ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিএনপির কাছেই নিরাপদ: তারেক রহমান এ্যানির নির্বাচনী উঠান বৈঠকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বিএনপি নেতা হাশরের ময়দানে শুধু দাঁড়িপাল্লা মার্কা থাকবে: জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনে বিএনপি বেশি আসনে জিতবে বলে মনে করছে ৬৬ শতাংশ মানুষ চীনে ঘুষ নেয়ার অপরাধে সাবেক সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিভিন্ন পয়েন্টে বিনামূল্যে ইন্টারনেট দেওয়া হবে: তারেক রহমান পদত্যাগের পরপরই দুই ছাত্র উপদেষ্টার বিষয়ে দুদকের তদন্ত চায় সাবেক সমন্বয়করা ১০ বছর নিঃসন্তান, একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম দিলেন নারী বিএনপির প্রার্থী ফজলুরকে নিয়ে স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত শতাধিক রাবি শিক্ষকের পোস্টে বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ’ আখ্যা, ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র সমালোচনা

চলন্ত ট্রেনে গলা কেটে পপকর্ন বিক্রেতা খুন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৫৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ২২৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে আল আমিন (২৮) নামে এক পপকর্ন বিক্রেতাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাতে দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ অতিক্রমের পর ট্রেনের ভেতরেই ঘটে এ নৃশংস খুনের ঘটনা। এতে আহত হয়েছেন একই গ্রামের হকার মিলন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে ট্রেনটি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ রেলস্টেশনে পৌঁছালে যাত্রীরা দুইজনকে আতঙ্কজনক রক্তাক্ত অবস্থায় নামিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেন। সেখানে আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত মিলন চিকিৎসাধীন।

নিহত আল আমিন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার চড়বথুয়াতুলি গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে। নিহতের চাচাতো ভাই মাহবুবুর রহমান জানান, নারিকেল ও পপকর্ন বিক্রি নিয়ে আকাশ–সুজন ও কুদরত নামের হকারদের সঙ্গে আল আমিনের আগেই বিরোধ চলছিল। তার জের ধরেই চলন্ত ট্রেনেই প্রতিপক্ষরা ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে।

যাত্রীরা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ট্রেনে নিয়মিত টহল না থাকায় হকারদের দৌরাত্ম্য, মারামারি, চাঁদাবাজি ও সংঘর্ষ বেড়েই চলছে।
যাত্রী রাফিয়া বলেন, “ট্রেনের ভেতর খুন হবে—এটা ভাবতেই পারিনি। রেলওয়ে পুলিশ কোথায় থাকে?”
অন্য যাত্রী রফিকুল বলেন, “প্রতিদিন ঝগড়া দেখি। নিরাপত্তা বলতে কিছুই নেই। চলন্ত ট্রেনে গলা কেটে হত্যা—এটা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জা।”

পীরগঞ্জ স্টেশনের সহকারী মাস্টার আব্দুল আজিজ নিশ্চিত করে জানান, দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় যাত্রীরা নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং রেলওয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

পীরগঞ্জ থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, হামলাকারীরা পালিয়ে গেছে। রেলওয়ে পুলিশ তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ট্রেনের ভেতর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি না বাড়ালে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন যাত্রীরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিএনপির কাছেই নিরাপদ: তারেক রহমান

চলন্ত ট্রেনে গলা কেটে পপকর্ন বিক্রেতা খুন

আপডেট সময় ০৮:৫৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে আল আমিন (২৮) নামে এক পপকর্ন বিক্রেতাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাতে দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ অতিক্রমের পর ট্রেনের ভেতরেই ঘটে এ নৃশংস খুনের ঘটনা। এতে আহত হয়েছেন একই গ্রামের হকার মিলন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে ট্রেনটি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ রেলস্টেশনে পৌঁছালে যাত্রীরা দুইজনকে আতঙ্কজনক রক্তাক্ত অবস্থায় নামিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেন। সেখানে আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত মিলন চিকিৎসাধীন।

নিহত আল আমিন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার চড়বথুয়াতুলি গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে। নিহতের চাচাতো ভাই মাহবুবুর রহমান জানান, নারিকেল ও পপকর্ন বিক্রি নিয়ে আকাশ–সুজন ও কুদরত নামের হকারদের সঙ্গে আল আমিনের আগেই বিরোধ চলছিল। তার জের ধরেই চলন্ত ট্রেনেই প্রতিপক্ষরা ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে।

যাত্রীরা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ট্রেনে নিয়মিত টহল না থাকায় হকারদের দৌরাত্ম্য, মারামারি, চাঁদাবাজি ও সংঘর্ষ বেড়েই চলছে।
যাত্রী রাফিয়া বলেন, “ট্রেনের ভেতর খুন হবে—এটা ভাবতেই পারিনি। রেলওয়ে পুলিশ কোথায় থাকে?”
অন্য যাত্রী রফিকুল বলেন, “প্রতিদিন ঝগড়া দেখি। নিরাপত্তা বলতে কিছুই নেই। চলন্ত ট্রেনে গলা কেটে হত্যা—এটা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জা।”

পীরগঞ্জ স্টেশনের সহকারী মাস্টার আব্দুল আজিজ নিশ্চিত করে জানান, দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় যাত্রীরা নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং রেলওয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

পীরগঞ্জ থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, হামলাকারীরা পালিয়ে গেছে। রেলওয়ে পুলিশ তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ট্রেনের ভেতর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি না বাড়ালে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন যাত্রীরা।