মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের জন্য সরকারের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুত। তিনি বলেন, “বাইরে কে কী বলল এ নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।”

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ময়মনসিংহের বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি (২০২৪-২৫) পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন (২০২৫-২৬)’ শীর্ষক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সমুদ্র ও উপকূলে কারেন্ট জাল ব্যবহারের মাধ্যমে মাছের অতিরিক্ত আহরণ ঘটছে, যা দেশের মূল্যবান মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের মুখে ফেলছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় বিধিবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ফরিদা আখতার আরও বলেন, মাছের প্রজনন পরিবেশ ঠিক রাখতে ট্যুরিজম নিয়ন্ত্রণ জরুরি। মুক্ত জলাশয়ে মাছ চাষের নামে যাকে-তাকে জমি ইজারা দেওয়া যাবে না। একসময় দেশের ৬০ শতাংশ মাছ মুক্ত জলাশয়ে পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা কমে ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, বাকি ৬০ শতাংশ মাছ বদ্ধ জলাশয়ে চাষ হচ্ছে।

তিনি বলেন, “উন্মুক্ত জলাশয়ে পানিদূষণ, ভরাট ও অনিয়ন্ত্রিত ট্যুরিজমের কারণে মাছের প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনে প্রথম স্থানে রয়েছে। এই সাফল্য ধরে রাখতে ইলিশ বিষয়ে আরও গভীর গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।”

তিনি হালদা নদীর রুই ও কাতলা মাছকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য গবেষণা বাড়ানোর কথাও বলেন।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। তিনি বলেন, “বিজ্ঞানীদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া গেলে তারা আরও নতুন নতুন মাছের জাত উদ্ভাবনে এগিয়ে আসবেন।”

এ ছাড়া বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ফারাহ শাম্মী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. রফিকুল ইসলাম সরদার এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফও বক্তব্য রাখেন।