ঢাকা , রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এখন থেকে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই ব্যবস্থা, হতে পারে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ছাত্রশিবিরের বিগত ১৬ বছরে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা ডাকাতি হয়েছে: সারজিস ইসরাইলি বাহিনীর ঘুম হারাম করছে হিজবুল্লাহর ‘ফাইবার-অপটিক ড্রোন’ ফেসবুকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখে পোস্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার চাঁদা লাগলে চাঁদা নে, নতুন করে কমিটি দে’, পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের স্লোগান জানা গেল ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে এই সরকার: প্রধানমন্ত্রী এমন কোনো শক্তি নেই যা ইরানের সংকল্পকে দুর্বল করতে পারে: আইআরজিসি ক্ষমতার বাহানায় বিএনপি সরকার সংস্কার করতে চায় না: আখতার হোসেন

ছাত্রশিবিরের হাল কার হাতে? কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন ঘিরে কৌতূহল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৩২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩০৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম দায়িত্ব থেকে বিদায় নিতে চান। ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় নতুন বছর থেকে আর সংগঠনের নেতৃত্বে থাকতে আগ্রহী নন তিনি। ফলে নতুন বছরে কে ধরবেন ছাত্রশিবিরের হাল—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সংগঠনের ভেতরে-বাইরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

এই প্রেক্ষাপটে আগামীকাল ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন–২০২৫। দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় এবারের সম্মেলনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, গঠনতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী সারা দেশ থেকে আসা কয়েক হাজার সদস্যের সরাসরি গোপন ভোটে নতুন কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হবেন। নির্বাচিত সভাপতি পরে একজনকে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনীত করবেন।

সভাপতি পদে কারা আলোচনায়

সভাপতি পদে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন—

  • বর্তমান কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি সিবগাতুল্লাহ,

  • কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ,

  • কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

তবে সংগঠনটির ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শিবিরের রাজনীতিতে সাধারণত সেক্রেটারি জেনারেলই পরবর্তী সভাপতি হয়ে থাকেন। সে হিসেবে নুরুল ইসলাম সাদ্দামের নতুন কাণ্ডারি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অন্যদিকে আলোচনায় থাকা বাকি নেতাদের মধ্যে থেকে সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতিহাস বলছে ‘সেক্রেটারি টু প্রেসিডেন্ট’ ধারা

১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। প্রায় পাঁচ দশকের ইতিহাসে সংগঠনটির ৪৯টি কমিটি গঠিত হয়েছে। শিবিরের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩৩ জন সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জনই পূর্ববর্তী মেয়াদে সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন।

প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মীর কাশেম আলী ছাড়া সরাসরি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র দু’জন—মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও মুহাম্মদ শাহজাহান।

সর্বশেষ পাঁচ সভাপতি—সিরাজুল ইসলাম, সালাহউদ্দিন আইউবী, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, রাজিবুর রহমান পলাশ, মঞ্জুরুল ইসলাম এবং বর্তমান সভাপতি জাহিদুল ইসলাম—সকলেই আগে সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সম্মেলনের কর্মসূচি

কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সকাল ৮টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। উদ্বোধনী বক্তব্যের পর দেশ-বিদেশের বরেণ্য অতিথি ও বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলাররা বক্তব্য রাখবেন। দুপুর ১টায় প্রথম অধিবেশন শেষ হবে।

দুপুর ২টায় শুরু হবে সমাপনী অধিবেশন। এ অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচন, সেক্রেটারি জেনারেল মনোনয়ন, সমাপনী বক্তব্য ও দোয়া-মুনাজাতের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শেষ হবে।

নতুন কমিটির সামনে চ্যালেঞ্জ

সংগঠনটির নেতাদের মতে, ২০২৫ সালের সম্মেলন ছাত্রশিবিরের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে মেধাবী, কৌশলী ও সময়োপযোগী নেতৃত্ব প্রয়োজন। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর পরিবর্তিত ছাত্ররাজনীতির বাস্তবতায় সংগঠনের অবস্থান আরও সুসংহত করাও নতুন কমিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এখন থেকে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই ব্যবস্থা, হতে পারে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

ছাত্রশিবিরের হাল কার হাতে? কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন ঘিরে কৌতূহল

আপডেট সময় ০৫:৩২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম দায়িত্ব থেকে বিদায় নিতে চান। ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় নতুন বছর থেকে আর সংগঠনের নেতৃত্বে থাকতে আগ্রহী নন তিনি। ফলে নতুন বছরে কে ধরবেন ছাত্রশিবিরের হাল—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সংগঠনের ভেতরে-বাইরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

এই প্রেক্ষাপটে আগামীকাল ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন–২০২৫। দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় এবারের সম্মেলনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, গঠনতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী সারা দেশ থেকে আসা কয়েক হাজার সদস্যের সরাসরি গোপন ভোটে নতুন কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হবেন। নির্বাচিত সভাপতি পরে একজনকে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনীত করবেন।

সভাপতি পদে কারা আলোচনায়

সভাপতি পদে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন—

  • বর্তমান কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি সিবগাতুল্লাহ,

  • কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ,

  • কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

তবে সংগঠনটির ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শিবিরের রাজনীতিতে সাধারণত সেক্রেটারি জেনারেলই পরবর্তী সভাপতি হয়ে থাকেন। সে হিসেবে নুরুল ইসলাম সাদ্দামের নতুন কাণ্ডারি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অন্যদিকে আলোচনায় থাকা বাকি নেতাদের মধ্যে থেকে সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতিহাস বলছে ‘সেক্রেটারি টু প্রেসিডেন্ট’ ধারা

১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। প্রায় পাঁচ দশকের ইতিহাসে সংগঠনটির ৪৯টি কমিটি গঠিত হয়েছে। শিবিরের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩৩ জন সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জনই পূর্ববর্তী মেয়াদে সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন।

প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মীর কাশেম আলী ছাড়া সরাসরি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র দু’জন—মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও মুহাম্মদ শাহজাহান।

সর্বশেষ পাঁচ সভাপতি—সিরাজুল ইসলাম, সালাহউদ্দিন আইউবী, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, রাজিবুর রহমান পলাশ, মঞ্জুরুল ইসলাম এবং বর্তমান সভাপতি জাহিদুল ইসলাম—সকলেই আগে সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সম্মেলনের কর্মসূচি

কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সকাল ৮টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। উদ্বোধনী বক্তব্যের পর দেশ-বিদেশের বরেণ্য অতিথি ও বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলাররা বক্তব্য রাখবেন। দুপুর ১টায় প্রথম অধিবেশন শেষ হবে।

দুপুর ২টায় শুরু হবে সমাপনী অধিবেশন। এ অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচন, সেক্রেটারি জেনারেল মনোনয়ন, সমাপনী বক্তব্য ও দোয়া-মুনাজাতের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শেষ হবে।

নতুন কমিটির সামনে চ্যালেঞ্জ

সংগঠনটির নেতাদের মতে, ২০২৫ সালের সম্মেলন ছাত্রশিবিরের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে মেধাবী, কৌশলী ও সময়োপযোগী নেতৃত্ব প্রয়োজন। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর পরিবর্তিত ছাত্ররাজনীতির বাস্তবতায় সংগঠনের অবস্থান আরও সুসংহত করাও নতুন কমিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে।