকার ব্যবস্থা এবং রাজনীতিকে কি মানুষকে শোনে? মানুষের কথা কি গুরুত্ব দেয়? গুরুত্ব দেয় না বলে প্রতিবাদের নতুন নতুন ভাষা এখানে সংযোজিত হচ্ছে এবং অপমান করার টুল হিসেবে এটা হচ্ছে।
আরেকটা হচ্ছে যে মোটিভ। এখানে মোটিভটা খুবই স্বাভাবিক, আমরা এটাতে অভ্যস্ত না এবং আমাদের রাজনীতিকরা জনগণের প্রতিক্রিয়া শুনতে সরাসরি অভ্যস্ত না। যে যেটা করুক সে নিজে এঞ্জেল। সে সরকারে থাকুক, আর বিরোধী দলে থাকুক- এঞ্জেল। আমার মনে হয় যে রাজনীতিকদের যে যেখানেই পজিশন, অপোজিশন যেখানেই থাকুক না কেন তাদের যে একাউন্টেবিলিটির প্রশ্ন এবং সেখানে তাদের প্রত্যেকটি প্রতিবাদের ভাষা সম্পর্কে এবং জনগণের মনোভাব সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত এবং কোন জায়গায় মানুষ কতটা অ্যাগ্রেসিভ হতে পারে সে ব্যাপারে ধারণা থাকা উচিত।
ডিম নিক্ষেপকে সমর্থন করছেন অথবা ডিম নিক্ষেপের সংস্কৃতিকে সাপোর্ট করছেন? এ বিষয়ে তিনি বলেন, নো। এটা সংস্কৃতির অংশ? লিটন বলেন, সংস্কৃতির অংশ এখনো হয়নি। বাংলাদেশের রিসেন্টলি জুলাইয়ের যারা বিভিন্ন জায়গায় আসামি আছে এবং তারা খুবই হাই প্রোফাইল আসামি। এই আসামিরা গত কয়েক বছর তাদের যে গণহত্যায়, জুলাই গণহত্যায় উসকানি দিয়েছে এবং গত কয়েক বছর গণতন্ত্র সম্পর্কে খুবই অসম্মানজনক কথা বলেছে, রাজনীতি সম্পর্কে অনেক অসম্মানজনক কথা বলেছে, পুরো নেশনকে বারবার মানুষের যে মৌলিক অধিকার সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে, সুতরাং মানুষের প্রকাশের এটি (ডিম নিক্ষেপ) একটি ভাষা উল্লেখ হয়েছে। এখনো যেহেতু এতে আমরা অভ্যস্ত নই, আমরা একে অপসংস্কৃতি বলতে অভ্যস্ত হব।

