ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিমানবন্দরে যানচলাচল বন্ধ: প্রবাসীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:২৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৩৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমানবন্দরে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে মহাখালী থেকে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং পর্যন্ত সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে দেশে ফেরা ও বিদেশগামী প্রবাসীরা পড়েন চরম বিড়ম্বনায়। ঘটনাটি ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া—কারও কাছে এটি দুর্ভোগ, আবার কারও কাছে নেতার নিরাপত্তার জন্য সাময়িক অসুবিধা মেনে নেওয়ার বিষয়।
বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক প্রবাসী মাথায়, হাতে কিংবা পিঠে ব্যাগ নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। কেউ স্বজনদের খুঁজে পাচ্ছেন, কেউ আবার দীর্ঘ সময় খোঁজার পর মূল সড়কে এসে স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন। একই ধরনের ভোগান্তি দেখা গেছে বিদেশগামী যাত্রীদের ক্ষেত্রেও।
সৌদি আরবের আলজুবের সাকাকা শহর থেকে দেশে ফেরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা সালমা বেগম গাজীপুরের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দর থেকে হেঁটেই রওনা দেন। তিনি বলেন, “অনেক দূর থেকে এসেও এখন হেঁটে যেতে হচ্ছে। আমার কষ্ট না হলেও ব্যাগেজ বহন করতে ভাই ও চাচার কষ্ট হচ্ছে। তবে এত বড় একজন নেতা দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরেছেন, সে জন্য একটু কষ্ট সবাইকেই মেনে নিতে হবে।”
ওমানফেরত প্রবাসী শ্রীবা দাস একাই টেনে নিচ্ছিলেন দুটি লাগেজ ও একটি পিঠব্যাগ। প্রায় এক কিলোমিটার হাঁটলেও কোনো অভিযোগ নেই তার। তিনি বলেন, “তারেক রহমান দেড় যুগ পর দেশে ফিরেছেন—এটাই আমার আনন্দ। হাঁটতে কষ্ট নেই।”
সৌদি আরব থেকে আসা আমিনুল ইসলাম স্বাধীন, যিনি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া যাবেন, জানান—দীর্ঘ ভ্রমণের পর বিমানবন্দরে নেমে স্বজনদের খুঁজে পেতে তাকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তিনি বলেন, “১০ বছর পর দেশে এসে তেমন পরিবর্তন চোখে পড়েনি। যদি তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পর মানুষ প্রকৃত অধিকার ফিরে পায়, তবে এই কষ্টও আনন্দে পরিণত হবে।”
ইরাকফেরত প্রবাসী মো. জাহিদুল ইসলাম প্রায় ২৪ ঘণ্টা ভ্রমণ শেষে গাজীপুরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “ভোগান্তি যেন আমাদের জন্মগত অভ্যাস। তবু আশা করি, তিনি ক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলাবে।”
অন্যদিকে, ফরিদপুরের সালতা থেকে সৌদি আরবে যেতে আসা মামুন শেখ বলেন, “আরও সুন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বাগত জানানো যেত। আমাদের কষ্ট না দিলেও হতো। তবু আশা রেখে যাচ্ছি—একদিন বাংলাদেশকে জনবান্ধব দেশ হিসেবে ফিরে দেখব।”
প্রবাসীদের সহায়তায় ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে হেল্প ডেস্ক বসানো হলেও সেখানে কার্যত কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। দায়িত্বে থাকা যুবদল নেতা আলমগীর হোসেন জানান, নিরাপত্তার কারণে প্রশাসনের নির্দেশে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রশাসনের বাধা না থাকলে আমরা প্রবাসী ভাইদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতাম।”
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি প্রবাসীদের এই ভোগান্তি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—নেতার নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের ভারসাম্য কতটা নিশ্চিত করা যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিমানবন্দরে যানচলাচল বন্ধ: প্রবাসীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আপডেট সময় ০৭:২৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমানবন্দরে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে মহাখালী থেকে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং পর্যন্ত সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে দেশে ফেরা ও বিদেশগামী প্রবাসীরা পড়েন চরম বিড়ম্বনায়। ঘটনাটি ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া—কারও কাছে এটি দুর্ভোগ, আবার কারও কাছে নেতার নিরাপত্তার জন্য সাময়িক অসুবিধা মেনে নেওয়ার বিষয়।
বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক প্রবাসী মাথায়, হাতে কিংবা পিঠে ব্যাগ নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। কেউ স্বজনদের খুঁজে পাচ্ছেন, কেউ আবার দীর্ঘ সময় খোঁজার পর মূল সড়কে এসে স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন। একই ধরনের ভোগান্তি দেখা গেছে বিদেশগামী যাত্রীদের ক্ষেত্রেও।
সৌদি আরবের আলজুবের সাকাকা শহর থেকে দেশে ফেরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা সালমা বেগম গাজীপুরের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দর থেকে হেঁটেই রওনা দেন। তিনি বলেন, “অনেক দূর থেকে এসেও এখন হেঁটে যেতে হচ্ছে। আমার কষ্ট না হলেও ব্যাগেজ বহন করতে ভাই ও চাচার কষ্ট হচ্ছে। তবে এত বড় একজন নেতা দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরেছেন, সে জন্য একটু কষ্ট সবাইকেই মেনে নিতে হবে।”
ওমানফেরত প্রবাসী শ্রীবা দাস একাই টেনে নিচ্ছিলেন দুটি লাগেজ ও একটি পিঠব্যাগ। প্রায় এক কিলোমিটার হাঁটলেও কোনো অভিযোগ নেই তার। তিনি বলেন, “তারেক রহমান দেড় যুগ পর দেশে ফিরেছেন—এটাই আমার আনন্দ। হাঁটতে কষ্ট নেই।”
সৌদি আরব থেকে আসা আমিনুল ইসলাম স্বাধীন, যিনি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া যাবেন, জানান—দীর্ঘ ভ্রমণের পর বিমানবন্দরে নেমে স্বজনদের খুঁজে পেতে তাকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তিনি বলেন, “১০ বছর পর দেশে এসে তেমন পরিবর্তন চোখে পড়েনি। যদি তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পর মানুষ প্রকৃত অধিকার ফিরে পায়, তবে এই কষ্টও আনন্দে পরিণত হবে।”
ইরাকফেরত প্রবাসী মো. জাহিদুল ইসলাম প্রায় ২৪ ঘণ্টা ভ্রমণ শেষে গাজীপুরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “ভোগান্তি যেন আমাদের জন্মগত অভ্যাস। তবু আশা করি, তিনি ক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলাবে।”
অন্যদিকে, ফরিদপুরের সালতা থেকে সৌদি আরবে যেতে আসা মামুন শেখ বলেন, “আরও সুন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বাগত জানানো যেত। আমাদের কষ্ট না দিলেও হতো। তবু আশা রেখে যাচ্ছি—একদিন বাংলাদেশকে জনবান্ধব দেশ হিসেবে ফিরে দেখব।”
প্রবাসীদের সহায়তায় ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে হেল্প ডেস্ক বসানো হলেও সেখানে কার্যত কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। দায়িত্বে থাকা যুবদল নেতা আলমগীর হোসেন জানান, নিরাপত্তার কারণে প্রশাসনের নির্দেশে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রশাসনের বাধা না থাকলে আমরা প্রবাসী ভাইদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতাম।”
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি প্রবাসীদের এই ভোগান্তি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—নেতার নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের ভারসাম্য কতটা নিশ্চিত করা যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।