প্রোস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন বা পিএসএ পরীক্ষার ফল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এলেই অনেকেই প্রোস্টেট ক্যানসার নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসকদের মতে, পিএসএর মাত্রা বাড়া মানেই ক্যানসার হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। আবার বিষয়টি অবহেলা করাও উচিত নয়।

পিএসএ হলো প্রোস্টেট গ্রন্থি থেকে তৈরি একটি বিশেষ প্রোটিন, যা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। সাধারণত শূন্য থেকে ৪ ন্যানোগ্রাম প্রতি মিলিলিটার পর্যন্ত পিএসএকে স্বাভাবিক ধরা হয়। তবে ৪ থেকে ১০-এর মধ্যে থাকলেও সব ক্ষেত্রে ক্যানসার থাকে না।

চিকিৎসকদের মতে, প্রোস্টেট গ্রন্থির সংক্রমণ, মূত্রনালীর সংক্রমণ, প্রস্রাব আটকে যাওয়া, সাম্প্রতিক ক্যাথেটার ব্যবহার বা অন্য কোনো ইউরিনারি প্রসিডিউর এবং প্রোস্টেটের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণেও পিএসএর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

তাই পরীক্ষায় পিএসএ বেশি এলে আতঙ্কিত না হয়ে একজন বিশেষজ্ঞ ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পিএসএ বাড়ার প্রকৃত কারণ এবং ক্যানসারের ঝুঁকি আছে কি না, তা নির্ণয় করা যায়।

বিশেষ করে পিএসএ বাড়ার পাশাপাশি প্রস্রাব করতে কষ্ট, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যাওয়া কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

অর্থাৎ, পিএসএ বেশি মানেই ক্যানসার নয়; তবে কারণ জানতে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।