ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভিআইপি গ্যালারিতে থাকছেন ট্রাম্প, আর্জেন্টিনা-স্পেনের প্রধানরা থাকছেন কি? ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বললেন যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পেয়ে নাহিদ এক দফার ঘোষণা করেছিল: রাশেদ খান আইনমন্ত্রীর পরিচয়ে প্রতারণা করতেন আতিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় ফাইনালের আগে নিউইয়র্কে বায়ুদূষণ সতর্কতা ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পর্শকাতর তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাস চুয়াডাঙ্গায় বাল্যবিয়ের আয়োজনে প্রশাসনের হানা, কনের মাকে জরিমানা লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হলেন যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফরের বিচার অন্য আসামিদের মতোই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেক্সিকোতে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা

খোলা হলো পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিলল রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ৭৬১ বার পড়া হয়েছে

এবার কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স ছয় মাস পর খোলা হয়েছে। সাধারণত তিন থেকে চার মাস পরপর এসব দানবাক্স খোলা হয়। তবে এবার ছয় মাস পর খোলা হলো। যতবারই খোলা হয় ততবারই আগের রেকর্ড ভাঙে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসন ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এখন পর্যন্ত ১৩টি দানবাক্সে মোট ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে গণনা। দানবাক্স খোলা ও গণনা কার্যক্রম সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সবশেষ গত ২৭ ডিসেম্বর খোলা হয়েছিল দানবাক্সগুলো। সে সময় ১৩টি সিন্দুকে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। গণনা শেষে মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এ ছাড়া, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকারসহ নানা পণ্যসামগ্রী পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, সব ধর্মের মানুষের কাছে পাগলা মসজিদ এক সার্বজনীন পবিত্র ধর্মীয় কেন্দ্র। মানুষজন বিশ্বাস করেন, যদি কেউ একনিষ্ঠ নিয়তে পাগলা মসজিদে কোনো কিছু দান করে, তাহলে তার মনের বাসনা পূরণ হয়। এমন বিশ্বাসের কারণে মানুষজন পাগলা মসজিদে প্রচুর দানখয়রত করেন। অনেক মানুষ মনের বাসনা, রোগমুক্তি, উচ্চ শিক্ষা, সন্তান লাভসহ বিভিন্ন নিয়তে এই মসজিদে মানত করে থাকেন। শুধু টাকাপয়সা নয়, অনেকেই স্বর্ণালংকার, হাঁসমুরগি, গবাদি প্রাণী ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী দান করে থাকেন।

প্রচলিত আছে, পাগলবেশী এক আধ্যাত্নিক সাধক নরসুন্দা নদীর বুকে মাদুরে ভেসে মসজিদের স্থানে এসে অবস্থান নেন। এরপর ধীরে ধীরে তাকে ঘিরে ভক্ত সমাগম হতে থাকে। আধ্যাত্নিক সাধকের মৃত্যুর পর তার কবরের পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। যা বর্তমানে পাগলা মসজিদ নামে সুপরিচিত। ১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে ওয়াকফস্টেট মসজিদটি পরিচালনা করছে। মসজিদটি আড়াইশো বছরের পুরনো। কিশোরগঞ্জ সদরের নরসুন্দা নদীর তীরে তিন একর ৮৮ শতাংশ জায়গার ওপর ঐতিহাসিক এ মসজিদটি অবস্থিত।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিআইপি গ্যালারিতে থাকছেন ট্রাম্প, আর্জেন্টিনা-স্পেনের প্রধানরা থাকছেন কি?

খোলা হলো পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিলল রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা

আপডেট সময় ১০:১৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

এবার কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স ছয় মাস পর খোলা হয়েছে। সাধারণত তিন থেকে চার মাস পরপর এসব দানবাক্স খোলা হয়। তবে এবার ছয় মাস পর খোলা হলো। যতবারই খোলা হয় ততবারই আগের রেকর্ড ভাঙে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসন ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এখন পর্যন্ত ১৩টি দানবাক্সে মোট ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে গণনা। দানবাক্স খোলা ও গণনা কার্যক্রম সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সবশেষ গত ২৭ ডিসেম্বর খোলা হয়েছিল দানবাক্সগুলো। সে সময় ১৩টি সিন্দুকে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। গণনা শেষে মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এ ছাড়া, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকারসহ নানা পণ্যসামগ্রী পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, সব ধর্মের মানুষের কাছে পাগলা মসজিদ এক সার্বজনীন পবিত্র ধর্মীয় কেন্দ্র। মানুষজন বিশ্বাস করেন, যদি কেউ একনিষ্ঠ নিয়তে পাগলা মসজিদে কোনো কিছু দান করে, তাহলে তার মনের বাসনা পূরণ হয়। এমন বিশ্বাসের কারণে মানুষজন পাগলা মসজিদে প্রচুর দানখয়রত করেন। অনেক মানুষ মনের বাসনা, রোগমুক্তি, উচ্চ শিক্ষা, সন্তান লাভসহ বিভিন্ন নিয়তে এই মসজিদে মানত করে থাকেন। শুধু টাকাপয়সা নয়, অনেকেই স্বর্ণালংকার, হাঁসমুরগি, গবাদি প্রাণী ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী দান করে থাকেন।

প্রচলিত আছে, পাগলবেশী এক আধ্যাত্নিক সাধক নরসুন্দা নদীর বুকে মাদুরে ভেসে মসজিদের স্থানে এসে অবস্থান নেন। এরপর ধীরে ধীরে তাকে ঘিরে ভক্ত সমাগম হতে থাকে। আধ্যাত্নিক সাধকের মৃত্যুর পর তার কবরের পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। যা বর্তমানে পাগলা মসজিদ নামে সুপরিচিত। ১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে ওয়াকফস্টেট মসজিদটি পরিচালনা করছে। মসজিদটি আড়াইশো বছরের পুরনো। কিশোরগঞ্জ সদরের নরসুন্দা নদীর তীরে তিন একর ৮৮ শতাংশ জায়গার ওপর ঐতিহাসিক এ মসজিদটি অবস্থিত।