ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাজনীতির পাশাপাশি আখিরাতের মুক্তির জন্যও কাজ করতে হবে: আজহার ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে ইরান কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ আদানির ইউনিট, দেশে লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা আওয়ামী লীগ নিয়ে প্রশ্ন করলে বিব্রত বোধ করি: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সরকারি টাকা নষ্ট হবে, তাই প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন: চিফ হুইপ দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের ক্ষোভ: ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ মিটার রিডার, পরে উদ্ধার হুট করে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল, আরও বাড়ল লোডশেডিং চুরির অভিযোগে তিনজনকে হাত-পা বেঁধে পিটুনি, চোখে ঢালা হলো চুনের পানি বাক্‌স্বাধীনতা যেন বাক্ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে

পুলিশ হত্যার দায় ছাত্র-জনতার ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে: নাহিদ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
  • ১২১৩ বার পড়া হয়েছে

এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিবিসির একটা রিপোর্টে দেখলাম, হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় পুলিশ হত্যার ঘটনাকে ডমিনেট করা হচ্ছে। পুলিশ হত্যার দায় আমাদের অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতার ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে। শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুর ১টায় মৌলভীবাজার শহরের বেরীর পাড় পয়েন্টে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৩ আগস্ট আমরা এক দফা দাবির মাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলাম—আমাদের আন্দোলন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে। কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু ছাত্রলীগ, পুলিশ ও সরকারপন্থী সন্ত্রাসীদের হামলায় আমরা বাধ্য হই প্রতিরোধ ও অভ্যুত্থানে।’

তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলনে যারা পক্ষে ছিল, তারা স্বাধীনতার পক্ষে ছিল। যারা বিরোধিতা করেছে, তারা ছিল ফ্যাসিবাদের পক্ষে।’ আঞ্চলিক রাজনীতির প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মৌলভীবাজার একটি সীমান্তবর্তী জেলা। পার্শ্ববর্তী আসাম ও ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু আসামে দীর্ঘদিন ধরে বাঙালিবিরোধী আন্দোলন চলছে। নাগরিকত্ব থেকে বাঙালি হিন্দু ও মুসলমানদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার মুসলমানদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করেছে।’

দক্ষিণ এশিয়ায় সম্প্রীতির রাজনীতি ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই নতুন বাংলাদেশে নতুন ব্যবস্থা। পুরোনো আইন-শাসনে দেশ চলতে পারে না। অভ্যুত্থানের পর নানা মহল পুরোনো সিস্টেমে ফেরার চেষ্টা করছে। কিন্তু জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি হতে দেওয়া যাবে না। বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধানের মাধ্যমে আমরা চাই একটি নতুন বাংলাদেশ।’

চা-শ্রমিকদের প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চা-বাগান মৌলভীবাজারে। অথচ এখানকার শ্রমিকেরা মজুরি বৈষম্যের শিকার। শ্রীলঙ্কায় একজন শ্রমিক ৫৫০ টাকা, ভারতে ৪০০ টাকার বেশি পেলেও বাংলাদেশে দেওয়া হয় মাত্র ১৭৯ টাকা।’ নির্বাচন বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল কর্মসংস্থানের। সেই দাবি এখন নির্বাচনের ইস্যুতে পর্যবসিত হয়েছে। আমরা চাই নির্বাচন, তবে বিচার ও সংস্কার ছাড়া সেই নির্বাচন অর্থহীন হয়ে পড়বে। জনগণ তা মেনে নেবে না।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনীতির পাশাপাশি আখিরাতের মুক্তির জন্যও কাজ করতে হবে: আজহার

পুলিশ হত্যার দায় ছাত্র-জনতার ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে: নাহিদ

আপডেট সময় ০৪:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিবিসির একটা রিপোর্টে দেখলাম, হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় পুলিশ হত্যার ঘটনাকে ডমিনেট করা হচ্ছে। পুলিশ হত্যার দায় আমাদের অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতার ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে। শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুর ১টায় মৌলভীবাজার শহরের বেরীর পাড় পয়েন্টে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৩ আগস্ট আমরা এক দফা দাবির মাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলাম—আমাদের আন্দোলন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে। কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু ছাত্রলীগ, পুলিশ ও সরকারপন্থী সন্ত্রাসীদের হামলায় আমরা বাধ্য হই প্রতিরোধ ও অভ্যুত্থানে।’

তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলনে যারা পক্ষে ছিল, তারা স্বাধীনতার পক্ষে ছিল। যারা বিরোধিতা করেছে, তারা ছিল ফ্যাসিবাদের পক্ষে।’ আঞ্চলিক রাজনীতির প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মৌলভীবাজার একটি সীমান্তবর্তী জেলা। পার্শ্ববর্তী আসাম ও ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু আসামে দীর্ঘদিন ধরে বাঙালিবিরোধী আন্দোলন চলছে। নাগরিকত্ব থেকে বাঙালি হিন্দু ও মুসলমানদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার মুসলমানদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করেছে।’

দক্ষিণ এশিয়ায় সম্প্রীতির রাজনীতি ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই নতুন বাংলাদেশে নতুন ব্যবস্থা। পুরোনো আইন-শাসনে দেশ চলতে পারে না। অভ্যুত্থানের পর নানা মহল পুরোনো সিস্টেমে ফেরার চেষ্টা করছে। কিন্তু জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি হতে দেওয়া যাবে না। বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধানের মাধ্যমে আমরা চাই একটি নতুন বাংলাদেশ।’

চা-শ্রমিকদের প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চা-বাগান মৌলভীবাজারে। অথচ এখানকার শ্রমিকেরা মজুরি বৈষম্যের শিকার। শ্রীলঙ্কায় একজন শ্রমিক ৫৫০ টাকা, ভারতে ৪০০ টাকার বেশি পেলেও বাংলাদেশে দেওয়া হয় মাত্র ১৭৯ টাকা।’ নির্বাচন বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল কর্মসংস্থানের। সেই দাবি এখন নির্বাচনের ইস্যুতে পর্যবসিত হয়েছে। আমরা চাই নির্বাচন, তবে বিচার ও সংস্কার ছাড়া সেই নির্বাচন অর্থহীন হয়ে পড়বে। জনগণ তা মেনে নেবে না।’