ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটের জন্য বিগত সরকার দায়ী: ডিএসসিসি প্রশাসক নো গ্যাস নো বিল, নো সার্ভিস নো ট্যাক্স: রুমিন ফারহানা ছয় দফা না মানলে সরকার পতনে এক দফা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কানাডায় ২ শিশুকে ৯ মাস যৌন নিপীড়ন, প্রবাসী আর্ট শিক্ষক গ্রেপ্তার জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বিএনপি নায়ক হতে পারতো, কিন্তু ভিলেনে পরিণত হয়েছে: তাজুল ইসলাম জাতিসংঘে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফিলিস্তিনে ধ্বংসস্তূপ থেকে একই পরিবারের ৫৫ লাশ উদ্ধার ‘আমি চলে গেলে কেউ আমার নাম দেবে না’, তাই সবকিছুতে নিজের নাম দিচ্ছেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে আকস্মিক হামলা চালাতে পারে ইরান

অজান্তেই স্ট্রোক ডেকে আনছে যেসব দৈনন্দিন অভ্যাস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৪২১ বার পড়া হয়েছে

স্ট্রোক এমন একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা, যা মুহূর্তের মধ্যেই একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া বা রক্তনালি ফেটে যাওয়ার কারণে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক ক্ষেত্রে এর ফলে স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতাও দেখা দেয়। তবে আশার কথা হলো, বিশেষজ্ঞদের মতে প্রায় ৮০ শতাংশ স্ট্রোকই প্রতিরোধযোগ্য—যদি সময়মতো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা যায়।

স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়াম

অতিরিক্ত ওজন স্ট্রোকের অন্যতম বড় ঝুঁকির কারণ। এটি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের মতো সমস্যার জন্ম দেয়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণ শস্য, মাছ ও স্বাস্থ্যকর তেল রাখুন। একই সঙ্গে চিনি, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

নিয়মিত শরীরচর্চাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতেই কঠিন ব্যায়াম নয়, প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়ামের অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরল অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীরের ক্ষতি করে। তাই নিজেকে সুস্থ মনে হলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ

অনিদ্রা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন এবং মানসিক চাপ কমাতে প্রয়োজন হলে মেডিটেশন, হাঁটা বা পছন্দের কোনো কাজে সময় দিন।

ধূমপান ও মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন

ধূমপান স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণগুলোর একটি। পাশাপাশি অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তচাপ বাড়ায় এবং হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে। তাই এসব অভ্যাস যত দ্রুত ত্যাগ করা যায়, ততই ভালো।

স্ট্রোকের লক্ষণ চিনে রাখুন

স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে—

  • হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা বা হাঁটতে সমস্যা হওয়া
  • চোখে ঝাপসা দেখা বা হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
  • মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া বা অবশ হয়ে পড়া
  • এক হাত বা এক পাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া
  • কথা বলতে বা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া

অনেকেই মনে করেন স্ট্রোক শুধু বয়স্কদের রোগ। বাস্তবে এখন তরুণদের মধ্যেও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই বয়স যাই হোক না কেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান পরিহার এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এই কয়েকটি অভ্যাসই আপনাকে স্ট্রোকসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখতে পারে। সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটের জন্য বিগত সরকার দায়ী: ডিএসসিসি প্রশাসক

অজান্তেই স্ট্রোক ডেকে আনছে যেসব দৈনন্দিন অভ্যাস

আপডেট সময় ০৪:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

স্ট্রোক এমন একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা, যা মুহূর্তের মধ্যেই একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া বা রক্তনালি ফেটে যাওয়ার কারণে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক ক্ষেত্রে এর ফলে স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতাও দেখা দেয়। তবে আশার কথা হলো, বিশেষজ্ঞদের মতে প্রায় ৮০ শতাংশ স্ট্রোকই প্রতিরোধযোগ্য—যদি সময়মতো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা যায়।

স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়াম

অতিরিক্ত ওজন স্ট্রোকের অন্যতম বড় ঝুঁকির কারণ। এটি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের মতো সমস্যার জন্ম দেয়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণ শস্য, মাছ ও স্বাস্থ্যকর তেল রাখুন। একই সঙ্গে চিনি, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

নিয়মিত শরীরচর্চাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতেই কঠিন ব্যায়াম নয়, প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়ামের অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরল অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীরের ক্ষতি করে। তাই নিজেকে সুস্থ মনে হলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ

অনিদ্রা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন এবং মানসিক চাপ কমাতে প্রয়োজন হলে মেডিটেশন, হাঁটা বা পছন্দের কোনো কাজে সময় দিন।

ধূমপান ও মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন

ধূমপান স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণগুলোর একটি। পাশাপাশি অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তচাপ বাড়ায় এবং হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে। তাই এসব অভ্যাস যত দ্রুত ত্যাগ করা যায়, ততই ভালো।

স্ট্রোকের লক্ষণ চিনে রাখুন

স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে—

  • হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা বা হাঁটতে সমস্যা হওয়া
  • চোখে ঝাপসা দেখা বা হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
  • মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া বা অবশ হয়ে পড়া
  • এক হাত বা এক পাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া
  • কথা বলতে বা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া

অনেকেই মনে করেন স্ট্রোক শুধু বয়স্কদের রোগ। বাস্তবে এখন তরুণদের মধ্যেও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই বয়স যাই হোক না কেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান পরিহার এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এই কয়েকটি অভ্যাসই আপনাকে স্ট্রোকসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখতে পারে। সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।