ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঢাকার পানি সরবরাহ উন্নয়নে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা দেবে ডেনমার্ক এবার সমুদ্রে নামছে তুরস্কের প্রথম বিমানবাহী রণতরি ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদার সম্পর্ক চায় জামায়াত ইরানি কমান্ডারের খোঁজ দিলেই ১০ মিলিয়ন ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র মুখে না বলেও নীরবে পরিবর্তনের কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী: কাজী জেসিন ভাইয়ের মরদেহ নিতে আফগানিস্তান থেকে এসে ৫০ দিন ধরে ঘুরছেন ইমাল চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনতে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করছে বাংলাদেশ ঢাকার পানি সরবরাহ উন্নয়নে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা দেবে ডেনমার্ক সরকার স্পর্শকাতর সময় পার করছে: তথ্যমন্ত্রী এটি শেখ হাসিনার জন্য খুব একটা সুখকর নয়: তথ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ডুবলে হাঁটু পানিতে নেমে মেয়র-এমপিদের নাটক আর দেখতে চাই না: সারজিস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৫০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও নগর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আগামী বর্ষার আগেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

একই সঙ্গে বর্ষা এলেই জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোক দেখানো কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোড এলাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সারজিস আলম।

তিনি বলেন, বর্ষা এলেই হাঁটু বা কোমর পানিতে নেমে জনপ্রতিনিধিদের ছবি তোলার যে ‘নাটক’ দেখা যায়, ২০২৭ সালে সেটি আর দেখতে চান না তিনি।

সারজিস আলম বলেন, বর্ষা শেষ হওয়ার পর শরৎ, হেমন্ত ও শীত এলেই চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার বিষয়টি ভুলে যাওয়া হয়। কিন্তু পরের বর্ষায় নগর ডুবে গেলে আবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পানিতে নেমে ছবি তোলার দৃশ্য দেখা যায়।

তিনি বলেন, নৌকা বা মাচা নিয়ে পানিতে নামা কিংবা লোক দেখানো কোনো কর্মকাণ্ড নয়, চট্টগ্রামবাসী এখন স্থায়ী সমাধান চায়।

সারজিস আলম বলেন, সরকারের হাতে এখনো প্রায় এক বছর সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি ব্যবস্থাপনাসহ নগরের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নিতে হবে।

চট্টগ্রামের রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নগরের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকা ঘুরে দেখেছেন তিনি। অনেক সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়ার চেয়ে ঘরে থাকাই ভালো—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তার প্রশ্ন, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের একজন বাসিন্দাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কেন ঢাকায় যেতে হবে?

তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নগরবাসীর মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

এ জন্য আগামী এক বছরের মধ্যে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি আলাদা মেগা পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, শুধু লোক দেখানো কর্মকাণ্ড নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

সারজিস আলম আরও বলেন, চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। তাই নগরের পানি নিষ্কাশন, রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন, পানি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে সমন্বিতভাবে উন্নয়নের আওতায় আনতে হবে।

একই সঙ্গে আগামী বর্ষার আগেই দৃশ্যমান ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে চট্টগ্রামের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টিও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেন সারজিস আলম।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার পানি সরবরাহ উন্নয়নে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা দেবে ডেনমার্ক

চট্টগ্রাম ডুবলে হাঁটু পানিতে নেমে মেয়র-এমপিদের নাটক আর দেখতে চাই না: সারজিস

আপডেট সময় ১২:৫০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও নগর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আগামী বর্ষার আগেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

একই সঙ্গে বর্ষা এলেই জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোক দেখানো কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোড এলাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সারজিস আলম।

তিনি বলেন, বর্ষা এলেই হাঁটু বা কোমর পানিতে নেমে জনপ্রতিনিধিদের ছবি তোলার যে ‘নাটক’ দেখা যায়, ২০২৭ সালে সেটি আর দেখতে চান না তিনি।

সারজিস আলম বলেন, বর্ষা শেষ হওয়ার পর শরৎ, হেমন্ত ও শীত এলেই চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার বিষয়টি ভুলে যাওয়া হয়। কিন্তু পরের বর্ষায় নগর ডুবে গেলে আবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পানিতে নেমে ছবি তোলার দৃশ্য দেখা যায়।

তিনি বলেন, নৌকা বা মাচা নিয়ে পানিতে নামা কিংবা লোক দেখানো কোনো কর্মকাণ্ড নয়, চট্টগ্রামবাসী এখন স্থায়ী সমাধান চায়।

সারজিস আলম বলেন, সরকারের হাতে এখনো প্রায় এক বছর সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি ব্যবস্থাপনাসহ নগরের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নিতে হবে।

চট্টগ্রামের রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নগরের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকা ঘুরে দেখেছেন তিনি। অনেক সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়ার চেয়ে ঘরে থাকাই ভালো—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তার প্রশ্ন, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের একজন বাসিন্দাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কেন ঢাকায় যেতে হবে?

তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নগরবাসীর মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

এ জন্য আগামী এক বছরের মধ্যে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি আলাদা মেগা পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, শুধু লোক দেখানো কর্মকাণ্ড নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

সারজিস আলম আরও বলেন, চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। তাই নগরের পানি নিষ্কাশন, রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন, পানি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে সমন্বিতভাবে উন্নয়নের আওতায় আনতে হবে।

একই সঙ্গে আগামী বর্ষার আগেই দৃশ্যমান ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে চট্টগ্রামের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টিও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেন সারজিস আলম।