জাতিসংঘ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে রীতিমতো ‘বেইমানি’ শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিও আলোচনায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
রনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘ ও তাদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রেশার গ্রুপ যে ধরনের চাপ বাংলাদেশ সরকারের ওপর প্রয়োগ করছে, তা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত ছিল না। বরং প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে আওয়ামী লীগকে আবার রাজনীতিতে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করা, ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় জাতিসংঘ জড়িত—এমন ইঙ্গিতও তিনি দেন।
তিনি আরও বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশে আসার পেছনে বহু আন্তর্জাতিক মাস্টারমাইন্ড কাজ করেছে—এ কথা উপদেষ্টা নিজেও বলেছেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের নেপথ্যে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ছিল—এটিও এখন “ওপেন সিক্রেট” বলে মন্তব্য করেন তিনি। রনি দাবি করেন, মার্কিন ডিপস্টেটের ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক অর্থ-পৃষ্ঠপোষক জর্জ সরোসও বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিনিয়োগ করেছিলেন, যার প্রমাণ তার ছেলের ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ।
জাতিসংঘের ভূমিকা প্রসঙ্গে রনি অভিযোগ করে বলেন, জাতিসংঘ যা করে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশেই করে। ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের অতিমাত্রায় সহযোগিতা সরকারকে বিপুল অঙ্কের ঋণের আশায় উজ্জীবিত করলেও শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা উবে যায়। বরং পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুমোদিত অনেক ঋণই স্থগিত বা বাতিল হয়।
রোহিঙ্গা ইস্যুতেও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ করেন তিনি। রনি বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের সফর, ইফতার অংশগ্রহণ এবং ইউনূসের বক্তব্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে একজনও ফিরে যায়নি। বরং ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ নতুন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, আরও সমানসংখ্যক সীমান্তে অপেক্ষা করছে—যা বাংলাদেশের জন্য “আত্মঘাতী ও বেঈমানি” বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র আবার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে আহ্বান জানাচ্ছে, মানবাধিকার ইস্যুতে আওয়ামী লীগ নিয়ে সদয় হচ্ছে—যা ইউনূস সরকার, এনসিপি ও জামায়াত নেতৃত্বের জন্য বড় ধরনের অপমানজনক পরিস্থিতি।
গোলাম মাওলা রনির মতে, পশ্চিমা বিশ্বের ঘনঘন বাংলাদেশ আগমন, নির্বাচন নিয়ে চাপ এবং আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক সমীকরণে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের আচরণ এখন সরকারের জন্য “গলায় দড়ি নিয়ে দাঁড়ানোর মতো বেদনাদায়ক” পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























