ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে কুমিল্লার এসপি বললেন–চাপ দিলে নাম প্রকাশ করে দেব মাটির নিচে পুঁতে রাখা ককটেল বিস্ফোরণ, লন্ডভন্ড ঘর প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে শয়নকক্ষে ঘুমাতেন এমপি নজরুল, মরিয়ম ঘুমাতেন বেলকনিতে হোটেলের টয়লেটে চিনি জ্বাল দিয়ে তৈরি হচ্ছিল ‘খাঁটি মধু’, গ্রেপ্তার ৪ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর, অন্যতম আসামি মিজানুর গ্রেপ্তার বৃহস্পতিবার ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে একগুচ্ছ কর্মসূচি প্রাথমিকে নিয়োগ বিতর্ক, শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত সাংবাদিক পরিচয়ে কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে চাঁদা দাবি, বহিষ্কার ছাত্রদলের আহ্বায়ক ৭ মাসে বিএনপি নেতাদের দখলবাজিতে সরকার মারাত্মক ব্যর্থ: গোলাম পরওয়ার বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য হাসনাতের ডাকে ‘গণভিক্ষা’ কর্মসূচি

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে কুমিল্লার এসপি বললেন–চাপ দিলে নাম প্রকাশ করে দেব

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২৯:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লায় চলমান কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে কোনো ধরনের চাপ নেই বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান।

তিনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত তাকে কেউ ফোন করে অভিযান বন্ধ বা কাউকে ছাড় দেওয়ার জন্য চাপ দেননি। কেউ চাপ দিলে সাংবাদিকদের সামনে তার নাম প্রকাশ করে দেওয়া হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘আমার কুমিল্লা’ অ্যাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার এসব কথা বলেন।

 

নাগরিক সেবা সহজ করা, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবায় জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ‘আমার কুমিল্লা’ অ্যাপটি চালু করেছে।

 

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে পুলিশের পক্ষ থেকে কাউকে হয়রানি এবং আটকের পর পুলিশের কোনো কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন এক সাংবাদিক।

 

জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, কোনো ধরনের চাপ নেই। আজ পর্যন্ত আমাকে কেউ ফোন দেয়নি। সবাই সাধুবাদ জানিয়েছে। কেউ চাপ দিলে আমি আপনাদের সামনে নাম প্রকাশ করে দেব।

 

পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, যদি কেউ নিয়ে থাকে, কোনো প্রমাণ একটা দিতে পারেন, ওই পুলিশ অফিসারকে তাৎক্ষণিক সাসপেন্ড করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে এক ফোঁটাও ছাড় নেই।

 

পুলিশ সুপার বলেন, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়, এমন শিক্ষার্থী ও কিশোরদের অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সন্ধ্যার পর সন্তানদের বাইরে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের ব্যাপারে আমরা ছাড় দেব না। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই।

 

অপ্রতিম হত্যার পর কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা

 

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

 

গত ১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ীর গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশ জানিয়েছে, ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

অপ্রতিম হত্যা মামলার পর কুমিল্লার কিশোর গ্যাংয়ের একটি তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

 

তিনি বলেন, অপ্রতিম হত্যা মামলার পরে আমরা টোটাল কিশোর গ্যাংয়ের একটি তালিকা করার কাজ করছি। তালিকা করার পর আমরা গত ২৩ সেপ্টেম্বর অভিযান করেছি পুরো কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায়।

 

তিন দফা অভিযানে আটক এক হাজার ৩৫৬

 

পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ১৮ থানায় দ্বিতীয় দফা অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪৬ জন কিশোরকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। অপর ১০৮ জনের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত অপরাধ, মাদক, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

সর্বশেষ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতেও জেলার ১৮টি থানায় অভিযান চালানো হয়েছে। রাত শেষে ৪৭৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার। তাদের মধ্যে ২৭৭ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

 

তিন দফার অভিযানে মোট ১ হাজার ৩৫৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৭৪ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

 

পুলিশ সুপার বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের যারা অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছে, তাদেরকেও গ্রেপ্তার আছে এবং তাদেরকে আমরা মামলা দিয়ে চালান দিচ্ছি।

 

মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া কিশোরদের বিষয়েও নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে কুমিল্লার এসপি বললেন–চাপ দিলে নাম প্রকাশ করে দেব

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে কুমিল্লার এসপি বললেন–চাপ দিলে নাম প্রকাশ করে দেব

আপডেট সময় ১২:২৯:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লায় চলমান কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে কোনো ধরনের চাপ নেই বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান।

তিনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত তাকে কেউ ফোন করে অভিযান বন্ধ বা কাউকে ছাড় দেওয়ার জন্য চাপ দেননি। কেউ চাপ দিলে সাংবাদিকদের সামনে তার নাম প্রকাশ করে দেওয়া হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘আমার কুমিল্লা’ অ্যাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার এসব কথা বলেন।

 

নাগরিক সেবা সহজ করা, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবায় জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ‘আমার কুমিল্লা’ অ্যাপটি চালু করেছে।

 

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে পুলিশের পক্ষ থেকে কাউকে হয়রানি এবং আটকের পর পুলিশের কোনো কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন এক সাংবাদিক।

 

জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, কোনো ধরনের চাপ নেই। আজ পর্যন্ত আমাকে কেউ ফোন দেয়নি। সবাই সাধুবাদ জানিয়েছে। কেউ চাপ দিলে আমি আপনাদের সামনে নাম প্রকাশ করে দেব।

 

পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, যদি কেউ নিয়ে থাকে, কোনো প্রমাণ একটা দিতে পারেন, ওই পুলিশ অফিসারকে তাৎক্ষণিক সাসপেন্ড করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে এক ফোঁটাও ছাড় নেই।

 

পুলিশ সুপার বলেন, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়, এমন শিক্ষার্থী ও কিশোরদের অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সন্ধ্যার পর সন্তানদের বাইরে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের ব্যাপারে আমরা ছাড় দেব না। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই।

 

অপ্রতিম হত্যার পর কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা

 

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

 

গত ১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ীর গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশ জানিয়েছে, ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

অপ্রতিম হত্যা মামলার পর কুমিল্লার কিশোর গ্যাংয়ের একটি তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

 

তিনি বলেন, অপ্রতিম হত্যা মামলার পরে আমরা টোটাল কিশোর গ্যাংয়ের একটি তালিকা করার কাজ করছি। তালিকা করার পর আমরা গত ২৩ সেপ্টেম্বর অভিযান করেছি পুরো কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায়।

 

তিন দফা অভিযানে আটক এক হাজার ৩৫৬

 

পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ১৮ থানায় দ্বিতীয় দফা অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪৬ জন কিশোরকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। অপর ১০৮ জনের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত অপরাধ, মাদক, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

সর্বশেষ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতেও জেলার ১৮টি থানায় অভিযান চালানো হয়েছে। রাত শেষে ৪৭৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার। তাদের মধ্যে ২৭৭ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

 

তিন দফার অভিযানে মোট ১ হাজার ৩৫৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৭৪ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

 

পুলিশ সুপার বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের যারা অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছে, তাদেরকেও গ্রেপ্তার আছে এবং তাদেরকে আমরা মামলা দিয়ে চালান দিচ্ছি।

 

মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া কিশোরদের বিষয়েও নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।