ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আর কোনো জোটে যাওয়ার সুযোগ নেই: ফয়জুল করীম ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসককে মারধর, চিকিৎসা সেবা বন্ধ আজ বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বসবেন ক্রীড়া উপদেষ্টা পাকিস্তানে মিলল তেল-গ্যাসের বিপুল মজুত বিড়ি খাওয়ার বক্তব্য দেওয়ায় জামায়াতের ২ কোটির মার্কেটিং হয়েছে: ড. ফয়জুল হক বিএনপিতে যোগ দিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ ঢাকায় ফ্ল্যাটসহ নগদ কোটি টাকা পাচ্ছে শহীদ ওসমান হাদির পরিবার বিএনপি নেতাকর্মীরা ভোটারদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে: সারজিস জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর বেদনাদায়কভাবে হামলা চালিয়েছে বিএনপির লোকেরা: শফিকুর রহমান সব সাইজ হয়ে যাবে, ঢাকায় কোনো সিট দেব না: জামায়াত প্রার্থীর হুঙ্কার

ছাত্রশিবিরের হাল কার হাতে? কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন ঘিরে কৌতূহল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৩২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২৪২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম দায়িত্ব থেকে বিদায় নিতে চান। ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় নতুন বছর থেকে আর সংগঠনের নেতৃত্বে থাকতে আগ্রহী নন তিনি। ফলে নতুন বছরে কে ধরবেন ছাত্রশিবিরের হাল—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সংগঠনের ভেতরে-বাইরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

এই প্রেক্ষাপটে আগামীকাল ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন–২০২৫। দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় এবারের সম্মেলনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, গঠনতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী সারা দেশ থেকে আসা কয়েক হাজার সদস্যের সরাসরি গোপন ভোটে নতুন কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হবেন। নির্বাচিত সভাপতি পরে একজনকে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনীত করবেন।

সভাপতি পদে কারা আলোচনায়

সভাপতি পদে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন—

  • বর্তমান কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি সিবগাতুল্লাহ,

  • কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ,

  • কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

তবে সংগঠনটির ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শিবিরের রাজনীতিতে সাধারণত সেক্রেটারি জেনারেলই পরবর্তী সভাপতি হয়ে থাকেন। সে হিসেবে নুরুল ইসলাম সাদ্দামের নতুন কাণ্ডারি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অন্যদিকে আলোচনায় থাকা বাকি নেতাদের মধ্যে থেকে সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতিহাস বলছে ‘সেক্রেটারি টু প্রেসিডেন্ট’ ধারা

১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। প্রায় পাঁচ দশকের ইতিহাসে সংগঠনটির ৪৯টি কমিটি গঠিত হয়েছে। শিবিরের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩৩ জন সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জনই পূর্ববর্তী মেয়াদে সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন।

প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মীর কাশেম আলী ছাড়া সরাসরি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র দু’জন—মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও মুহাম্মদ শাহজাহান।

সর্বশেষ পাঁচ সভাপতি—সিরাজুল ইসলাম, সালাহউদ্দিন আইউবী, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, রাজিবুর রহমান পলাশ, মঞ্জুরুল ইসলাম এবং বর্তমান সভাপতি জাহিদুল ইসলাম—সকলেই আগে সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সম্মেলনের কর্মসূচি

কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সকাল ৮টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। উদ্বোধনী বক্তব্যের পর দেশ-বিদেশের বরেণ্য অতিথি ও বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলাররা বক্তব্য রাখবেন। দুপুর ১টায় প্রথম অধিবেশন শেষ হবে।

দুপুর ২টায় শুরু হবে সমাপনী অধিবেশন। এ অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচন, সেক্রেটারি জেনারেল মনোনয়ন, সমাপনী বক্তব্য ও দোয়া-মুনাজাতের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শেষ হবে।

নতুন কমিটির সামনে চ্যালেঞ্জ

সংগঠনটির নেতাদের মতে, ২০২৫ সালের সম্মেলন ছাত্রশিবিরের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে মেধাবী, কৌশলী ও সময়োপযোগী নেতৃত্ব প্রয়োজন। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর পরিবর্তিত ছাত্ররাজনীতির বাস্তবতায় সংগঠনের অবস্থান আরও সুসংহত করাও নতুন কমিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর কোনো জোটে যাওয়ার সুযোগ নেই: ফয়জুল করীম

ছাত্রশিবিরের হাল কার হাতে? কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন ঘিরে কৌতূহল

আপডেট সময় ০৫:৩২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম দায়িত্ব থেকে বিদায় নিতে চান। ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় নতুন বছর থেকে আর সংগঠনের নেতৃত্বে থাকতে আগ্রহী নন তিনি। ফলে নতুন বছরে কে ধরবেন ছাত্রশিবিরের হাল—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সংগঠনের ভেতরে-বাইরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

এই প্রেক্ষাপটে আগামীকাল ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন–২০২৫। দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় এবারের সম্মেলনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, গঠনতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী সারা দেশ থেকে আসা কয়েক হাজার সদস্যের সরাসরি গোপন ভোটে নতুন কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হবেন। নির্বাচিত সভাপতি পরে একজনকে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনীত করবেন।

সভাপতি পদে কারা আলোচনায়

সভাপতি পদে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন—

  • বর্তমান কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি সিবগাতুল্লাহ,

  • কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ,

  • কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

তবে সংগঠনটির ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শিবিরের রাজনীতিতে সাধারণত সেক্রেটারি জেনারেলই পরবর্তী সভাপতি হয়ে থাকেন। সে হিসেবে নুরুল ইসলাম সাদ্দামের নতুন কাণ্ডারি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অন্যদিকে আলোচনায় থাকা বাকি নেতাদের মধ্যে থেকে সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতিহাস বলছে ‘সেক্রেটারি টু প্রেসিডেন্ট’ ধারা

১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। প্রায় পাঁচ দশকের ইতিহাসে সংগঠনটির ৪৯টি কমিটি গঠিত হয়েছে। শিবিরের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩৩ জন সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জনই পূর্ববর্তী মেয়াদে সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন।

প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মীর কাশেম আলী ছাড়া সরাসরি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র দু’জন—মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও মুহাম্মদ শাহজাহান।

সর্বশেষ পাঁচ সভাপতি—সিরাজুল ইসলাম, সালাহউদ্দিন আইউবী, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, রাজিবুর রহমান পলাশ, মঞ্জুরুল ইসলাম এবং বর্তমান সভাপতি জাহিদুল ইসলাম—সকলেই আগে সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সম্মেলনের কর্মসূচি

কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সকাল ৮টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। উদ্বোধনী বক্তব্যের পর দেশ-বিদেশের বরেণ্য অতিথি ও বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলাররা বক্তব্য রাখবেন। দুপুর ১টায় প্রথম অধিবেশন শেষ হবে।

দুপুর ২টায় শুরু হবে সমাপনী অধিবেশন। এ অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচন, সেক্রেটারি জেনারেল মনোনয়ন, সমাপনী বক্তব্য ও দোয়া-মুনাজাতের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শেষ হবে।

নতুন কমিটির সামনে চ্যালেঞ্জ

সংগঠনটির নেতাদের মতে, ২০২৫ সালের সম্মেলন ছাত্রশিবিরের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে মেধাবী, কৌশলী ও সময়োপযোগী নেতৃত্ব প্রয়োজন। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর পরিবর্তিত ছাত্ররাজনীতির বাস্তবতায় সংগঠনের অবস্থান আরও সুসংহত করাও নতুন কমিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে।