ঢাকা , রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সত্যিকারের শত্রুকে শনাক্ত করুন, মুসলিম দেশগুলোকে মোজতবা খামেনির আহ্বান টানা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে বিদ্যুৎকর্মীকে ধরে কসম খাওয়াল গ্রামবাসী বিএনপি নেতা ইসহাক হত্যা মামলায় শাহজাহান ওমর শ্যোন অ্যারেস্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্বের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে রিট নতুন কমিটি নিয়ে নোয়াখালীতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫ ভয়াবহ বন্যার স্রোত ধেয়ে আসতেই ঘণ্টা বাজালেন প্রধান শিক্ষক, বাঁচল ১৬৪৩ প্রাণ লন্ডনে মদের বার কিনে মসজিদে রূপান্তর করলেন বাংলাদেশি রাসেল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন দিল্লিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হানাদার বাহিনীর মতই আচরণ করেছে শেখ হাসিনা সরকার: ইশরাক মানবাধিকার কমিশন বিল পাসের কোনও প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকবে না বিরোধী দল

ইসলামী ব্যাংক দখলে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ২৪৬ বার পড়া হয়েছে

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন ছিল দেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি। প্রায় আট বছর পর সেই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নাম। হাইকোর্টে জমা দেওয়া বিএফআইইউর এক তদন্ত প্রতিবেদনে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ এস আলম গ্রুপের হাতে যাওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট—বিএফআইইউর তদন্ত প্রতিবেদনে এ ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

হাইকোর্টে জমা দেওয়া ৪২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকা অবস্থায় সাহাবুদ্দিন এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, চারটি স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানেও তার সংশ্লিষ্টতার বিষয় উঠে এসেছে।

তদন্তে অভিযোগ করা হয়, ব্যাংক থেকেই অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ বের করে সেই অর্থ দিয়েই ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনা হয়। পরে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনেরও অভিযোগ রয়েছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। একই সঙ্গে বিএফআইইউসহ বিভিন্ন সংস্থা শেয়ার অধিগ্রহণ, ঋণ বিতরণ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান কর্তৃপক্ষ সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে শেয়ার জালিয়াতি, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং ব্যাংকের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মামলা করে। মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত সব তথ্য ও অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সত্যিকারের শত্রুকে শনাক্ত করুন, মুসলিম দেশগুলোকে মোজতবা খামেনির আহ্বান

ইসলামী ব্যাংক দখলে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

আপডেট সময় ০৩:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন ছিল দেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি। প্রায় আট বছর পর সেই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নাম। হাইকোর্টে জমা দেওয়া বিএফআইইউর এক তদন্ত প্রতিবেদনে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ এস আলম গ্রুপের হাতে যাওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট—বিএফআইইউর তদন্ত প্রতিবেদনে এ ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

হাইকোর্টে জমা দেওয়া ৪২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকা অবস্থায় সাহাবুদ্দিন এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, চারটি স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানেও তার সংশ্লিষ্টতার বিষয় উঠে এসেছে।

তদন্তে অভিযোগ করা হয়, ব্যাংক থেকেই অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ বের করে সেই অর্থ দিয়েই ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনা হয়। পরে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনেরও অভিযোগ রয়েছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। একই সঙ্গে বিএফআইইউসহ বিভিন্ন সংস্থা শেয়ার অধিগ্রহণ, ঋণ বিতরণ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান কর্তৃপক্ষ সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে শেয়ার জালিয়াতি, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং ব্যাংকের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মামলা করে। মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত সব তথ্য ও অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর।