ঢাকা , শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চিকি/ৎসার নামে লন্ডনে, আর সময় কাটছে শপিংয়ে— রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে বিতর্ক ‘রবার্ট ক্লাইভ-মীর জাফরের চুক্তির মতোই ইউনূসের সঙ্গে আমেরিকার চুক্তি’ পাকিস্তানের ‘জেএফ-১৭ ব্লক ৩’ সিমুলেটর ঢাকায়, যুদ্ধবিমান চুক্তির ইঙ্গিত দেখছেন বিশ্লেষকরা স্ত্রীর পরকীয়া, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জীবন দিলেন ব্যবসায়ী চীন থেকে দেশে ফেরার পথেই তাইওয়ানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি মেসি আর খেলবেন না, ভাবতেই মন খারাপ হয় কোচ স্ক্যালোনির কারিনা, তোমার মতো সাহসী মানুষের দরকার ছিল বাংলাদেশে: তাসনিম জারা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামে বাঁচছে ইরানের লাখ লাখ শিশু, বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ ক্লাইভের সঙ্গে মীর জাফরের চুক্তি আর আমেরিকার সঙ্গে ইউনূসের চুক্তি একইঃ ফজলুর রহমান ভারতে মসজিদকে মন্দির ঘোষণা আদালতের, নামাজ পড়তে পারবেন না মুসল্লিরা

বড় ভূমিকম্পের শঙ্কায় বাংলাদেশ, প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১২৬ বার পড়া হয়েছে

এবার বাংলাদেশ অঞ্চলে সবশেষ ৯৬ বছর আগে ১৯৩০ সালের সর্বোচ্চ ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। এর আগের ৬৫ বছর ভূমি তছনছ করা ভূমিকম্প হয়েছিল ৬ বার। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিশ্চিত করে কিছু বলা না গেলেও প্রায় শত বছর পার করা এসব প্লেট যেকোনো সময় তীব্র ঝাঁকুনি সৃষ্টি করতে পারে। এ অবস্থায় বাসাবাড়িসহ সব অবকাঠামো ভূমিকম্প সহনীয় করে তোলাই হবে প্রধান প্রস্তুতি। গত বছরের ২১ নভেম্বর দেশের অভ্যন্তরে বড় ভূকম্পনটি হয় নরসিংদীতে। ইন্দোবার্মা টেকটনিক প্লেটের এই অংশে ঝাঁকুনির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭ মাত্রা। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কয়েকজনের প্রাণহানী ঘটে। আর মাত্র তিন মাসের মাথায় গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর ৫ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে ফের কেঁপে উঠলো সারাদেশ।

চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই ১০ দফা ভূকম্পন। গড়ে প্রায় দুই দিনে একটি। এমন ঘনঘন কম্পন কি বড় বিপর্যয়ের আভাস? এ বিষয়ে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বারবার যদি ভূমিকম্প হয়, আমরা জানি প্লেট বাউন্ডারিতে গেলে সেখানে শক্তি সৃষ্টি হয়। শক্তিগুলো জমা হতে হতে যদি আর জায়গা না পায় তখন সেটা বিস্ফোরণ ঘটে, শক্তিটুকু বের হয়ে আসে। এমতাবস্থায় বারবার যদি এরকম বের হওয়ার চেষ্টা করে, তখন সেখানে মনে হয় যে একটা বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। তিনি আরও বলেন, বিল্ডিং এসেসমেন্ট করতে হবে। সেটা ইঞ্জিনিয়ারদের শেখাতে হবে। আর সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বাড়ি ও স্থাপনাগুলোর মালিক, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, না হয় তো তারা করবে না।

বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল- সবশেষ ১৮৯৭ সালের ১২ই জুনগ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েকছিল ৮ মাত্রারও বেশি। গবেষণা বলছে, বাংলাদেশের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া কিছু বড় প্লেট বাউন্ডারি আর ভেতরে ও অতি নিকটের ফল্ট লাইনগুলোর ১০০ থেকে ১৫০ বছর পর পর ৭ এর বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। ৮ এর অধিক মাত্রার ভূমিকম্পেরও আশঙ্কা আছে, যা ২৫০ থেকে হাজার বছর পর পর ফিরে আসে।

এদিকে, পরিসংখ্যান বলছে, শুধু রাজধানী ঢাকায় ২১ লাখ বাসাবাড়ি আছে। যার ৩০ শতাংশই ৬ তলার বেশি। এগুলোর ৯০ শতাংশই ভূমিকম্প সহনীয় নয়। আর সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অবকাঠামো আছে শত শত। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, আমাদের নতুন ছোট ছোট ভূমিকম্প নিয়ে চিন্তা ও উদ্বেগেরও কিছু নেই। কিন্তু অতীতে যে বড় ভূমিকম্পগুলো হয়েছে, ওগুলো নিয়ে চিন্তার বিষয় আছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চিকি/ৎসার নামে লন্ডনে, আর সময় কাটছে শপিংয়ে— রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে বিতর্ক

বড় ভূমিকম্পের শঙ্কায় বাংলাদেশ, প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

আপডেট সময় ১০:২৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার বাংলাদেশ অঞ্চলে সবশেষ ৯৬ বছর আগে ১৯৩০ সালের সর্বোচ্চ ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। এর আগের ৬৫ বছর ভূমি তছনছ করা ভূমিকম্প হয়েছিল ৬ বার। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিশ্চিত করে কিছু বলা না গেলেও প্রায় শত বছর পার করা এসব প্লেট যেকোনো সময় তীব্র ঝাঁকুনি সৃষ্টি করতে পারে। এ অবস্থায় বাসাবাড়িসহ সব অবকাঠামো ভূমিকম্প সহনীয় করে তোলাই হবে প্রধান প্রস্তুতি। গত বছরের ২১ নভেম্বর দেশের অভ্যন্তরে বড় ভূকম্পনটি হয় নরসিংদীতে। ইন্দোবার্মা টেকটনিক প্লেটের এই অংশে ঝাঁকুনির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭ মাত্রা। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কয়েকজনের প্রাণহানী ঘটে। আর মাত্র তিন মাসের মাথায় গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর ৫ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে ফের কেঁপে উঠলো সারাদেশ।

চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই ১০ দফা ভূকম্পন। গড়ে প্রায় দুই দিনে একটি। এমন ঘনঘন কম্পন কি বড় বিপর্যয়ের আভাস? এ বিষয়ে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বারবার যদি ভূমিকম্প হয়, আমরা জানি প্লেট বাউন্ডারিতে গেলে সেখানে শক্তি সৃষ্টি হয়। শক্তিগুলো জমা হতে হতে যদি আর জায়গা না পায় তখন সেটা বিস্ফোরণ ঘটে, শক্তিটুকু বের হয়ে আসে। এমতাবস্থায় বারবার যদি এরকম বের হওয়ার চেষ্টা করে, তখন সেখানে মনে হয় যে একটা বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। তিনি আরও বলেন, বিল্ডিং এসেসমেন্ট করতে হবে। সেটা ইঞ্জিনিয়ারদের শেখাতে হবে। আর সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বাড়ি ও স্থাপনাগুলোর মালিক, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, না হয় তো তারা করবে না।

বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল- সবশেষ ১৮৯৭ সালের ১২ই জুনগ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েকছিল ৮ মাত্রারও বেশি। গবেষণা বলছে, বাংলাদেশের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া কিছু বড় প্লেট বাউন্ডারি আর ভেতরে ও অতি নিকটের ফল্ট লাইনগুলোর ১০০ থেকে ১৫০ বছর পর পর ৭ এর বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। ৮ এর অধিক মাত্রার ভূমিকম্পেরও আশঙ্কা আছে, যা ২৫০ থেকে হাজার বছর পর পর ফিরে আসে।

এদিকে, পরিসংখ্যান বলছে, শুধু রাজধানী ঢাকায় ২১ লাখ বাসাবাড়ি আছে। যার ৩০ শতাংশই ৬ তলার বেশি। এগুলোর ৯০ শতাংশই ভূমিকম্প সহনীয় নয়। আর সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অবকাঠামো আছে শত শত। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, আমাদের নতুন ছোট ছোট ভূমিকম্প নিয়ে চিন্তা ও উদ্বেগেরও কিছু নেই। কিন্তু অতীতে যে বড় ভূমিকম্পগুলো হয়েছে, ওগুলো নিয়ে চিন্তার বিষয় আছে।