ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সরকারি চাকরি পেতে নেতার ফোন কেন: প্রশ্ন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আর কত দিন এ ধরনের খেলা চলবে: প্রশ্ন জামায়াত আমিরের একটি সন্ত্রাসী দেশ আমাকে প্রশ্ন করছে: পাকিস্তানি সাংবাদিককে জয়শঙ্কর অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে হুমকি, থানায় জিডি করলেন অপ্রতিমের বাবা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা হারাম: পেজেশকিয়ান সাদিক কায়েমকে নারীদের খেলাধুলা ও পোশাকের বিষয়ে সতর্ক করলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী শাশুড়িকে সম্মান না করায় ছেলেকে চড়, পরে বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা বিনিময়ে বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ট্যুরে যেতে টিকিট কেটে দেয়ার অফার দেয় শিক্ষক, ছাত্রদল নেত্রীর পোস্ট সময়মতো যুদ্ধের অস্ত্র পৌঁছে অথচ কৃষক সার পায় না: জাতিসংঘে নেপালের প্রধানমন্ত্রী ইরানের ৭ দিনের শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

সাদিক কায়েমকে নারীদের খেলাধুলা ও পোশাকের বিষয়ে সতর্ক করলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েমের জয়কে একটা সময় নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখেছিলেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। তবে এবার তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে নারীদের খেলাধুলা ও পোশাকের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে এসব বিষয়ে আলেমদের সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রফিকুল ইসলাম। শনিবার (২৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী এ নিয়ে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, অনেক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলাম ডাকসুতে সাদিক কায়েম জয়ী হওয়ার পরে। সারারাত সজাগ থেকে ফলাফলের দিকে চেয়েছিলাম। চাইলে যে কেউ আমার আইডিতে ঘুরে ঐ সময়ের পোস্টগুলো দেখতে পারেন। তিনি লেখেন, ‘কারণ একটাই—এ বিজয়কে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধী শক্তির বিজয় মনে করেছিলাম, নিজেদের বিজয় মনে করেছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আন্দোলন–সংগ্রামের সূতিকাগার; জুলাই আন্দোলনও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হইছে। তাই এখানে শিবিরের হাতে ক্ষমতা থাকা মানে দিল্লির জন্য বিশাল ভয়—আর সে কারণেই খুশি হয়েছিলাম।’ তিনি আরও লেখেন, ‘সাদিক কায়েম, এস এম ফরহাদরা অনেক কাজ করেছে—এটা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। সিট বাণিজ্য বন্ধ করা, যোগ্যতা অনুযায়ী সিট দেওয়া, বৃষ্টির দিনে মেয়েদের জন্য ভেনগাড়ি, আলাদা বাস, গরমের দিনে সুপেয় পানির ব্যবস্থা—এসব অবশ্যই প্রশংসনীয়।’ ‘কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমরা ত মুসলিম, আমরা কি শুধুমাত্র এসব কাজের জন্য কাউকে সাপোর্ট করতে পারি? নাকি দুনিয়ার সকল সুযোগ–সুবিধার চেয়েও আমাদের কাছে আল্লাহর বিধান বড়?’

তিনি লেখেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ইসলামিক জায়গা নয়, সব মেয়েও পর্দা করে না—তাহলে তারা বাস্কেটবল খেললে দোষের কী? বিষয়টা শুধুমাত্র খেলার নয়, বিষয়টা হলো শর্ট প্যান্ট ও টাইট ফিটিং গেঞ্জি পরে মেয়েদের খেলার আয়োজন করে সেটাকে প্রকাশ্যে উৎসাহ ও গর্বের সাথে উপস্থাপন করা। আরমান নামে একজন আয়োজকের জন্য হাত তালি দিতে বলা! সমস্যাটা ঠিক এই জায়গায়।’ ‘কারণ সাদিক কায়েমকে অনেক মেয়ে ফলো করে, নেতা মনে করে। তারা যখন দেখে সাদিক কায়েম শায়েখ আহমদুল্লাহ, শায়েখ মিজানুর রহমান আজহারী, শায়েখ মামুনুল হক, আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ সহ অনেক হুজুরের সাথে প্রোগ্রামে দেখা যায় এবং জামায়াতের আমিরসহ অনেক আলেমরা তাকে সাপোর্ট করেন—তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই মনে করবে, উনি যা করছেন সেটা মনে হয় সঠিক।’

রফিকুল ইসলাম লেখেন, ‘মারজিয়া মমতাজের মতো মহিলা শাখার মহিলারা যখন টকশোতে বলে মেয়েরা শর্ট প্যান্ট পরলেও সমস্যা নেই, তখন সেই সরলমনা মেয়েগুলো ইসলামকে কী ভাববে? তারা তো মনে করবে এগুলো সব জায়েজ! তাই আমি যে শায়েখদের নাম নিলাম, আপনাদের বলব—প্লিজ, এই বিষয়ে সুস্পষ্ট কথা বলুন। কারণ যেসব মেয়েরা সাদিক কায়েমকে ফলো করে, তাদের কাছে আমাদের হুজুরদের আওয়াজও পৌঁছে না। তাই আপনারা এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা তুলে ধরুন যাতে সাদিক কায়িম সহ সকলেই সতর্ক হতে পারে!’

তিনি লেখেন, ‘বিষয়টা শুধুমাত্র উন্নয়নের না, উন্নয়ন কিন্তু হাসিনা ও আওয়ামী লীগও অনেক করছিল। আমরা শুধু উন্নয়ন দেখিনি; তাদের এজেন্ডার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। কারণ আমাদের কাছে আদর্শ ও আল্লাহর বিধান গুরুত্বপূর্ণ। স্পষ্ট কথা—এপস্টিন ফাইলে জড়িত কুখ্যাত নরপিশাচ আমেরিকা ও পশ্চিমের কাছে নিজেদের প্রগতিশীল প্রমাণ করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা যদি ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে গৌণ করে দেয়, তাহলে কাকতালীয় ভাবে সেই ক্ষমতা যদি এসেও যায় সেটা ইসলামের পক্ষের হবে না, ফায়দাও হবে না। আর তখন সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধে আমাদের স্পষ্ট অবস্থানও থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি চাকরি পেতে নেতার ফোন কেন: প্রশ্ন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

সাদিক কায়েমকে নারীদের খেলাধুলা ও পোশাকের বিষয়ে সতর্ক করলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী

আপডেট সময় ১০:৫৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েমের জয়কে একটা সময় নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখেছিলেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। তবে এবার তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে নারীদের খেলাধুলা ও পোশাকের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে এসব বিষয়ে আলেমদের সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রফিকুল ইসলাম। শনিবার (২৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী এ নিয়ে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, অনেক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলাম ডাকসুতে সাদিক কায়েম জয়ী হওয়ার পরে। সারারাত সজাগ থেকে ফলাফলের দিকে চেয়েছিলাম। চাইলে যে কেউ আমার আইডিতে ঘুরে ঐ সময়ের পোস্টগুলো দেখতে পারেন। তিনি লেখেন, ‘কারণ একটাই—এ বিজয়কে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধী শক্তির বিজয় মনে করেছিলাম, নিজেদের বিজয় মনে করেছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আন্দোলন–সংগ্রামের সূতিকাগার; জুলাই আন্দোলনও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হইছে। তাই এখানে শিবিরের হাতে ক্ষমতা থাকা মানে দিল্লির জন্য বিশাল ভয়—আর সে কারণেই খুশি হয়েছিলাম।’ তিনি আরও লেখেন, ‘সাদিক কায়েম, এস এম ফরহাদরা অনেক কাজ করেছে—এটা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। সিট বাণিজ্য বন্ধ করা, যোগ্যতা অনুযায়ী সিট দেওয়া, বৃষ্টির দিনে মেয়েদের জন্য ভেনগাড়ি, আলাদা বাস, গরমের দিনে সুপেয় পানির ব্যবস্থা—এসব অবশ্যই প্রশংসনীয়।’ ‘কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমরা ত মুসলিম, আমরা কি শুধুমাত্র এসব কাজের জন্য কাউকে সাপোর্ট করতে পারি? নাকি দুনিয়ার সকল সুযোগ–সুবিধার চেয়েও আমাদের কাছে আল্লাহর বিধান বড়?’

তিনি লেখেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ইসলামিক জায়গা নয়, সব মেয়েও পর্দা করে না—তাহলে তারা বাস্কেটবল খেললে দোষের কী? বিষয়টা শুধুমাত্র খেলার নয়, বিষয়টা হলো শর্ট প্যান্ট ও টাইট ফিটিং গেঞ্জি পরে মেয়েদের খেলার আয়োজন করে সেটাকে প্রকাশ্যে উৎসাহ ও গর্বের সাথে উপস্থাপন করা। আরমান নামে একজন আয়োজকের জন্য হাত তালি দিতে বলা! সমস্যাটা ঠিক এই জায়গায়।’ ‘কারণ সাদিক কায়েমকে অনেক মেয়ে ফলো করে, নেতা মনে করে। তারা যখন দেখে সাদিক কায়েম শায়েখ আহমদুল্লাহ, শায়েখ মিজানুর রহমান আজহারী, শায়েখ মামুনুল হক, আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ সহ অনেক হুজুরের সাথে প্রোগ্রামে দেখা যায় এবং জামায়াতের আমিরসহ অনেক আলেমরা তাকে সাপোর্ট করেন—তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই মনে করবে, উনি যা করছেন সেটা মনে হয় সঠিক।’

রফিকুল ইসলাম লেখেন, ‘মারজিয়া মমতাজের মতো মহিলা শাখার মহিলারা যখন টকশোতে বলে মেয়েরা শর্ট প্যান্ট পরলেও সমস্যা নেই, তখন সেই সরলমনা মেয়েগুলো ইসলামকে কী ভাববে? তারা তো মনে করবে এগুলো সব জায়েজ! তাই আমি যে শায়েখদের নাম নিলাম, আপনাদের বলব—প্লিজ, এই বিষয়ে সুস্পষ্ট কথা বলুন। কারণ যেসব মেয়েরা সাদিক কায়েমকে ফলো করে, তাদের কাছে আমাদের হুজুরদের আওয়াজও পৌঁছে না। তাই আপনারা এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা তুলে ধরুন যাতে সাদিক কায়িম সহ সকলেই সতর্ক হতে পারে!’

তিনি লেখেন, ‘বিষয়টা শুধুমাত্র উন্নয়নের না, উন্নয়ন কিন্তু হাসিনা ও আওয়ামী লীগও অনেক করছিল। আমরা শুধু উন্নয়ন দেখিনি; তাদের এজেন্ডার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। কারণ আমাদের কাছে আদর্শ ও আল্লাহর বিধান গুরুত্বপূর্ণ। স্পষ্ট কথা—এপস্টিন ফাইলে জড়িত কুখ্যাত নরপিশাচ আমেরিকা ও পশ্চিমের কাছে নিজেদের প্রগতিশীল প্রমাণ করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা যদি ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে গৌণ করে দেয়, তাহলে কাকতালীয় ভাবে সেই ক্ষমতা যদি এসেও যায় সেটা ইসলামের পক্ষের হবে না, ফায়দাও হবে না। আর তখন সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধে আমাদের স্পষ্ট অবস্থানও থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’