ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মনে হয় রাষ্ট্রযন্ত্র কিংবা প্রশাসন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত: আখতার হোসেন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৩০ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা দেশে লুকিয়ে আছে নাকি ভারতে পালিয়ে গেছে—এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো স্পষ্ট কোনো বার্তা দিতে পারেনি। তার দাবি, এ হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রযন্ত্র কিংবা প্রশাসনের কোনো অংশের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, খুনি পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও তার একার পক্ষে খুন করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়া বা আত্মগোপনে থাকা সম্ভব নয়। এর পেছনে একটি বড় সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে বলে এনসিপির বিশ্বাস। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেই চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
আখতার হোসেন বলেন, খুনিরা বাইরে ঘুরে বেড়ালে গানম্যান দিয়েও কারও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে আলাদা করে নিরাপত্তার প্রয়োজন হবে না। এতে ভবিষ্যতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীরাও নিরুৎসাহিত হবে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।
তিনি আরও বলেন, নানাভাবে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চলছে। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার ও খুনিদের গ্রেপ্তার যেমন প্রয়োজন, তেমনি ভবিষ্যতে যেন এমন হত্যাকাণ্ড আর না ঘটে—সরকারকে সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। গত দেড় বছরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংস ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এনসিপির সদস্য সচিবের দাবি, পতিত আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। গণঅভ্যুত্থানের পর প্রকৃত বিচার প্রক্রিয়া কার্যকর হলে আজ শহীদ ওসমান হাদিকে ককটেল বিস্ফোরণে প্রাণ দিতে হতো না।
এ সময় এনসিপির রংপুর জেলা আহ্বায়ক মো. আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর নয়ন, আবু রায়হান, রংপুর-৪ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ-আল মামুন, এনসিপি নেতা তৌফিক ইসলামসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে রংপুর নগরীর বিভিন্ন দেয়ালে গ্রাফিতি ও টাইপোগ্রাফি অঙ্কন কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। হাদির স্মৃতি সংরক্ষণ ও তার আদর্শে তরুণ প্রজন্মকে জাগ্রত রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনের অঙ্কন কার্যক্রমে এনসিপি ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মনে হয় রাষ্ট্রযন্ত্র কিংবা প্রশাসন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত: আখতার হোসেন

আপডেট সময় ০৯:৩৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা দেশে লুকিয়ে আছে নাকি ভারতে পালিয়ে গেছে—এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো স্পষ্ট কোনো বার্তা দিতে পারেনি। তার দাবি, এ হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রযন্ত্র কিংবা প্রশাসনের কোনো অংশের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, খুনি পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও তার একার পক্ষে খুন করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়া বা আত্মগোপনে থাকা সম্ভব নয়। এর পেছনে একটি বড় সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে বলে এনসিপির বিশ্বাস। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেই চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
আখতার হোসেন বলেন, খুনিরা বাইরে ঘুরে বেড়ালে গানম্যান দিয়েও কারও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে আলাদা করে নিরাপত্তার প্রয়োজন হবে না। এতে ভবিষ্যতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীরাও নিরুৎসাহিত হবে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।
তিনি আরও বলেন, নানাভাবে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চলছে। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার ও খুনিদের গ্রেপ্তার যেমন প্রয়োজন, তেমনি ভবিষ্যতে যেন এমন হত্যাকাণ্ড আর না ঘটে—সরকারকে সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। গত দেড় বছরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংস ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এনসিপির সদস্য সচিবের দাবি, পতিত আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। গণঅভ্যুত্থানের পর প্রকৃত বিচার প্রক্রিয়া কার্যকর হলে আজ শহীদ ওসমান হাদিকে ককটেল বিস্ফোরণে প্রাণ দিতে হতো না।
এ সময় এনসিপির রংপুর জেলা আহ্বায়ক মো. আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর নয়ন, আবু রায়হান, রংপুর-৪ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ-আল মামুন, এনসিপি নেতা তৌফিক ইসলামসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে রংপুর নগরীর বিভিন্ন দেয়ালে গ্রাফিতি ও টাইপোগ্রাফি অঙ্কন কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। হাদির স্মৃতি সংরক্ষণ ও তার আদর্শে তরুণ প্রজন্মকে জাগ্রত রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনের অঙ্কন কার্যক্রমে এনসিপি ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।