ঢাকা , রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি জানিয়ে নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০৯৮ বার পড়া হয়েছে

জামায়াতে ইসলামীসহ ৮–দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য। নীতিগত এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে আজ শনিবার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে একটি চিঠি দিয়েছেন তাঁরা।
দলের যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিঠিতে এনসিপির ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাংঘর্ষিক অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত এক বছরে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবির বিভাজনমূলক রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে। এনসিপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার, গুপ্তচরবৃত্তি ও স্যাবোটাজের অভিযোগ, ছাত্রসংসদ নির্বাচন ও ছাত্রসংগঠন নিয়ে মিথ্যাচার, এমনকি অনলাইন মাধ্যমে এনসিপি ও তাদের ছাত্রসংগঠনের নারী সদস্যদের চরিত্রহননের চেষ্টা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত বলে উল্লেখ করেন নেতারা।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা, গণহত্যায় সহযোগিতা এবং সে সময় সংঘটিত অপরাধ বিষয়ে তাদের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও এনসিপির মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।
নেতাদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ধরনের জোট এনসিপির নৈতিক অবস্থান ও রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করবে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাঁরা স্মরণ করিয়ে দেন, দলের নেতৃত্ব আগেই ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে এবং প্রায় দেড় হাজার মনোনয়নপত্র বিক্রি করে ইতোমধ্যে ১২৫ জন প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অল্প কিছু আসনের জন্য জোটে যাওয়া জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জোটের সম্ভাবনার খবর প্রকাশের পর থেকেই এনসিপির সমর্থক কর্মী-সংগঠক ও মধ্যপন্থী ভোটারদের একটি বড় অংশ সমর্থন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এতে ভবিষ্যতে দলের মধ্যপন্থী ও নতুন রাজনীতি প্রত্যাশী সমর্থক ভিত্তি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
সবশেষে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে নেতারা বলেন, কৌশল নির্ধারণে নীতিগত অবস্থানই মুখ্য হওয়া উচিত; কৌশলগত কারণে নীতিগত অবস্থান বিসর্জন দেওয়া ঠিক হবে না।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মো. মুরসালীন, সংগঠক রফিকুল ইসলাম আইনীসহ কেন্দ্রীয় কমিটির আরও

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদের প্রথম অধিবেশ ব্যর্থ হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি জানিয়ে নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

জামায়াতে ইসলামীসহ ৮–দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য। নীতিগত এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে আজ শনিবার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে একটি চিঠি দিয়েছেন তাঁরা।
দলের যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিঠিতে এনসিপির ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাংঘর্ষিক অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত এক বছরে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবির বিভাজনমূলক রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে। এনসিপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার, গুপ্তচরবৃত্তি ও স্যাবোটাজের অভিযোগ, ছাত্রসংসদ নির্বাচন ও ছাত্রসংগঠন নিয়ে মিথ্যাচার, এমনকি অনলাইন মাধ্যমে এনসিপি ও তাদের ছাত্রসংগঠনের নারী সদস্যদের চরিত্রহননের চেষ্টা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত বলে উল্লেখ করেন নেতারা।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা, গণহত্যায় সহযোগিতা এবং সে সময় সংঘটিত অপরাধ বিষয়ে তাদের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও এনসিপির মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।
নেতাদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ধরনের জোট এনসিপির নৈতিক অবস্থান ও রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করবে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাঁরা স্মরণ করিয়ে দেন, দলের নেতৃত্ব আগেই ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে এবং প্রায় দেড় হাজার মনোনয়নপত্র বিক্রি করে ইতোমধ্যে ১২৫ জন প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অল্প কিছু আসনের জন্য জোটে যাওয়া জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জোটের সম্ভাবনার খবর প্রকাশের পর থেকেই এনসিপির সমর্থক কর্মী-সংগঠক ও মধ্যপন্থী ভোটারদের একটি বড় অংশ সমর্থন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এতে ভবিষ্যতে দলের মধ্যপন্থী ও নতুন রাজনীতি প্রত্যাশী সমর্থক ভিত্তি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
সবশেষে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে নেতারা বলেন, কৌশল নির্ধারণে নীতিগত অবস্থানই মুখ্য হওয়া উচিত; কৌশলগত কারণে নীতিগত অবস্থান বিসর্জন দেওয়া ঠিক হবে না।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মো. মুরসালীন, সংগঠক রফিকুল ইসলাম আইনীসহ কেন্দ্রীয় কমিটির আরও