যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে ইরানি একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সেখানে ‘সর্বশেষ প্রস্তাব ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মতামত’ আলোচনা করা হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। আজই দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে ইরানের একটি প্রস্তাব তুলে দেয়। এতে অর্থনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তবে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রস্তাবটিতে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড় এবং ইরানি তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বেশ কিছু শর্ত ছিল। এর বিনিময়ে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর কথা ছিল।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাতে জানা গেছে, আলোচনায় থাকা একটি খসড়া অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টি জলপথটির অপর প্রান্তে ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনায় থাকা একটি পৃথক চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা হবে। এতে কোনো ধরনের টোল থাকবে না বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমান প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেনি বলে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা। তাদের মতে, ট্রাম্পের মন্তব্য আলোচনায় চাপ তৈরির কৌশলও হতে পারে।
তৃতীয় এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও কিছু ছাড় চাইছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের ইরানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।
গত জুনে দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনা করার কথা ছিল।
সূত্র : আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট 


















