ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
তরুণীর কবর থেকে ছড়াচ্ছিল সুগন্ধি,স্বপ্নে দেখলেন জীবিত, অতঃপর কবর খুঁড়ে যা দেখলেন স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির খসড়া ফাঁস করল সিএনএন ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ বাড়াল পাকিস্তান রাফিনিয়াকে ভুল পজিশনে খেলাচ্ছেন আনচেলত্তি, প্রশ্ন তুললেন রোনালদো দেশের প্রধান রুটে চালু হচ্ছে বৈদ্যুতিক ট্রেন- প্রধানমন্ত্রী নামাজের ইমামতি রেখে পালিয়ে যাওয়া বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা গ্রেফতার ইরান আচরণ না বদলালে আবার বোমা হামলা হবে : ট্রাম্প শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি ১৪ জুলাই নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ বলা স্লিপ অব টাং: জামায়াত এমপি

বিএনপির সঙ্গে জাতীয় পার্টির জোট নয়, আসনভিত্তিক সমঝোতা হতে পারে’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩৪৮ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা উভয়েই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। একবার মনোনয়নপত্র জমা দিলে জোট করার সুযোগ আর থাকে না। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় আসনভিত্তিক সমঝোতা হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। যদিও বিএনপির সঙ্গে এ বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রংপুর নগরীর স্কাইভিউ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যেখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী দুর্বল, সেখানে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া যেতে পারে। আবার যেখানে জাতীয় পার্টির ভালো প্রার্থী রয়েছে, সেখানে বিএনপি সমর্থন দিলে এবং প্রার্থীরা জয়ী হলে, উভয় পক্ষ চাইলে ও জাতীয় পার্টি সুবিধাজনক মনে করলে এমন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জিএম কাদের বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভালো নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। জাতীয় পার্টি বৈষম্যের শিকার হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি জানান, দলের তিনজন সংসদ সদস্য প্রার্থী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। জামিনে মুক্তি পেলেও তাদের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে জাতীয় পার্টিই প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং দলীয়ভাবে রেজুলেশন দিয়ে সমর্থন জানিয়েছে। অথচ সেই দলের প্রার্থীদের হত্যা মামলায় জেলে পাঠানো হচ্ছে। তার অভিযোগ, প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই জামিন দেওয়া হচ্ছে না, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, প্রশাসন ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে জুলাইয়ের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ভয়ভীতি দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সময় দিচ্ছে না, বরং অন্য দলের সঙ্গে দিনে দুইবার করে কথা বলছে।
মনোনয়নপত্র প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, এবার মনোনয়নপত্র অত্যন্ত জটিলভাবে তৈরি করা হয়েছে। এতে নতুন প্রার্থীরা ভুল করলে সহজেই অযোগ্য হয়ে পড়তে পারেন। তার আশঙ্কা, বেআইনিভাবে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিকে আইনসঙ্গত দেখাতে এই জটিলতা তৈরি করা হয়েছে।
শেষে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। জাতীয় পার্টি সব সময়ই হয়রানির শিকার হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। তবুও তারা এই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। অধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি তারা জনগণের সামনে তুলে ধরবে। জনগণই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং জনগণই এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণীর কবর থেকে ছড়াচ্ছিল সুগন্ধি,স্বপ্নে দেখলেন জীবিত, অতঃপর কবর খুঁড়ে যা দেখলেন

বিএনপির সঙ্গে জাতীয় পার্টির জোট নয়, আসনভিত্তিক সমঝোতা হতে পারে’

আপডেট সময় ১০:২২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা উভয়েই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। একবার মনোনয়নপত্র জমা দিলে জোট করার সুযোগ আর থাকে না। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় আসনভিত্তিক সমঝোতা হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। যদিও বিএনপির সঙ্গে এ বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রংপুর নগরীর স্কাইভিউ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যেখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী দুর্বল, সেখানে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া যেতে পারে। আবার যেখানে জাতীয় পার্টির ভালো প্রার্থী রয়েছে, সেখানে বিএনপি সমর্থন দিলে এবং প্রার্থীরা জয়ী হলে, উভয় পক্ষ চাইলে ও জাতীয় পার্টি সুবিধাজনক মনে করলে এমন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জিএম কাদের বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভালো নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। জাতীয় পার্টি বৈষম্যের শিকার হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি জানান, দলের তিনজন সংসদ সদস্য প্রার্থী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। জামিনে মুক্তি পেলেও তাদের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে জাতীয় পার্টিই প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং দলীয়ভাবে রেজুলেশন দিয়ে সমর্থন জানিয়েছে। অথচ সেই দলের প্রার্থীদের হত্যা মামলায় জেলে পাঠানো হচ্ছে। তার অভিযোগ, প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই জামিন দেওয়া হচ্ছে না, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, প্রশাসন ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে জুলাইয়ের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ভয়ভীতি দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সময় দিচ্ছে না, বরং অন্য দলের সঙ্গে দিনে দুইবার করে কথা বলছে।
মনোনয়নপত্র প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, এবার মনোনয়নপত্র অত্যন্ত জটিলভাবে তৈরি করা হয়েছে। এতে নতুন প্রার্থীরা ভুল করলে সহজেই অযোগ্য হয়ে পড়তে পারেন। তার আশঙ্কা, বেআইনিভাবে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিকে আইনসঙ্গত দেখাতে এই জটিলতা তৈরি করা হয়েছে।
শেষে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। জাতীয় পার্টি সব সময়ই হয়রানির শিকার হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। তবুও তারা এই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। অধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি তারা জনগণের সামনে তুলে ধরবে। জনগণই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং জনগণই এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।