ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘আমি ওসমানকে দেশের জন্য রেখেছিলাম’: মাসুমা হাদি মুক্তাগাছায় জাতীয় পার্টির ২ শতাধিক নেতার বিএনপিতে যোগদান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ে বাড়িতে যাওয়া নিয়ে সংঘর্ষ : সাবেক ইউপি সদস্য নিহত, আহত অন্তত ২০ তাহেরির স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, নিজের আছে ৩১ ভরি ‘মুজিব কোট আয়রন করে তুলে রেখেছি, এবার ধানের শীষে ভোট দেবো’ বছরের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল ভারত খালেদা জিয়ার জন্য আয়োজিত দোয়া মাহফিলে হামলা করে খাবার লুট, আহত ২ মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে ভারতে খেলতে যাওয়ার সুপারিশ আইসিসির বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ‘স্টারলিংক’ ইন্টারনেট অচল করে দিলো ইরান সরকারি ক্যাম্পেইনের ব্যানারে ‘ধানের শীষে ভোট দিন’ লেখা নিয়ে তোলপাড়

২৪ ঘণ্টায় গাজায় আরও ৭১ নিহত, ত্রাণ নিতে গিয়ে চার সপ্তাহে প্রাণ গেল ৫৪৯ ফিলিস্তিনির

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫
  • ২৭৮ বার পড়া হয়েছে

ইসরায়েলি বাহিনীর টানা আক্রমণে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় রক্তপাত থামছে না। হাসপাতাল সূত্র উদ্ধৃত করে আল জাজিরা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নতুন এই প্রাণহানি যোগ হয়ে ২০২৩-এর অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনে, আহতের সংখ্যা পৌঁছেছে এক লাখ ৩২ হাজার ৪৫৮-এ।

বিশাল এ মৃত্যুর মিছিলে নতুন করে দৃষ্টি কাড়ছে আরেকটি ভয়াবহ পরিসংখ্যান। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, গত চার সপ্তাহে মানবিক সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি গুলিতে ৫৪৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৬৬ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনা ঘটেছে মার্কিন ও ইসরায়েলি সমর্থিত ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)’ পরিচালিত ত্রাণকেন্দ্র ও তাদের আশপাশে, যেখানে ক্ষুধার্ত মানুষ সাহায্যের আশায় জড়ো হয়।

খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট যে কতটা চরমে, তা সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) এক প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ এখন তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, আর উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিদিনই। ইসরায়েলি হামলায় সড়কবন্দর বিধ্বস্ত, ত্রাণবাহী ট্রাকগুলোকে ঘনঘন তল্লাশিতে আটকে দেওয়া হচ্ছে; কখনও সরাসরি হামলার মুখেও পড়ছে তারা, বলে অভিযোগ ‘ডাক্তারস উইদাউট বর্ডারস’সহ (এমএসএফ) একাধিক মানবাধিকার সংস্থার।

ফিলিস্তিনিদের ত্রাণ পেতে গিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সূত্রপাত করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গাজার জন্য “নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ” মানবিক করিডর চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ত্রাণে বাধা দেওয়া ও বেসামরিক জনতার ওপর নিপীড়ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক সংকট প্রতিদিনই আরও তীব্র আকার নিচ্ছে। খাদ্য, ওষুধ, নিরাপদ আশ্রয়—সবকিছুর ঘাটতি যখন মর্মান্তিক পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন ত্রাণ সংগ্রহের ওই হতাহত-পরিসংখ্যান যুদ্ধের ভয়াবহতার আরেকটি মূর্ত প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপ আর নিন্দার মধ্যেও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায়, গাজার বাসিন্দাদের সামনে এখনো আশু কোন স্বস্তির আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আমি ওসমানকে দেশের জন্য রেখেছিলাম’: মাসুমা হাদি

২৪ ঘণ্টায় গাজায় আরও ৭১ নিহত, ত্রাণ নিতে গিয়ে চার সপ্তাহে প্রাণ গেল ৫৪৯ ফিলিস্তিনির

আপডেট সময় ১১:২৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫

ইসরায়েলি বাহিনীর টানা আক্রমণে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় রক্তপাত থামছে না। হাসপাতাল সূত্র উদ্ধৃত করে আল জাজিরা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নতুন এই প্রাণহানি যোগ হয়ে ২০২৩-এর অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনে, আহতের সংখ্যা পৌঁছেছে এক লাখ ৩২ হাজার ৪৫৮-এ।

বিশাল এ মৃত্যুর মিছিলে নতুন করে দৃষ্টি কাড়ছে আরেকটি ভয়াবহ পরিসংখ্যান। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, গত চার সপ্তাহে মানবিক সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি গুলিতে ৫৪৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৬৬ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনা ঘটেছে মার্কিন ও ইসরায়েলি সমর্থিত ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)’ পরিচালিত ত্রাণকেন্দ্র ও তাদের আশপাশে, যেখানে ক্ষুধার্ত মানুষ সাহায্যের আশায় জড়ো হয়।

খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট যে কতটা চরমে, তা সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) এক প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ এখন তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, আর উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিদিনই। ইসরায়েলি হামলায় সড়কবন্দর বিধ্বস্ত, ত্রাণবাহী ট্রাকগুলোকে ঘনঘন তল্লাশিতে আটকে দেওয়া হচ্ছে; কখনও সরাসরি হামলার মুখেও পড়ছে তারা, বলে অভিযোগ ‘ডাক্তারস উইদাউট বর্ডারস’সহ (এমএসএফ) একাধিক মানবাধিকার সংস্থার।

ফিলিস্তিনিদের ত্রাণ পেতে গিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সূত্রপাত করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গাজার জন্য “নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ” মানবিক করিডর চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ত্রাণে বাধা দেওয়া ও বেসামরিক জনতার ওপর নিপীড়ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক সংকট প্রতিদিনই আরও তীব্র আকার নিচ্ছে। খাদ্য, ওষুধ, নিরাপদ আশ্রয়—সবকিছুর ঘাটতি যখন মর্মান্তিক পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন ত্রাণ সংগ্রহের ওই হতাহত-পরিসংখ্যান যুদ্ধের ভয়াবহতার আরেকটি মূর্ত প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপ আর নিন্দার মধ্যেও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায়, গাজার বাসিন্দাদের সামনে এখনো আশু কোন স্বস্তির আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে না।