ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

হাদিকে আমার কাছে গিনিপিগ ছাড়া আর কিছুই মনে হয় নাই: নিলুফার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮৫২ বার পড়া হয়েছে

এবার আততায়ীর গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘গিনিপিগ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি। তার এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে এমন মন্তব্যের জন্য মনির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন অনেকে। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে আব্দুন নূর তুষারের সঞ্চালনায় ‘চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়’ শীর্ষক চ্যানেল নাইন আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘নাইন সংলাপে’ অংশ নিয়ে নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, ‘হাদিকে আমার কাছে এই মুহূর্তে একটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ গিনিপিগ ছাড়া আর কিছুই মনে হয় নাই। আপনারা যারা ডাক্তার, এখানে অনেকে আছেন, আপনারা তেলাপোকা কাটতেন, সেলাই-টেলাই করে ছেড়ে দিতেন—চলত। বাট হাদি হয়তো চলতে পারে নাই।’

এ সময় সঞ্চালক আব্দুন নূর তুষার আলোচকদের উদ্দেশে হাদিকে নিয়ে কোনো আপত্তিকর বক্তব্য না দেওয়ার অনুরোধ জানান। একপর্যায়ে তিনি নিলুফার চৌধুরী মনির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন রাখেন—কেউ কি ওসমান হাদিকে ব্যবহার করে কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করেছে বলে তিনি মনে করেন? জবাবে মনি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। এটা বলার কোনো অপেক্ষাই রাখে না। যদি এটা না হতো, হাদির দলের কয়টা লোক ছিল বা আছে বলেন? আমি তাঁকে ছোট করে বলছি না, আমি তার দলটাকে বলছি। এত মানুষ সারা দেশ থেকে এলো বা আনা হলো—এটার মধ্যে বড় একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন আছে। এই প্রশ্নবোধক চিহ্নটা নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করছে।’

অনুষ্ঠানেই মনির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর। তিনি বলেন, ‘হাদি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না। ইনকিলাব মঞ্চও কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সামাজিক সংগঠন। তিনি সমাজের দুর্নীতি, অপতৎপরতা ও গণতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।’ হুমায়রা নূর বলেন, ‘হাদির জানাজার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা কষ্টদায়ক। যারা জানাজায় এসেছিলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের ডাকে আসেননি। তারা এসেছিলেন একজন মানুষ ওসমান হাদির জন্য।’ এই সংলাপে আরও অংশ নেন এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. জাহেদ উর রহমান এবং সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল।

এদিকে মনির বক্তব্যের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদিন শিশির ফেসবুকে লেখেন, শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে এমন মন্তব্য ‘অমর্যাদাকর’ এবং তিনি এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ লেখেন, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেত্রীর কাছ থেকে এমন বক্তব্য অনভিপ্রেত। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া আপ-বাংলাদেশের চিফ কো-অর্ডিনেটর রাফে সালমান রিফাতসহ আরও অনেকে মনির বক্তব্যের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সমন্বয়কের কাছে চাঁদা দাবি ও জমি দখলের চেষ্টা

হাদিকে আমার কাছে গিনিপিগ ছাড়া আর কিছুই মনে হয় নাই: নিলুফার

আপডেট সময় ০১:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার আততায়ীর গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘গিনিপিগ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি। তার এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে এমন মন্তব্যের জন্য মনির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন অনেকে। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে আব্দুন নূর তুষারের সঞ্চালনায় ‘চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়’ শীর্ষক চ্যানেল নাইন আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘নাইন সংলাপে’ অংশ নিয়ে নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, ‘হাদিকে আমার কাছে এই মুহূর্তে একটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ গিনিপিগ ছাড়া আর কিছুই মনে হয় নাই। আপনারা যারা ডাক্তার, এখানে অনেকে আছেন, আপনারা তেলাপোকা কাটতেন, সেলাই-টেলাই করে ছেড়ে দিতেন—চলত। বাট হাদি হয়তো চলতে পারে নাই।’

এ সময় সঞ্চালক আব্দুন নূর তুষার আলোচকদের উদ্দেশে হাদিকে নিয়ে কোনো আপত্তিকর বক্তব্য না দেওয়ার অনুরোধ জানান। একপর্যায়ে তিনি নিলুফার চৌধুরী মনির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন রাখেন—কেউ কি ওসমান হাদিকে ব্যবহার করে কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করেছে বলে তিনি মনে করেন? জবাবে মনি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। এটা বলার কোনো অপেক্ষাই রাখে না। যদি এটা না হতো, হাদির দলের কয়টা লোক ছিল বা আছে বলেন? আমি তাঁকে ছোট করে বলছি না, আমি তার দলটাকে বলছি। এত মানুষ সারা দেশ থেকে এলো বা আনা হলো—এটার মধ্যে বড় একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন আছে। এই প্রশ্নবোধক চিহ্নটা নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করছে।’

অনুষ্ঠানেই মনির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর। তিনি বলেন, ‘হাদি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না। ইনকিলাব মঞ্চও কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সামাজিক সংগঠন। তিনি সমাজের দুর্নীতি, অপতৎপরতা ও গণতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।’ হুমায়রা নূর বলেন, ‘হাদির জানাজার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা কষ্টদায়ক। যারা জানাজায় এসেছিলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের ডাকে আসেননি। তারা এসেছিলেন একজন মানুষ ওসমান হাদির জন্য।’ এই সংলাপে আরও অংশ নেন এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. জাহেদ উর রহমান এবং সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল।

এদিকে মনির বক্তব্যের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদিন শিশির ফেসবুকে লেখেন, শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে এমন মন্তব্য ‘অমর্যাদাকর’ এবং তিনি এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ লেখেন, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেত্রীর কাছ থেকে এমন বক্তব্য অনভিপ্রেত। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া আপ-বাংলাদেশের চিফ কো-অর্ডিনেটর রাফে সালমান রিফাতসহ আরও অনেকে মনির বক্তব্যের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।