গণ-অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফারুক হাসান বলেছেন, এটা পরিষ্কার যে এটি ভারতীয় পরিকল্পনা। ভারত আগামীতে জাতীয় পার্টিকে প্রধান বিরোধীদল বানাতে চায়। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার মিশন, ভারতের পরিকল্পনায় যারা এই সরকারের ভেতরে আওয়ামী দোসর লুকিয়ে আছে, ঘাপটি মেরে আছে তারা ইতিমধ্যেই এই পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেছে। সেজন্যই মূলত তারা জাতীয় পার্টিকে এখন পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ন্যূনতম কোন আগ্রহ দেখাচ্ছেনা।
ফারুক বলেন, আওয়ামী লীগের অন্যতম দোসর ও সহযোগী ১৪ দল ও জাতীয় পার্টির বিষয়ে আমাদের বক্তব্য সুস্পষ্ট। যেসকল অভিযোগের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে একই অভিযোগে অভিযুক্ত ১৪ দল ও জাতীয় পার্টি। তাহলে আপনারা আওয়ামী লীগ কে নিষিদ্ধ করলেন কিন্তু তাদের দোসরদের পুরস্কৃত করলেন। তাদের সেনাবাহিনী দিয়ে পাহারা দিচ্ছেন প্রোটোকল দিচ্ছেন এটা ন্যায় বিচার হতে পারে না ন্যায়বিচারের নমুনা হতে পারে না। তিনজন চোর চুরি করল চোরের সরদার কে আপনি শাস্তি দিলেন কিন্তু বাকি সহযোগীদের পুরস্কৃত করলেন এটা সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা বলা যায় না।
তিনি বলেন, তারা চায় জাতীয় পার্টি যদি আগামীতে প্রধান বিরোধীদল হতে পারে তাহলে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা একেবারেই সহজ হয়ে যাবে। আগামী নির্বাচনে যদি জাতীয় পার্টি কে সুযোগ দেয়া হয় তাহলে তারা নির্বাচনে ১০০ আসন নিয়ে বড় একটা অঘটন ঘটিয়ে দেবে। তারা ১০০ আসনে জয়লাভ করবে।
ফারুক হাসান আরো বলেন, এখন পর্যন্ত ইলেকশন যারা পরিচালনা করবে যেই সংস্থাগুলো দায়িত্বে থাকবে সেই সংস্থাগুলো এখনো আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। এবং উপদেষ্টারা নিজেরাই বলে প্রশাসনের ভেতর এখনো ৮০ পার্সেন্ট আওয়ামী লীগের লোক। তাহলে আপনারা যাদের নির্বাচনের দায়িত্ব দেবেন তারা তো আওয়ামী লীগের লোক। ২০১৮ সালের নির্বাচনে যারা ইএনও ছিল তারা এখন ডিসির চেয়ারে এখন এই ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়ে আপনি নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু করার চিন্তা করছেন এটা কোনভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের টিকাপাড়া এলাকায় গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় দলটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হওয়ায় তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান নেতাকর্মীরা।

