ঢাকা , শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নেদারল্যান্ডসে ভিসা প্রত্যাখ্যান, উদ্বেগ জানাল বাংলাদেশ যে কারণে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তে যাচ্ছে না আইওসি পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান এবার মোদির উচিত দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে ক্ষমা চাওয়া: কংগ্রেস শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেও হচ্ছে না কাজ, আরও ৩ দাবি বিক্ষোভকারীদের প্রথমবারের মতো ইরানে হামলা বাহরাইন-কুয়েতের  হুথিরা কোথায় থেকে হামলা চালাচ্ছে খুঁজেই পাচ্ছে না সৌদি আরব ‘ছাত্রশক্তির জয়’—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর তেলাপোকা পার্টির পোস্ট প্রশ্নফাঁসের প্রথম দিন থেকেই আমি দায় নিয়েছি: ধর্মেন্দ্র প্রধান এক দাবি পূরণ হয়েছে, আরও দুটি মানতে হবে: ককরোচ জনতা পার্টি

ইসলামী ব্যাংক দখলে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন ছিল দেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি। প্রায় আট বছর পর সেই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নাম। হাইকোর্টে জমা দেওয়া বিএফআইইউর এক তদন্ত প্রতিবেদনে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ এস আলম গ্রুপের হাতে যাওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট—বিএফআইইউর তদন্ত প্রতিবেদনে এ ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

হাইকোর্টে জমা দেওয়া ৪২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকা অবস্থায় সাহাবুদ্দিন এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, চারটি স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানেও তার সংশ্লিষ্টতার বিষয় উঠে এসেছে।

তদন্তে অভিযোগ করা হয়, ব্যাংক থেকেই অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ বের করে সেই অর্থ দিয়েই ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনা হয়। পরে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনেরও অভিযোগ রয়েছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। একই সঙ্গে বিএফআইইউসহ বিভিন্ন সংস্থা শেয়ার অধিগ্রহণ, ঋণ বিতরণ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান কর্তৃপক্ষ সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে শেয়ার জালিয়াতি, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং ব্যাংকের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মামলা করে। মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত সব তথ্য ও অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নেদারল্যান্ডসে ভিসা প্রত্যাখ্যান, উদ্বেগ জানাল বাংলাদেশ

ইসলামী ব্যাংক দখলে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

আপডেট সময় ০৩:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন ছিল দেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি। প্রায় আট বছর পর সেই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নাম। হাইকোর্টে জমা দেওয়া বিএফআইইউর এক তদন্ত প্রতিবেদনে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ এস আলম গ্রুপের হাতে যাওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট—বিএফআইইউর তদন্ত প্রতিবেদনে এ ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

হাইকোর্টে জমা দেওয়া ৪২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকা অবস্থায় সাহাবুদ্দিন এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, চারটি স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানেও তার সংশ্লিষ্টতার বিষয় উঠে এসেছে।

তদন্তে অভিযোগ করা হয়, ব্যাংক থেকেই অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ বের করে সেই অর্থ দিয়েই ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনা হয়। পরে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনেরও অভিযোগ রয়েছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। একই সঙ্গে বিএফআইইউসহ বিভিন্ন সংস্থা শেয়ার অধিগ্রহণ, ঋণ বিতরণ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান কর্তৃপক্ষ সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে শেয়ার জালিয়াতি, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং ব্যাংকের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মামলা করে। মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত সব তথ্য ও অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর।